তিন মরমি কবির গানে মুখরিত সুনামগঞ্জ

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০১৩, ২২:২২
তিন মরমি কবি হাছন রাজা, রাধারমন, শাহ আবদুল করিম স্মরণে সুনামগঞ্জে শুরু হয়েছে তিনদিনব্যাপী লোক উত্সব। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টায় শহরের জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সংসদ সদস্য মতিউর রহমান লোক উত্সবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এ সময় সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার এনামুল কবির ইমন, জেলা প্রশাসক ইয়ামিন চৌধুরী, জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আকমল হোসেন উপস্থিত ছিলেন। প্রথম দিন থেকেই লোক উত্সবে ছিল মানুষের উপচেপড়া ভিড়। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শত শত মানুষ এসেছেন তিন মরমি কবির গান শুনতে। সংস্কৃতিকর্মী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তিন মরমি কবির কাছে আমাদের সংস্কৃতির শিকড়। তাদের তিনজনকে নিয়ে একসাথে লোক উত্সবের আয়োজন অত্যন্ত প্রশংসনীয়। কণ্ঠশিল্পী আতাব বলেন, সুনামগঞ্জ জোছনার শহর হিসাবে পরিচিত। উত্সব উপলক্ষে তিন মরমি কবির গানে ভাসছে জোছনার শহর। সংস্কৃতি কর্মী মাইদুল রাসেল বলেন, আমরা নতুন প্রজন্ম এই লোক উত্সবে এসে তাদের সম্পর্কে অনেক না জানা বিষয় জানতে পারছি। এই মরমি কবিরা আমাদের দেশ, মাটি ও মানুষের সাথে মিশে আছেন। এই উত্সবের মাধ্যমে তাদের গানকে আমাদের সব জায়গায় ছড়িয়ে দিতে হবে। এদিকে লোক উত্সবে তাদের উপেক্ষা করা হয়েছে বলে সংস্কৃতিকর্মী ও গবেষকরা অভিযোগ করেছেন। সুনামগঞ্জের রাধারমণ গবেষক ও রাধারমণ জীবন দর্শন নিয়ে প্রকাশিত ‘অন্তরে তুষের অনল’ গ্রন্থের অন্যতম সম্পাদক কবি ইকবাল কাগজী লোক উত্সবের বিষয়ে বলেন, কারা মরমি কবিদের নিয়ে এই উত্সব করছে, আমি কিছু জানি না। আমাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। উদ্বোধনের প্রথম দিন রাধারমণের ওপর আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন গবেষক সুবাস উদ্দিন। পরে মধ্যরাত পর্যন্ত রাধারমণের রচিত গান পরিবেশন করেন শিল্পীরা। এছাড়া ধামাইল নৃত্য পরিবেশন করে নৃত্যশিল্পীরা। লোক উত্সবের দ্বিতীয় দিন গতকাল শুক্রবার হাছন রাজা, তৃতীয় দিন শনিবার বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিম স্মরণে আলোচনা সভা, জীবনী পাঠ ও তাদের রচিত গান পরিবেশন হবে। এবারের লোক উত্সবের পৃষ্ঠপোষকতা করেছে বেসরকারি মোবাইল ফোন কোম্পানি গ্রামীণফোন। সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী জানান, গত কয়েক বছর ধরে আমরা তিন মরমি কবির স্মরণে লোক উত্সব করে আসছি। এবার বৃহত্ পরিসরে করা হয়েছে। আমাদের এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।