টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংকে টেক্সটাইল প্রযুক্তিও বলা যায়। এই বিষয়ে পড়াশোনা করে পরবর্তীতে বেশ ভালো কাজ করা যায় ফ্যাশন নিয়ে। আর এ কারণেই সারাবিশ্বে অনেক মেধাবী তরুণ-তরুণী কাজ করছেন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। তাদের মধ্য থেকে কয়েকজনকে নিয়ে লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম
ডে ভি ড
ডেভিড স্যামুয়েল কোহেন বেশি জনপ্রিয় ডেভিড এক্স কোহেন নামে। তিনি আমেরিকার বিখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনারদের সাথে কাজ করছেন প্রায় ৫ বছর ধরে। তিনি সিম্পসনের বেশ কিছু ফ্যাশন শোয়ের কাজেও সহায়তা করেছেন। এই কাজে আসা তার শখের বশে।খুব ছোটবেলা থেকে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। কিন্তু ইউনিভার্সিটিতে তাকে পড়াশোনা করতে হয়েছিল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে। তার পরিবার এটাই চেয়েছিল। নিরানন্দ মনে পড়াশোনা শুরু করেছিলেন। কিন্তু কাজ করতে গিয়ে মজা পেয়ে যান। সেখান থেকেই তার পথচলার শুরু। বর্তমানে তিনি একজন সফল টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে পৃথিবীখ্যাত।
---
তা নি য়া
অনেকে মনে করেন, সৃজনশীলতা কিংবা গোছানোর মনোভাব থাকলেই হয়ে উঠা যায় একজন সফল টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার। কিন্তু ধারণাটি পুরোপুরি সঠিক নয়। কারণ শুধু মনোভাব দিয়েই সফল একজন শিল্পী হয়ে ওঠা যায় না। এর জন্য প্রয়োজন প্রচুর পড়াশোনার। ব্যক্তি জীবনে অগোছালো হলেও পড়াশোনায় দারুণ মনোযোগী ছিলেন তানিয়া। সুতরাং বোঝা যাচ্ছে, এই পেশায় সফল হতে খুব বেশিদিন অপেক্ষা করতে হয়নি তাকে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সম্পন্ন করার আগেই চাকরিতে যোগ দেন তিনি। তাই বলে পড়াশোনাকে অবহেলা করেননি। আজ তিনি টেক্সটাইল জগতে আইকন হিসেবে পরিচিত।
---
জু ডি থ
সৃজনশীলতার সুযোগ পাওয়া যাবে বলেই টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে নিজেকে নিয়োজিত করেছেন জুডিথ নামের এই তরুণী। ফ্লোরিডা ইউনিভার্সিটির ছাত্রী ছিলেন জুডিথ। নিছক শখ থেকে এই পথে আসা। কোর্সের প্রয়োজনে নানা ধরনের টেক্সটাইল ব্যবসার সাথে পরিচয় হয় তার। সেখান থেকে শেখেন কীভাবে কাজ করতে হয়। একসময় নিজেই কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে শুরু করেন একটি টেক্সটাইল ফার্ম। মেতে উঠেন টেক্সটাইলের কাজ নিয়ে। ধীরে ধীরে তার কাজের সুনাম ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। সফল হয় তাদের ফার্মটি। শুধু তাই নয়, এই সাফল্যের কারণে জুডিথ টেক্সটাইল বিষয়ে শিক্ষকতাও করেছেন।
---
ল্যা রি ই য় ং
ইয়ং নিজেকে একজন ফুলটাইম টেক্সটাইল ব্যবসায়ী বলে পরিচয় দেন। তিনি তার জীবনের প্রায় ১৫ বছর ব্যয় করেছেন। আর তিনি এই পুরোটা সময়ে একজন সফল ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন। তার কাজ বর্তমানে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়। শীর্ষ তরুণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে তার নামটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি প্রায় ৫০টির মতো কোম্পানির সাথে চুক্তি করে কাজ করেছেন। বর্তমানে নিজেই একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক। তবে শুধু ব্যবসা নয়, টেক্সটাইলের গবেষণামূলক কাজের সাথেও তিনি জড়িত। নানা ধরনের প্রদর্শনীতেও অংশ নেন তিনি। তার কাজের বেশ কিছু প্রদর্শনীও করা হয়েছিল চলতি বছরের শুরুতে।
---
ল রা
আমেরিকার ম্যানহাটন শহরে জন্ম এই মেয়েটির। খুব ধনী ছিল না তার পরিবার। তাই একজন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়াটা খুব সহজ ছিল না তার জন্য। অনেক আর্থিক টানাপোড়নে তাকে শিক্ষাজীবন শেষ করতে হয়েছে। প্রথমেই অন্যের অধীনে চাকরি করতে হয়েছে তাকে। বেতনের বেশিরভাগ টাকাই গিয়েছে পারিবারিক ঋণ শোধ করতে। কিন্তু তার স্বপ্ন ছিল একটি টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি দেওয়ার। কয়েকজন ব্যবসায়িক বন্ধুকে নিয়ে তিনি একটি টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি দেন। অক্লান্ত পরিশ্রমে সবাই মিলে দাঁড় করান প্রতিষ্ঠানটি। আজ তাদের টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিটি একটি প্রথম সারির প্রতিষ্ঠান বলে টেক্সটাইল দুনিয়ায় পরিচিত।
