সততা, শ্রম ও মেধাকে পুঁজি করে একটু একটু করে অগ্রসর হয়ে আজ নিজ ও পরিবারকে নিয়ে সফলতার শিখরে পৌঁছেছেন এবং নানা রং দিয়ে সাজিয়েছেন জীবনকে। মেধা ও দক্ষতার সাথে কাজ করলে স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব, তা-ই প্রমাণ করলেন পেশায় একজন প্রতিথযশা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার। বলছিলাম হাই-টেক স্টিল মিলস লিমিটেডের চেয়ারম্যান, রহমান নিট গার্মেন্টসের পরিচালক ও বিএসটিআই-এর সাবেক পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. সফিকুর রহমান সম্পর্কে, প্রজন্মের এই সফলজনকে নিয়ে লিখছেন রিয়াদ খন্দকার
বাংলাদেশে রফতানি আয়ের অন্যতম খাত টেক্সটাইল। এ খাতে কর্মসংস্থান হয়েছে বহু মানুষের। বিশ্বের বস্ত্র চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আমাদের দেশেও এগিয়ে যাচ্ছে এই খাতে। পোশাক বানানোর এই চাহিদাসম্পন্ন ক্ষেত্রটিতে যারা রেখেছেন অনন্য অবদান তাদেরই একজন ইঞ্জিনিয়ার মো. সফিকুর রহমান। একজন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার হয়েও নিজের ক্যারিয়ারকে সাজিয়েছেন নানা মেধাবী রঙে। ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার তিতাসের শাখা নদী বারীয়াধরের পশ্চিম তীরে বাঞ্ছারাপুরের রূপসদী গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ইঞ্জিনিয়ার মো. সফিকুর রহমান। আইএসসি পাস করার পর টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিগ্রি অর্জন করে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন তিনি, চাকরিরত অবস্থায় প্রায় দুই বছর বিদেশে ছিলেন। দেশে ফিরে ১৯৮৪ সালে শিল্প মন্ত্রণালয়ে বাংলদেশ স্ট্যান্ডার্ডস ইনিস্টিটিউশনে সরাসরি উপ-পরিচালক (পাট ও বস্ত্র) হিসেবে পুনরায় সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন। মো. সফিকুর রহমান ১৯৮৫ সালে শিক্ষিকা নিগার পারভীন সুলতানাকে বিবাহ করেন। তাদের দুই সন্তানের মধ্যে ছেলে মোবাস্বের রহমান বর্তমানে আমেরিকার টেক্সাসে ইলেট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার্স করছেন এবং মেয়ে ফারসিম তারান্মুম ফার্মাসিউটিক্যালে গ্র্যাজুয়েশন করছেন।
আশির দশকে নারায়ণগঞ্জে নয়ামাটি হুসিয়ারী শিল্প হতে বর্তমানে বিসিক নিট শিল্পে প্রবর্তনের রূপকারদের একজন মো. সফিকুর রহমান। উল্লেখ্য ইঞ্জিনিয়ার রহমান ১৯৮৭ সালে ব্রিটিশ সরকারের বৃত্তি (বিটিএ) নিয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য ম্যানচেস্টার গমন করেন। পরবর্তীতে তিনি ১৯৯৯ সালে নটিংহাম ইউনিভার্সিটি ইউকেতে ফ্যাশন ডিজাইনের উপর মাস্টার্স করতে যান। তিনি ফিনল্যান্ড ও সুইডেন হতে স্ট্যান্ডার্ডাইজেশনের উপর উচ্চতর প্রশিক্ষণ লাভ করেছেন।
তিনি ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, মঙ্গোলিয়া, আফ্রিকা ও আরব দেশসহ ৪১টি দেশ ভ্রমণ করেছেন। সার্ক স্ট্যান্ডার্ডস নোডাল পরিচালকের দায়িত্ব পালনসহ তিনি ১৫ বছর বিএসটিআই-এর পরিচালক ছিলেন।
মো. সফিকুর রহমান ইনিস্টিটিউট অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারের আজীবন সদস্য এবং ঢাকাস্থ বাঞ্ছারামপুর সমিতির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। টেক্সটাইল ও টেক্সটাইল শিল্প নিয়ে তার অনেক লেখালেখি রয়েছে। এ ছাড়া তিনি ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড প্রণয়নে সম্পৃক্ত ছিলেন, এ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সময়ের দাবি হিসেবে বিল্ডিং কোডের আশু বাস্তবায়ন জরুরি। বিল্ডিং তৈরির পূর্বে অনুমোদিত নকশা, কোড অনুযায়ী গুণগত মানসম্পন্ন রড, সিমেন্ট, ইট, বালু ইত্যাদি ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে, প্রয়োজনে আইন করে একটি আলাদা সংস্থার মাধ্যমে বিল্ডিং কোড বাস্তবায়নের ব্যবস্থা নিতে হবে।’
রূপসদী গ্রামে স্বাস্থ্য সেবা দিচ্ছে রহমান পরিবারের প্রতিষ্ঠিত একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ও আধুনিক হাসপাতাল মাহবুবুর রহমান মেমোরিয়াল হাসপাতাল। এই হাসপাতাল ইতোমধ্যে সামাজিক দায়বদ্ধতা পালন পুরস্কার (সিএসআর) লাভ করতে সক্ষম হয়েছে। ব্যবসার বাইরে এটি তার অনন্য অর্জন। তার বাবা মাহবুবুর রহমান ছিলেন সরকারি চাকরিজীবী, যিনি বরাবরই একজন সাদা মনের মানুষ ছিলেন। মো. সফিকুর রহমানের বড় ভাই মো. মজিবুর রহমান ছিলেন একজন বিসিএস ক্যাডারভুক্ত কর্মকর্তা। এডিসি, এডিএম, ডিসি হিসেবে বিভিন্ন স্থানে কর্মরত ছিলেন। তার ছয় ভাই তিন বোনের মধ্যে ছোট ভাই মো. মফিজুর রহমান ছিলেন পেশায় চাটার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট, তিনি মাত্র ৩৮ বত্সর বয়সে তিনি পৃথিবী ছেড়ে চলে যান। ছোট ভাই মো. মিজানুর রহমান, মো. আতিকুর রহমান ও মো. মোস্তাফিজুর রহমান তাদের শিক্ষা কার্যক্রম শেষ করে পারিবারিক শিল্প প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছেন। প্রায় ৩৫ জনের একটি একান্নবর্তী পরিবার তার। আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে ‘রহমান শিল্প পরিবার’ তথা রহমান নিট কম্পোজিট, হাইটেক স্টিল এবং মাহবুবুর রহমান মেমোরিয়াল হাসপাতাল এগিয়ে যাচ্ছে সগৌরবে।
মো. সফিকুর রহমান বর্তমানে পারিবারিক শিল্প প্রতিষ্ঠান দেখাশোনা এবং জনসেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। তার ভবিষ্যতের স্বপ্নগুলোও সাজানো এ দেশের গরিব মেহনতি মানুষগুলোকে ঘিরে।
ইঞ্জিঃ মোঃ সফিকুর রহমান
ডাকনাম :সফিক
মায়ের নাম :মরহুমা নূরজাহান বেগম
বাবার নাম :মরহুম মোঃ মাহবুবুর রহমান
জন্মতারিখ ও স্থান :১৩ এপ্রিল, রূপসদী, বাঞ্ছারামপুর, বি-বাড়ীয়া
সড়ুল ঃ রূপসদী বৃন্দাবন হাই সড়ুল
প্রিয় পোশাক :শার্ট-প্যান্ট
প্রিয় মানুষ :আমার বাবা-মা
সাফল্যের সংজ্ঞা :ধৈর্য্য ও নৈতিকতার সাথে কাজ করা
ছবি :দীপঙ্কর দীপু
