চ্যা
ম্পিয়ন হয়ে আবাহনী পঞ্চাশ হাজার টাকার পুরস্কার হাতে নিয়ে আবাহনীর অম্রচিং মারমা, লাবণী, সুরভী, সুরাইয়া, মাইনুরা বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে যখন উল্লাস করছিলেন সেসময় তাদের পাশ দিয়ে ওয়ালটন মহানগরী ফুটবলের ফাইনালে হেরে যাওয়া মোহামেডানের মলি, তৃষ্ণা, বেলী, মিরনা, বিথি, সাবিনারা মাথা নিচু করে পুরস্কারের মঞ্চ ছেড়ে যাচ্ছিলেন। কথা নেই মুখে।
গতকাল শনিবার আবাহনীর কাছে ৩-১ গোলে হেরে যাওয়ার পর মোহামেডান স্ট্রাইকার সাবিনার সাথে এক সাংবাদিক কথা বলতে গেলে তিনি প্রথমে দুর্ব্যবহার করলেও পরে বলেন, ‘নিজের সেরাটা দিতে পারিনি।’ ওয়ালটন মহানগরী মহিলা ফুটবল লিগে স্ট্রাইকার সাবিনা খাতুন ২৭ গোল করেছেন। কিন্তু গতকালের ফাইনালে তার পারফরম্যান্স ছিল হতাশজনক। দলের প্রয়োজনের সময় গোল করতে পারেননি।
বরং আবাহনীর আরেক তারকা স্ট্রাইকার অম্রাচিং মারমা ২৮ গোল করলেও গতকাল তিনি ঠিকই দলের প্রয়োজনে গোল করেছেন। সময় মতো দলকে তুলে নিয়ে গেছেন। আবাহনীকে শিরোপা এনে দিয়েছে অম্রাচিং, সুরাইয়া এবং সুইনু প্রু মারমার গোল তিনটি। ২২ মিনিটে (১-১) মোহামেডানের সমতাসূচক গোলটি করেছিলেন লিজু। প্রথমার্ধে ২-১ গোলে এগিয়ে ছিল গতবারের রানার্সআপ মোহামেডান।
মহিলা ফুটবল লিগ গতবছর প্রবর্তণ করা হয়। কিন্তু বড় দল হয়েও আবাহনী খেলতে আসেনি মহিলা লীগে। এই নিয়ে সমালোচনা শুনতে হয়েছিল আকাশী নীল শিবিরের। প্রথম বারের চ্যাম্পিয়ন শেখ জামাল এবার দল না করায় আবাহনী সেরা খেলোয়াড়দের তুলে নিয়ে দল গড়ে। প্রথম পদার্পণেই ওয়ালটন মহিলা ফুটবল লিগে সেরা সাফল্য তুলে নিলো, চ্যাম্পিয়ন হলো আবাহনী।
আরো একবার রানার্সআপ হয়ে ফিরতে হলো সাদাকালো ফুটবল দলকে।
টুর্নামেন্টের ফরম্যাটে আয়োজন করা মহিলা ফুটবল লিগে এবার দুই গ্রুপে সাতটি দল লড়াই করে। এর মধ্যে মোহামেডান আবাহনীই ছিল সবচেয়ে শক্তিশালি দল। কিন্তু গতকাল ফাইনালে মোহামেডানের চেয়ে আবাহনীই ভালো খেলেছে। মোহামেডানের গোলকিপার মলি ছিলেন ফ্লপ। তার কারণে ম্যাচটা হারতে হয়েছে বলে মনে করছেন দলের কোচ জাতীয় দলের সাবেক তারকা ফুটবলার আলফাজ আহমেদ। সাথে তিনি এটাও যোগ করলেন, আবাহনীর গোলকিপার কয়েকটা ভালো সেভ দিয়েছে। যে কারণে আমরা গোল পাইনি।’ মোহামেডানের স্ট্রাইকার সাবিনাই হচ্ছেন বড় অস্ত্র। কিন্তু তাকে আবাহনীর শারমিন আক্তার রূপা বোতল বন্ধী করে রাখেন। এক মিনিটের জন্য খেলতে দেয়নি সাবিনাকে। আলফাজ বললেন এমনিতেই সাবিনা তিন দিন অনুশীলন করতে পারেনি অসুস্থতার কারণে তার উপর কড়া পাহারায় সাবিনা মুভ করতে পারেনি।’ তারপরও টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় মোহামেডানের সাবিনা পেয়েছেন পাঁচ হাজার টাকা। ২৯ গোল করে সর্বচ্চো গোলদাতা আবাহনীর অম্রাচিং মারমা বাবার স্মৃতির উদ্দেশ্যে শিরোপা উত্সর্গ করেন। তিনি পেয়েছেন পাঁচ হাজার টাকা। রানার্সআপ মোহামেডান ৩০ হাজার টাকা এবং ফেয়ার প্লে ট্রফি পেয়েছে আরামবাগ।
