তিস্তা ব্রহ্মপুত্র ও যমুনায় অস্বাভাবিক পানি হ্রাস

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০১৩, ২০:৪৪
চৈত্র মাসের মাঝামাঝি এসে ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, তিস্তা, করতোয়া ও ঘাঘটসহ গাইবান্ধার বিভিন্ন নদ-নদী পানিতে অস্বাভাবিকভাবে হারে হ্রাস পেয়েছে। ফলে এসব নদীতে নৌ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া বোরো মৌসুমে নদীনির্ভর সেচ ব্যবস্থায় বিপর্যয় দেখা দেয়ায় কৃষকও পড়েছে চরম বিপাকে। কিছুদিন আগেও বৈশাখ মাস পর্যন্ত নদীগুলোতে পানি থাকলেও এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। এবছর ফাল্গুনের শুরু থেকেই অস্বাভাবিক হারে পানি কমতে শুরু করেছে। এখন নদীগুলো মূলত: শীর্ণকায় নালায় পরিণত হয়েছে এবং এর অধিকাংশ এলাকায় বালুর চর জেগে উঠেছে। তিস্তার বুক দিয়ে এখন হেঁটে যাওয়া যায়। অপরদিকে বিশাল ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার বুকে ছোট-বড় অসংখ্য চর জেগে ওঠায় প্রচুর ছোট ছোট শাখা নদীর সৃষ্টি হয়েছে। নাব্যতা সংকটের কারণে এখন নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ট্রলার কিম্বা নৌকা— কোনো নৌযানই স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছে না। বর্ষাকালে নদীর নাব্যতা স্বাভাবিক থাকার সময় গাইবান্ধার বালাসীঘাট থেকে কুড়িগ্রামের রৌমারী, রাজীবপুর, কর্তিমারী, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ, বাহাদুরাবাদ ঘাট, ঘুটাইল, ইসলামপুর এমনকি ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জেও ট্রলার চলাচল করে। এখন নাব্যতা সংকটের কারণে গাইবান্ধার অভ্যন্তরীণ অধিকাংশ রুটেই নৌ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফলে ঘুরে ঘুরে দীর্ঘসময় ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় নৌযানগুলোকে গন্তব্যে পৌঁছতে হচ্ছে। ফলে দূরবর্তী এলাকায় যাতায়াত কঠিন হয়ে পড়েছে। এক পর্যায়ে নৌরুটগুলো সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশংকা করা হচ্ছে।গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর, দহবন্দ, বেলকা, হরিপুর, কাপাসিয়া ও চন্ডিপুরসহ ৬টি ইউনিয়নের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তিস্ত নদী এখন শীর্ণকায় নালার সাদৃশ্য শাখা প্রশাখায় বিভক্ত হয়ে পড়েছে। হাজার হাজার একর জুড়ে শুধু ধু ধু বালুচর। যে নদীর বুকে নৌকায় চড়ে মানুষকে এপাড় থেকে ওপাড়ে যাতায়াত করতে হতো- এখন সেই নদীতে মানুষকে পায়ে হেঁটে বিশাল চর অতিক্রম করে গন্তব্য স্থলে পৌঁছতে হয়। এ অবস্থা শুধু তিস্তা নদীর নয়- ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীতেও একই অবস্থা। ইতিপূর্বে বাহাদুরাবাদ-বালাসীঘাট নৌরুটে যাত্রীবাহী ফেরী পারাপার বন্ধ হয়ে গেছে। নদী তীরবর্তী হাজার হাজার হেক্টর জমি সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।