অস্ত্র বাণিজ্য সংক্রান্ত জাতিসংঘের প্রস্তাব পাস হয়নি

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০১৩, ২০:৪৩
আন্তর্জাতিক অস্ত্রবাণিজ্য সংক্রান্ত জাতিসংঘের প্রস্তাবিত একটি খসড়া চুক্তির বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে ইরান, উত্তর কোরিয়া ও সিরিয়া। হাজার হাজার কোটি ডলারের এই চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য জাতিসংঘের সকল সদস্য দেশের সম্মতির প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তাদের বিরোধিতার কারণে এটি আর পাস হলো না। প্রথমে ইরান, পরে সিরিয়া ও শেষে উত্তর কোরিয়া এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। বৃহস্পতিবার এ নিয়ে অনুষ্ঠিত সভার চেয়ারপার্সন ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রদূত পিটার উলকট। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে জাতিসংঘের সদস্য দেশসমূহ কোন ঐকমত্যে পৌঁছাতে না পারায় এটি আর আলোর মুখ দেখলো না। তিনটি দেশ যথাক্রমে ইরান, সিরিয়া ও উত্তর কোরিয়া এর বিরোধিতা করে। আল জাজিরার সাংবাদিক জেমস বেস নিউইয়র্ক থেকে বলেন, রাষ্ট্রদূত উলকট এ নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি করবেন এবং সম্ভবত এটি পরবর্তী সময়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে পাঠানো হবে। যেখানে সদস্য দেশসমূহ সংখ্যাগরিষ্ঠতা আদায়ের জন্য ভোটাভুটি করবেন। জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ খাজি বলেন, খসড়া এই চুক্তির মধ্যে বেশকিছু ফাঁক-ফোকর রয়েছে। এখানে ব্যাপকভাবে বৈষম্য ও রাজনীতিকরণ হয়েছে। তিনি বলেন, চুিক্ততে যেসব দেশ আগ্রাসন চালায় সে সব দেশে অস্ত্রবাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিকে উপেক্ষা করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ ধরনের আগ্রাসনে আমরা চোখ বন্ধ করে থাকতে পারি না। কেননা আগ্রাসী দেশে অস্ত্র ব্যবসা হলে হাজার হাজার মানুষের প্রাণ যাবে । আর এর জন্য দায়ভার কে নেবে? সাংবাদিক বেস আরো বলেন, খসড়া এই চুক্তিতে অনেকটা ফাঁক রয়ে গেছে। বিশেষ করে এক ধরনের হেলিকপ্টার, হ্যান্ড গ্রেনেড ও ড্রোনের ব্যাপারে এখানে কিছু বলা হয়নি। গত সপ্তাহ থেকে জাতিসংঘের সদস্য দেশসমূহ এই আন্তঃসীমান্ত প্রচলিত অস্ত্র বিক্রয়ের বিষয়ে বৈঠক করে আসছে। কিন্তু ওই তিনটি দেশের বিপক্ষে দাঁড়ানোয় তা আর বাস্তবায়ন হলো না। ইউরোপীয় এক কূটনীতিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচির বিরুদ্ধে বর্তমানে জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ইরান চাচ্ছে তাদের অস্ত্র আমদানি-রপ্তানিতে যেন বাধা-নিষেধ দূর করা হয়। কূটনীতিক আরো বলেন, সিরিয়ায় দুই বছর ধরে গৃহযুদ্ধ চলছে। তারা চাচ্ছে রাশিয়া এবং ইরান থেকে যেন তাদের কাছে অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত থাকে। তারা সবাই একটা চাপের মুখে আছে যাতে তারা এ থেকে দূরত্বে থাকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র লবিং গ্রুপ ন্যাশনাল রাইফেল অ্যাসোসিয়েশন (এনআরএ) এই চুক্তির বিরোধিতা করে জানায়, এটি আমাদের অভ্যন্তরীণ অস্ত্র মালিকানার অধিকারকে হেয় করেছে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রায় সত্তর বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র ব্যবসা চলে। চুক্তির খসড়ায় বলা আছে, এতে স্বাক্ষরকারী দেশসমূহ আন্তর্জাতিক অস্ত্র ব্যবসা এবং ব্যবসায়ীদের বিষয়ে নীতিমালা তৈরি করতে বাধ্য। এতে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এমন দেশগুলোতে অস্ত্র বিক্রি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে এমন ধারা রাখা হয়েছে।