‘নাসিরকে আমি স্যালুট করি’ —মুশফিকুর রহিম

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০১৩, ২১:৪০
এই জয়ের অর্থ কী আপনার কাছে? এটা আমাদের জন্য অনেক বড় একটা জয়। এখন আমরা বড় দলগুলোর বিপক্ষে নিয়মিত জিতছি। তবে দেশের বাইরে সেটা খুব ঘটছে না। শ্রীলঙ্কাকে তাদের মাটিতে হারানো বড় একটা ব্যাপার। সিরিজ ড্র করাটাও খুব বড় প্রাপ্তি। এই ম্যাচের প্রায় পুরো কৃতিত্ব আমি দেব নাসির হোসেনকে। সে আবার প্রমাণ করেছে, সে বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যত। বৃষ্টির পর ব্যাটিংয়ের সময় আপনারা কী আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন? বৃষ্টি শুরুর আগে আমরা ক্রিকেটীয় শট খেলেই এগোতে চাচ্ছিলাম। লক্ষ্য বড় হলেও প্রথমে আমরা দেখেশুনে চলছিলাম। পরে বৃষ্টির পরও প্রথম ৩০-৪০ রান আমরা বেশ একটা জুটি করে এগোতে চেয়েছি। কিন্তু সমস্যা হল, আমরা বড় দলের বিপক্ষে এরকম টাইট ম্যাচ খুব একটা খেলিনি আগে। ফলে কিছুটা আতঙ্ক তো তৈরি হয়েছিলই। সেই আতঙ্ক থেকে অনেকেই আমরা কিছু অপ্রয়োজনীয় ঝুকিপূর্ণ শট খেলেছি। তারপরও আমি এটাকে খুবই হিসাবি-ঝুকিপূর্ণ একটা রান তাড়া করার ম্যাচ বলবো। কারণ আমরা একদিকে ঝুকি নিয়েছি, উইকেট হারিয়েছি; রানও এসেছে। আর পুরো ব্যাপারটাকে একজন অন্তত নিয়ন্ত্রণ করে ফেলতে পেরেছে। সেই ‘একজন’ নিশ্চয়ই নাসির? নাসিরের সম্পর্কে একটু বলুন... নাসিরকে আমি স্রেফ স্যালুট করি। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের সব ব্যাটিং রেকর্ড একদিন ও ভেঙে দেবে। ও এই ইস্পাতের মতো স্নায়ুটা যদি ধরে রাখে; তাহলে ওকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আটকানোই মুশকিল হবে। এমনিতেই সে অসাধারণ ক্রিকেটার। আর দলের যখন প্রয়োজন হয়, ও সবচেয়ে বেশি জ্বলে ওঠে। দলের যখন যেভাবে দরকার, সেভাবে রান করতে পারে। এটাই ওর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য। সিরিজে সাকিবকে কী খুব মিস করলেন? সাকিবকে তো মিস করবোই। আজ যদি সাকিব এখানে থাকত; এই সিরিজটা হয়তো আমরা জিততেও পারতাম, ও ম্যান অব দ্য সিরিজ হতো! এরকম সব জয়ে সে আগে বারবার এটা করে দেখিয়েছে। সেই খেলোয়াড় দলে ছিল না। কিন্তু বিস্ময়করভাবে আমাদের বাকি খেলোয়াড়রা এই সময়ে সামনে এগিয়ে এসেছে, নিজেদের সেরা পারফরমটা করেছে। এখন দলের সবাই এবং প্রতিপক্ষ দলগুলোও বিশ্বাস করবে; তারকাদের ছাড়াও বাংলাদেশ জিততে পারে। রাজ্জাক ৫ উইকেট নিয়ে তো ভালো একটা ভূমিকা রেখেছেন। তার ২০০ উইকেট শিকারও এই দিনে... বাংলাদেশের প্রথম ২০০ উইকেট শিকার করায় রাজ্জাক ভাইকে অভিনন্দন জানাই। উনি আমাদের দেশের ক্রিকেটের জন্য অনেক কিছু করেছেন। খুবই শক্ত ধাচের লড়াকু একজন ক্রিকেটার। স্পিনারদের মধ্যে বিরল বৈশিষ্ট্য হিসেবে উনি একই সঙ্গে নতুন বলে এবং ইনিংসের শেষ দিকে এসে একইরকম ভালো বল করতে পারেন। মজার ব্যাপার হল, সব বোলারের কিছু পছন্দ অপছন্দ থাকে। তারা বলে, এই সময় বল করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না। রাজ্জাক ভাই আমার দেখা একমাত্র বোলার, যার কখনো এরকম কোনো দাবি নেই; সব পরিস্থিতিতে হাসিমুখে বল করতে রাজি উনি। নিয়মিত বোলাররা ভালো করতে না পারার পরও অনিয়মিত বোলারদের আক্রমণে আনলেন না কেন? আমি পার্টটাইম বোলার ব্যবহার করতে চেয়েছিলাম। চেয়েছিলাম মোমিনুল বা নাসিরকে দিয়ে ৩৫ ওভারের দিকে এসে কিছু বল করাবো। কিন্তু ৩৫ ওভার পর্যন্ত ওরা ভালো জুটি করে খেলছিল। ওরকম সেট ব্যাটিংয়ের বিপক্ষে ওয়ানডেতে এখনকার এই ফিল্ডিং রেস্ট্রিকশনে পার্টটাইম বোলার ব্যবহার আরও ঝুকিপূর্ণ হতে পারত।