ফ্যাশনেবল হওয়া দোষের না!

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০১৩, ১৫:৫১
ফ্যাশনকে অনেকেই ভালো চোখে দেখতে চান না। কারণ, অনেকের কাছেই ফ্যাশন মানে পাশ্চাত্যের স্টাইল। কিন্তু ফ্যাশন যে সত্যিই ভালো এবং দরকারি, তা কেবল তরুণরাই ভালো জানে। আর সে জন্যই ফ্যাশনেবল হওয়া নিয়ে তরুণদের এই আড্ডা। আড্ডায় আছে পাঁচ বন্ধু রাসেল, সৈকত, জাবেদ ও রাইয়ান। রাসেল :তোরা সব সময়ই আমাকে নিয়ে ঠাট্টা-মশকরা করিস। তোদের আজগুবি ধারণা—আমার পছন্দ ভালো না। তোরা যা-ই বলিস, আমি জোর দিয়ে বলতে পারি—আমি যথেষ্ট ফ্যাশনেবল। অন্তত এই আত্মবিশ্বাসটা আমার আছে। সৈকত :এটা ঠিক, তুই সব সময় বেশ রংচঙা কাপড়চোপড় পরিস। তবে তোর সদয় অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, রংচঙা পোশাক পরলেই ফ্যাশনেবল হওয়া যায় না। যদি তা-ই হতো, তা হলে ঝালমুড়িওয়ালাদেরকে সবচেয়ে ফ্যাশনেবল মনে করা হতো। কারণ, তাদের চেয়ে রংচঙা পোশাক আর কেউ পরে না। রাসেল :তুই মনে হয়, আমাকে অপমান করলি সৈকত। এই যে রংচঙা পোশাককে তোরা বাঁকা দৃষ্টিতে দেখিস, এটা কেন করিস জানি না। তবে এটা খুবই ছেলেমানুষি। এই ছেলেমানুষি ত্যাগ করা উচিত। জাবেদ :তা না হয় ত্যাগ করলাম। কিন্তু আমি মনে করি, এত রংচঙা পোশাক হয়তো শিশুরা পরে, নয়তো পরে মেয়েরা। আমরা কিন্তু এর কোনো দলেই পড়ি না। অবশ্য তোর যেহেতু জিনিসটা পছন্দ, অতএব পরতেই পারিস। তবে আমি বলব, তোর বোধহয় ফ্যাশনটা নিয়ে আরেকটু ভাবা উচিত। রাইয়ান :তোর কথায় একটা বিষয় বেশ স্পষ্ট হলো। সেটা হচ্ছে—মেয়েদের জন্য রংচঙা পোশাক একদম পারফেক্ট। আমি তোর কথার সঙ্গে একমত বলেই সব সময় রংচঙা পোশাক পরি। আর চেষ্টা করি একটু দামি পোশাক পরতে। রাসেল :চারপাশের মানুষের অভাবের শেষ নেই, আর উনি কিনা দামি পোশাক পরার চেষ্টা করছেন। এটা ঠিক না। সবার সঙ্গে তাল মিলিয়ে পোশাকআশাক পরা উচিত। এটা আমার ব্যক্তিগত মতামত। জাবেদ :অভাবী মানুষের জন্যে আমাদের অবশ্যই ভালো কিছু করতে হবে। তাই বলে তারা অভাবে আছে দেখে আমরাও সে রকম হয়ে যাব, আসলে সেটা সম্ভব না। মনে কর, কেউ কেউ অনাহারে থাকে। তাই বলে আমরাও কি অনাহারে থাকি? তবে আমাদের চেষ্টা করা উচিত তাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা। আর নিজেরা একটু ফ্যাশন সচেতন হওয়া দোষের কিছু নয়। তবে কোনো অপচয় করা ঠিক নয়। রাসেল :আমি খেয়াল করেছি, আমরা ফ্যাশনকে যতই নেগেটিভ দৃষ্টিতে দেখি না কেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটু ফ্যাশনেবল না হলে সম্মান থাকে না। আবার বিপদেও পড়তে হয়। ভাইভা বোর্ডে কেউ যদি টিশার্ট পরে চলে যায়, তার কিন্তু কিছুতেই চাকরি হবে না। অতএব ফ্যাশনেবল হওয়ার দরকার অছে। সৈকত :তবু আমি বলব, এমন কোনো ফ্যাশন গ্রহণ করা উচিত নয়, যা অন্যদের হুবহু নকল। রাইয়ান :তার মানে ফ্যাশন নকল না হয়ে আসল হলে তার পক্ষে তুই আছিস, তাই তো? অর্থাত্ আমরা সবাই ফ্যাশনের পক্ষে, ফ্যাশনেবল হওয়ার পক্ষে; তবে সেটা ভালো ফ্যাশন; কারও নকল নয়, কোনো প্রকার উগ্র ফ্যাশন নয়।