শাহবাগে আমরণ অনশনে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন পাঁচ তরুণ। গতকাল রাতে গুরুতর অবস্থায় তাদের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল ও ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ পাঁচজন হলেন- শহীদ রুমী স্কোয়াডের সমন্বয়ক সাদাত হাসান নিলয়, আলিফ প্রধান, রুবায়েত আদনান দীপ, শুভ্র মাহমুদ জ্যোতি ও রায়হান। এদের মধ্যে সাদাত হোসেন নিলয়, রুবায়েত আদনান দ্বীপ ও শুভ্র মাহমুদ জ্যোতির অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। তবে তাদের অবস্থা বর্তমানে কিছুটা উন্নতির দিকে বলে অনশনরতরা জানান। বাকি দুইজন মো. আলিফ প্রধান ও রায়হানকেও বারডেমে চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া মানিক সূত্রধরের শারীরিক অবস্থা অবনতি ঘটলে আগেই বারডেম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদিকে জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধে সরকার কী ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে এবং কোন প্রক্রিয়ায় নিষিদ্ধ করা হবে তা প্রধানমন্ত্রীকে স্পষ্ট করে বলার আহ্বান জানিয়েছেন রাজধানীর শাহবাগে অনশনরতরা। গতকাল শনিবার বিকালে জাতীয় জাদুঘরের সামনে শহীদ রুমী স্কোয়াড এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ আহ্বান জানায়।
গতকাল শনিবার রাত আড়াইটায় অনশনের ১০০ ঘন্টা পূর্ণ হয়। এ সময়সীমা পূর্ণ হওয়ার পর রাতেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর অনলাইনে চিঠি পাঠানোর কথা স্কোয়াডের। ঐ চিঠিতে জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধে সরকার কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং কোন উপায় গ্রহণ করবে তা স্পষ্ট করে প্রকাশ করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানানো হবে বলে জানিয়েছেন স্কোয়াডের মুখপাত্র সেঁজুতি শোণিমা নদী।
সেঁজুতি শোণিমা বলেন, সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে আমরা জানতে চাইবো। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট বক্তব্য না দেয়া পর্যন্ত এবং জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো। দাবি আদায়ের পক্ষে দেশের সকল মানুষকে সময় বেঁধে অনশন করার আহ্বান জানান তিনি।
গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত শাহবাগে ১৯ তরুণ অনশন করছিলেন। তাদের সাথে সংহতি জানিয়ে অনশন করেছে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন। গতকাল সংহতি জানিয়েছেন অধ্যাপক সাদেকা হালিম, অঞ্জন রায়, অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী, বন্যা মির্জা প্রমুখ। সংহতি জানিয়েছে প্রায় দেড় শতাধিক সংগঠন। গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টায় রাষ্ট্রপতির নির্বাহী আদেশে জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করে শহীদ রুমী স্কোয়াড।
