জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে কমছে মাছের উত্পাদন। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গত কয়েক বছর ধরে এ অঞ্চলে অনাবৃষ্টি, খরা ও তাপমাত্রার প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় পুকুরগুলোতে পানি শূন্যতা দেখা দিয়েছে। পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে নিচে নেমে যাওয়ায় সেচের জন্য বসানো গভীর নলকূপ থেকে পানি কম ওঠে। ফলে ফসলী জমিতে সেচের পাশাপাশি মাছ চাষকৃত পুকুরে পানি দেয়া সম্ভব হয় না। মাছ চাষিরা জানান, পুকুরে কম পানি থাকার কারণে প্রচণ্ড তাপমাত্রায় পানি গরম হয়ে যায়। এতে পুকুরের মাছ স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে না পারায় আকারে খুব একটা বড় হচ্ছে না। মাছের আকার বাড়ানোর জন্য অতিরিক্ত খাদ্য দিতে হয়। গত ১২ বছর ধরে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষি উপজেলার কাকনহাটের মুস্তাফিজুর রহমান জানান, পর পর তিন বছর মাছ চাষ করে লাভের মুখ দেখলেও পরের দুই বছর লোকসানের মুখে পড়েছেন। এখন শুধুমাত্র একটি পুকুরে মাছের পোনা উত্পাদন করছেন। ধনঞ্জয়পুর গ্রামের আব্দুর রহিম বলেন, ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ১২টি খাস পুকুর ৩ বছরের জন্য লিজ নিয়ে মাছ চাষ করে লাভের মুখ দেখায় তিনি ব্যক্তি মালিকানাধীন আরও ৩টি পুকুর ৫ বছরের জন্য লিজ গ্রহণ করেন। কিন্তু ব্যক্তি মালিকানাধীন পুকুরের লিজকৃত মূল্য বেশি ও উত্পাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় গত ২ বছর ধরে মাছ চাষ করে তেমন সাফল্য পাচ্ছেন না।
