ভয়াবহ হামলার শিকার হয়ে কোমায় চলে যাওয়ার পরে গত বৃহস্পতিবার চেতনা ফিরে পেয়েছেন জেসি রাইডার। নিউজিল্যান্ড প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী হিথ মিলস এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন। পাশাপাশি রাইডারের উপর হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেফতার করেছে ক্রাইস্টচার্চ পুলিশ।
গত বুধবার মাঝরাতে ক্রাইস্টচার্চের উপকূলবর্তী মেরিভেইলের আইকম্যান’স বারের সামনের রাস্তায় কয়েকজন লোকের সাথে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে হামলার শিকার হন রাইডার। প্রথমদফা হামলার মিনিট খানেক পরেই আবারো তার উপর হামলা করে ঐ দলটি। এর ফলে মাথা এবং ফুসফুসে গুরুতর আঘাত পান তিনি। পরে হাসপাতালে নেয়ার পরে মস্তিষ্কে বড় ধরনের ক্ষতির ঝুঁকি এড়াতে ঔষধ প্রয়োগে তার চেতনা লোপ করেন কর্তব্যরত চিকিত্সকরা। তবে রাইডারের শরীর চিকিত্সার প্রতি সাড়া দিতে থাকলে একদিন পরেই তাকে চেতনানাশক ঔষধের মাত্রা কমিয়ে দিতে থাকেন তারা। এরফলে গত বৃহস্পতিবার আংশিক চেতনা ফিরে পান রাইডার। বৃদ্ধাঙ্গুলি উঁচু করে হাসপাতালের একজন নিউরোসার্জনকে চেতনা ফিরে পাওয়ার সঙ্কেত দেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। পরে তিনি তার পরিবারের সদস্য এবং ম্যানেজারের সাথে ইশারায় কথা বলেন। তবে জ্ঞান ফিরে পেলেও এখনো পুরোপুরি বিপদমুক্ত নন রাইডার। তাই এখনি তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র থেকে বের করে আনার কোন পরিকল্পনা নেই চিকিত্সকদের। রাইডারের পরিবারের পক্ষ থেকে মিলস এক বিবৃতিতে বলেন, ‘জেসির (রাইডার) অবস্থা স্থিতিশীল। সে এখনো নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রেই আছে। সে জবাব দিতে পারছে এবং পরিবারের সদস্য ও চিকিত্সকদের কথায় সে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। তবে তাকে কৃত্রিম (ঔষধ প্রবর্তিত) কোমাতেই থাকতে হচ্ছে এবং শ্বাসপ্রশ্বাসের জন্য তাকে বাইরের সাহায্য নিতে হচ্ছে। কারণ হামলায় তার ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর মাথায় ইনজুরির ব্যাপারে এখনি নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। সে কোমা থেকে পুরোপুরি বের হলে আমরা সবকিছু জানতে পারবো।’
এদিকে রাইডারের উপরে হামলার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের ব্যাপারেও অনেকটা অগ্রগতি দেখাতে পেরেছে ক্রাইস্টচার্চ পুলিশ। ২০ এবং ৩৭ বছর বয়সী দুইজনকে গ্রেফতার করেছে তারা। তাদেরকে আগামী চার এপ্রিল ক্রাইস্টচার্চ জেলা কোর্টে হাজির করা হবে। ক্রাইস্টচার্চ পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সিনিয়র সার্জেন্ট ব্রায়ান আর্চার জানিয়েছেন মনে করছেন হামলার ব্যাপারে শুধুমাত্র এই দুজনই জড়িত। তিনি বলেন,‘বেশ কয়েকজন লোক তখন হাতাহাতিটা থামাতে চেয়েছিল এবং সেটা দেখেই আমরা ধারণা করেছিলাম বেশি সংখ্যক লোক ঐ হামলায় অংশ নিয়েছিল। তবে এখন মনে হচ্ছে শুধু এই দুজনই (গ্রেফতারকৃত দুজন) হামলার সঙ্গে জড়িত।’
দারুণ প্রতিভাবান বলে স্বীকৃত রাইডার ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই মাঠের চাইতে মাঠের বাইরের ব্যাপার নিয়েই বার বার খবরের কাগজের শিরোনাম হয়ে আসছেন। শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাকে বেশ কয়েকবারই দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গত বছর ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে জাতীয় দল ছাড়ার আগে ব্ল্যাকক্যাপসদের হয়ে ১৮টি টেস্ট খেলা এই ব্যাটসম্যান এখনো পর্যন্ত যতগুলো ঝামেলায় জড়িয়েছেন তার বেশীরভাগের পেছনেই ছিল অ্যালকোহলের ভূমিকা। তাই অনেকেই শুরুতে ভেবে নিয়েছিলেন এই বারের ঘটনার পেছনেও থাকতে পারে সেরকম কিছু। তবে সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে আর্চার, মিলস এবং রাইডারের ম্যানেজার অ্যারন লি এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, এ ঘটনায় অ্যালকোহলের ইন্ধন আছে, এমন কিছু এখনো পর্যন্ত খুঁজে পাননি তারা।
