দেশের তিন জেলায় হরতাল আজ। পুলিশের গুলিতে তিনজন নিহত হওয়ার প্রতিবাদে আজ চাঁপাইনবাবগঞ্জে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল আহবান করেছে স্থানীয় ১৮ দলীয় জোট। একই কারণে সিরাজগঞ্জে অর্ধদিবস ও খুলনা জেলার নয় উপজেলায় পূর্ণদিবস হরতালের ডাক দিয়েছে জোটের প্রধান দল বিএনপি। এদিকে আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি অবনতির আশংকায় গতকাল শনিবার শিবগঞ্জসহ চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিন এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
খুলনা থেকে ডুমুরিয়া সংবাদদাতা জানান, সম্প্রতি সন্ত্রাসী হামলায় স্থানীয় যুবদল কর্মী গাজী নাছির উদ্দিন সুমন ও তেরখাদার বিএনপি নেতা বুলু মোল্লা নিহতের প্রতিবাদে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে আজ খুলনার নয় উপজেলা ও দুই পৌরসভায় হরতাল আহবান করা হয়েছে। এদিকে যুবদল কর্মী নিহত হওয়ার দু’দিন পরও কোন মামলা হয়নি বলে জানা গেছে। হরতাল সফল করার লক্ষ্যে গতকাল বিকালে উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে বিএনপি নেতাকর্মীরা। তারা ঘাতকদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, বৃহস্পতিবার জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুরে যৌথ বাহিনীর সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের সংঘর্ষ ও তিনজন নিহতের ঘটনায় প্রায় এক হাজার লোককে আসামি করে দু’টি মামলা করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে এসআই দীপক কুমার শিকদার ও এসআই শহীদুল ইসলাম বাদী হয়ে শিবগঞ্জ থানায় মামলা দু’টি দায়ের করেন। মামলায় ২২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো সহস্রাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। আসামিরা প্রায় সবাই জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্র জানায়, ১৮ দলের পূর্ব নির্ধারিত গায়েবানা জানাজা ও বিক্ষোভ-সমাবেশকে কেন্দ্র করে আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে এমন আশংকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর পার্কসহ আশপাশের এলাকায় গতকাল দুপুর ২টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করে জেলা প্রশাসন। একই কারণে গতকাল বিকাল ৩টা থেকে আজ রবিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত শিবগঞ্জ পৌর এলাকা ও কানসাট বাজারে ১৪৪ ধারা জারি করে শিবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে একটি জলকামান শহরে টহল দিচ্ছে। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্য।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কানসাট পল্লী বিদ্যুত্ সমিতিতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি ধরতে গেলে জামায়াত-শিবির কর্মীরা যৌথ বাহিনীর সদস্যদের অবরুদ্ধ করে ফেলে। এসময় গুলিতে তিনজন নিহত হয়। ওই ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল শনিবার বিকালে জেলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। এছাড়া আজ রবিবার জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ১৮ দল। এদিকে নিহতদের লাশের ময়নাতদন্ত গতকাল বিকালে সম্পন্ন হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
সিরাজগঞ্জ থেকে বেলকুচি সংবাদদাতা জানান, গত শুক্রবার বিএনপি-জামায়াতের সাথে পুলিশের সংঘর্ষে ২ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় আজ জেলায় অর্ধদিবস হরতাল ডেকেছে জেলা বিএনপি। ঘটনাস্থল বেলকুচি উপজেলা জুড়ে এখন থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ওই ঘটনায় বেলকুচি থানার এসআই হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে ২৯ জনের নাম উল্লেখ করে আরো অজ্ঞাতনামা অসংখ্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন বলে জানিয়েছেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) কাজী এহসানুল কবীর।
এদিকে সর্বতুলসী গ্রামের আব্দুল মজিদের পুত্র জামায়াত কর্মী ফরিদুল ইসলাম ও কল্যাণপুর গ্রামের আব্দুল হামিদের পুত্র ছাত্রদল কর্মী ইউনুস আলীর লাশ ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল শনিবার স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। জানাজার আগে কল্যাণপুর মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতারা বক্তব্য রাখেন।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ অফিস ভাংচুর মামলার আসামি হাবিবুর রহমানকে ধরতে শুক্রবার সকালে বেলকুচি থানা পুলিশ মৌপুর গ্রামে গেলে তাদের ওপর হামলা চালান জামায়াত ও বিএনপির কর্মীরা। এ সময় সংঘর্ষে ২ জন নিহত ও দুই সাংবাদিকসহ কমপক্ষে অর্ধশত ব্যক্তি আহত হন।
