প্রস্তাবিত দর্শনা-মেহেরপুর-পোড়াদহ রেল প্রকল্প ৩৪ বছর ফাইলবন্দি

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০১৩, ২০:৪৫
মেহেরপুরের সাথে যোগাযোগের প্রস্তাবিত দর্শনা-মেহেরপুর-পোড়াদহ রেলপথ প্রকল্প দীর্ঘ ৩৪ বছর ধরে ফাইলবন্দি। ২০১১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর দিবসে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় কাজ শুরু হয়। কাজের মন্থরগতি দেখে অনেকে মন্তব্য করছেন, আবারো কি ফাইলবন্দি হয়ে যাবে। মেহেরপুর জেলা শহরের সাথে রেল যোগাযোগের কোন ব্যবস্থা নেই। নৌপথও বন্ধ হয়ে গেছে। মেহেরপুরের সাথে রেল যোগাযোগের প্রথম প্রস্তাবনা আসে বৃটিশ আমলে। এ সময় পোড়াদহ -মেহেরপুর-করিমপুর রেলপথ স্থাপনের পরিকল্পনা ছিল। কিছুটা পরিবর্তন করে চুয়াড়াঙ্গা-মেহেরপুর-দৌলতপুর-রায়টা- ভেড়ামারা পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরবর্তীতে এটি আর কার্যকর হয়নি । দেশ স্বাধীনের পর আবার প্রস্তাবিত রেলপথ নিয়ে কথাবার্তা শুরু হয়। ১৯৭৭ সালে প্রস্তাবিত রেলপথের আবার সংশোধন আনা হয়। সংশোধিত প্রস্তাবে দর্শনা-মেহেরপুর-পোড়াদহ পর্যন্ত রেলপথ স্থাপনের কথা বলা হয়। সেমতে ১৯৭৭ সালের ২৪ জানুয়ারি তত্কালীন মেহেরপুর মহাকুমা প্রশাসন প্রকল্পে সুপারিশ করেন। চেষ্টা-তদবিরের পর তত্কালীন রেলওয়ে মন্ত্রীর নির্েদশে ৬ নভেম্বর ১৯৭৯ সালে প্রস্তাবিত রেলপথ স্থাপনে তদন্ত কাজ সম্পন্ন হয়। ১০ এপ্রিল ১৯৮২ সালে তত্কালীন প্রেসিডেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রী যৌথভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন। ১৮ এপ্রিল ১৯৮৩ সালে মেহেরপুর পৌরসভার এক বৈঠকে প্রকল্পের ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনার পর তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। এরপর ১৪ মে ১৯৯৫ সালে মেহেরপুর জেলা প্রশাসক প্রস্তাবিত প্রকল্পটি খুলনা বিভাগীয় কমিশনের মাধ্যমে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো উদ্যোগ নেন। খুলনা বিভাগীয় কমিশনার বিষয়টি যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সচিব বরাবর পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। মাঝে একবার এ বিষয়ে কিছু অগ্রগতির কথা শোনা গেলেও এখন আর কোন পদক্ষেপ গ্রহণের কথা শোনা যাচ্ছে না । উল্লেখ্য, এই প্রস্তাবিত রেলপথ বাস্তবায়ন না হওয়ায় মেহেরপুর জেলায় ব্যবসা- বাণিজ্য এবং শিল্প-কারখানায় দীর্ঘদিনে স্থবিরতা নেমে এসেছে। প্রকাশ, প্রস্তাবিত রেলপথ স্থাপিত হলে ব্যবসা-বাণিজ্য সমৃদ্ধ এলাকা হিসাবে খ্যাত মেহেরপুর, শোলমারী, কুতুবপুর, কেদারগঞ্জ, মুজিবনগর, গাংনী, বামুন্দী, জোড়পুকুর, আমলা, খলিশাকুণ্ডি, মিরপুর প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ স্থানের সাথে সংযোগ স্থাপিত হবে। এছাড়া প্রস্তাবিত রেলপথ চালু হলে এলাকায় আরো অনেক শিল্প-কারখানা স্থাপিত হবে। এদিকে ২০১১ সালে ২৪ এপ্রিল রেলওয়ের ডিজি বি এ চৌধুরী স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, একনেকের বৈঠকে দর্শনা হয়ে মুজিবনগর পর্যন্ত ৪০ কি. মি. এবং মুজিবনগর থেকে মেহেরপুর পর্যন্ত ১৬ কি. মি. রেললাইন স্থাপনের বিষয়ে নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। ৭শ’ একর জমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে প্রায় ৭শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে দ্রুত রেললাইন স্থাপনের কাজ শুরু হবে। এদিকে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত মেহেরপুরবাসীর প্রাণের দাবি রেললাইন স্থাপনের কাজ দ্রুত শুরু করার লক্ষ্যে মেহেরপুর রেললাইন বাস্তবায়ন কমিটির পক্ষ থেকে রেলওয়ের ডিজিকে স্মারকলিপি প্রদান হলেও রেলপথ বাস্তবায়নের কাজ মুখ থুবড়ে পড়েছে।