নদীর তীর ঘেঁষে অবৈধ বালু উত্তোলন

হুমকির মুখে ফুলবাড়ির শহর রক্ষা বাঁধ

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০১৩, ২২:০৫
দিনাজপুরের ফুলবাড়ি উপজেলার ছোট যমুনা নদীর পশ্চিম তীর রক্ষা বাঁধ ঘেঁষে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে শহর রক্ষাকারী বাঁধটি। পৌর শহর এলাকার বাঁধ ঘেঁষে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই অপতত্পরতা বন্ধে কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। ফলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমেই বাঁধটি ভেঙ্গে পড়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীর পশ্চিম তীরে শহর রক্ষা বাঁধ ঘেঁষে কয়েকজন শ্রমিক বালু তুলছেন। সোলেমান ও জয়নুল নামের দুই শ্রমিক জানান, নিজের জন্যে বালু তুলি না, দৈনিক হাজিরার ভিত্তিতে নদী থেকে বালু তুলি। মজদার নামের এক বালু ব্যবসায়ীর নির্দেশে এই বালু তোলা হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুধু মজদারই নয়, এ কাজের সঙ্গে নজমুল ও বাবলু নামের স্থানীয় আরও দুইজন জড়িত। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বাঁধের গোড়া থেকে বালু তোলায় অল্পদিনেই তীর সংরক্ষণে ব্যবহূত সিমেন্টের তৈরি ব্লকগুলো ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। বালু উত্তোলনকারী মজদার জানান, বর্ষা মৌসুমে নদীতে পানি ভরে যায় বলে এ সময়টায় প্রতিবছর বালুর দাম বাড়ে। বাঁধের পশ্চিমধারে সেতুর ধার থেকে মসজিদ পর্যন্ত চারটি স্থানে পৃথকভাবে বালুর স্তূপ করে মজুদ রাখা হচ্ছে। আপত্কালীন সময়ে বালু পাওয়া যায় না। অনেকে বালুর জন্য নির্মাণ কাজও করতে পারে না। তাই মানুষের উপকারের জন্যই আগাম বালু মজুদ করছেন। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামাল মোহাম্মদ রাশেদ জানান, বিষয়টি তার জানা নেই, কেউ অভিযোগও করেনি। সেতুর নীচে কিংবা বাঁধের ধারে সাধারণত বালুমহলের ইজারা দেয়া হয় না। ইজারার স্থান ছাড়া অন্য কোন স্থান থেকে বালু তোলা আইনত অপরাধ। শিগগিরই সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।