মূল ফিচার

শেষ সময়ের শপিং

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০১৩, ১৯:২৯
উত্সব বা অনুষ্ঠান আমাদের একঘেয়ে যাপিতজীবনে একটু প্রশান্তি নিয়ে আসে। চারদিকেই কেমন যেন একটা খুশির ছোঁয়া, একটা ভালো লাগা। সুন্দর করে বাড়িঘর সাজানো, নতুন পোশাকের গন্ধ, ভালোমন্দ খাওয়াদাওয়া, হৈচৈ আড্ডা, অতিথি অ্যাপায়ন সব মিলে তৈরি হয় প্রাণবন্ত আমেজ। আর কয়েকদিন পরেই আসছে বাঙালির সার্বজনীন উত্সব ‘পহেলা বৈশাখ’। এই উত্সবের প্রস্তুতি কিন্তু সহজ নয়। কেনাকাটা করতে গিয়ে বেশ নাজেহাল অবস্থা হয়ে যায়। পরিবারের জন্য তো বটেই, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবকেও উপহার দিতে মন চায় এই উত্সবে। আর তাই কেনাকাটা করার জন্য চাই একেবারে নিখুঁত পরিকল্পনা। পরিকল্পনা শপিংয়ের জন্য যদি আগে থেকেই একটা নির্দিষ্ট পরিকল্পনা করে নিতে পারেন, তা হলে অর্ধেক কাজ সহজে হয়ে যাবে। তখন দোকানে গিয়ে কী কিনব আর কত খরচ করব, তা নিয়ে আর ভাবতে হবে না। প্রথমেই বাজেট নির্দিষ্ট করুন। মোটামুটি কত টাকা খরচ করবেন তার একটা হিসাব করে রাখতে পারলে, আপনারই সুবিধা হবে। এরপরই তৈরি করতে হবে শপিং লিস্ট। এতে অযাচিত খরচ নিয়ন্ত্রণে আনা সহজ হবে। পরিবারের কোন সদস্য বা আত্মীয়কে কী উপহার দেবেন, কত টাকার মধ্যে কিনবেন তার একটা আনুমানিক বাজেট তৈরি করতে পারলে ভালো। অনেক সময় দোকানে কেনাকাটার সময় কনফিউশন তৈরি হয়। আসলে একেকটা জিনিস একেক জায়গায় ভালো পাওয়া যায়। ছোটদের পোশাকের জন্য নির্দিষ্ট দোকানে যেতে পারেন। আর শাড়ি বা সালোয়ার-কামিজের জন্য দেশীয় জনপ্রিয় ফ্যাশন হাউসগুলোতে যেতে পারেন। সাধারণত উত্সবের মৌসুমে সব জায়গাতেই স্পেশাল অফার চলে। সেই দিকে একটু নজর রাখুন। আপনার হাতে সময় কম থাকলে ছুটির দিনে সপরিবারে বেরিয়ে পড়ুন শপিংয়ে। হাতে কয়েকদিন সময় রাখলে কেনাকাটা করতে পারবেন নির্ঝঞ্ঝাটে। নিজের জন্য শপিং নতুন পোশাক তো নিশ্চয়ই কিনবেন, কিন্তু তার আগে একবার আলমারিটা খুলে দেখুন। আগের বৈশাখে যে পোশাকটা কিনেছেন, তা হয়তো এখনও নতুনই আছে। তাই টাকা খরচ করে এবার নিজের জন্য নতুন পোশাক না কিনলেও চলবে। আবার আগের কেনা বৈশাখের শাড়িটা নতুন আছে, কিন্তু ব্লাউজটা ছোট হয়ে গেছে। তখন শুধু ব্লাউজ কিনে নিন। এতে বেশ কিছু টাকার সাশ্রয় হবে। আর নতুন পোশাক কিনতে মন চাইলে একটু দেখেশুনে কিনুন, যাতে নতুন সালোয়ার ও ওড়না দিয়ে বাসায় থাকা আরেকটি কামিজের সাথে ম্যাচ করে। এতেও আপনার টাকা বেঁচে যাবে। অনেক সময় আমরা হঠকারিতা করে এমন সব পোশাক কিনে ফেলি, যেগুলো হয়তো পরে আর পরাই হয় না। এতে আলমারিতেও জায়গা নষ্ট হয়, অথচ কাজেই লাগে না। শাড়ি পরার অভ্যাস না থাকলে একগাদা শাড়ি কিনে আলমারি বোঝাই করার কি সত্যিই কোনো মানে আছে? তারচেয়ে শাড়ি কেনার টাকাটা সংসারের অন্য কাজে লাগান। নতুন পোশাক কেনা হলে তার সাথে তো পুরোনো জুতা বা ব্যাগ চলে না। তাই সময় থাকতেই সেগুলো কিনে ফেলুন। একসঙ্গে তো আর সব জামার সঙ্গে ম্যাচিং করে এক্সেসরিজ কিনতে পারবেন না, তাই এমন কিছু পছন্দ করে কিনুন যা মোটামুটি সব পোশাকের সাথে মানিয়ে যায়। জুতা কেনার সময় সমানভাবে নজর দিন কমফোর্ট এবং স্টাইলের উপর। একটা ফ্ল্যাট স্যান্ডেল আর একটা হিল সু কিনলেই মোটামুটি সব রকম ড্রেসের সঙ্গেই মানিয়ে যাবে। ব্যাগ কেনার সময় খেয়াল রাখবেন যেন জুতার রঙের সঙ্গে একটা সামঞ্জস্য থাকে। ব্যাগ ও জুতার রং দুই মেরুর হলে মানানসই হবে না। জামাজুতা কেনার পর এবার কসমেটিকসের পালা। একসঙ্গে অনেক কসমেটিকস কিনবেন না। নিজের ত্বক টেস্ট করে কসমেটিকস কিনলে ভালো হয়। সঙ্গে ভালো পারফিউম কিনতে ভুলবেন না। আর পোশাকের সাথে মানানসই হাতের চুড়ি, কানের দুল, গলার মালা কিনুন। সামনের উত্সবটা যেহেতু বৈশাখ, তাই বাঙালিয়ানার ছোঁয়া আছে এমন জিনিসই কিনুন। বাড়ির বড়দের জন্য বয়স্কদের জন্য শপিং করার সময় তাদের মতামতকে গুরুত্ব দিন। চেষ্টা করুন তাদেরকেও শপিংয়ে নিয়ে যেতে। খেয়াল রাখবেন আপনার পছন্দের চেয়ে তাদের পরতে আরামদায়ক হয় এমন জিনিস কিনুন। বাবা-মা, শ্বশুর-শাশুড়ির জন্য জামাকাপড় কিনতে পারেন। বয়স্ক মহিলাদের শাড়ি উপহার দেওয়ার সময় ব্লাউজ, পেটিকোট সঙ্গে দিন। এ ছাড়া বড়দেরকে বই, শখের জিনিসপত্রও উপহার দিতে পারেন। বাসায় বয়স্ক কাজের লোক থাকলে অবশ্যই তাকেও উপহার দেবেন। শিশুদের জন্য নতুন জামা বা খেলনা পেলে শিশুদের থেকে খুশি আর কেউ হয় না। তাদের শপিং করার সময় নিজের পছন্দ জোর করে চাপিয়ে দেবেন না। শপিংয়ে তাদের সঙ্গে নিয়ে যান। কেনাকাটা করার কিছুটা স্বাধীনতা দিন তবে সাধ্যের বাইরে গিয়ে নয়। পোশাক পছন্দ করতে সাহায্য করুন যাতে সঠিক রুচি গড়ে ওঠে। শিশুদের জামাকাপড় কেনার সময় ফেব্রিকের দিকে খেয়াল রাখুন। শিশুদের স্কিন সেনসিটিভ হয়। খুব ছোট বাচ্চাদের জন্য সিল্ক বা সিনথেটিক না কিনে সুতার আরামদায়ক পোশাক কিনুন। বাড়ন্ত শিশুদের জন্য খুব দামি পোশাক কিনবেন না। কারণ তাড়াতাড়ি ছোট হয়ে যাবে। বাড়িতে যিনি কাজ করেন, তার বাচ্চাকেও কিছু একটা উপহার দিন। বাড়ির সাজ যেকোনো উত্সব মানেই আনন্দে ভরপুর থাকে দিনটি। সেই খুশির ছোঁয়া থাকুক আপনার অন্দরসজ্জাতেও। আপনার সঙ্গে সঙ্গে বাড়িরও মেকওভার করে দেখুন না... ঘরের চেহারাই বদলে যাবে! তবে উত্সবের আমেজ অনুযায়ী আপনার পুরো বাড়ি সাজিয়ে তুলুন বাঙালি সাজে। স্মার্ট শপিং টিপস শপিং করতে যাওয়ার আগে পার্সে টাকা, ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড গুছিয়ে নিন। কেনার পর জিনিসগুলো মিলিয়ে দেখে নেবেন। ফিক্সড প্রাইজ শপে দরাদরি করা যাবে না। তাই জিনিস কেনার আগে দাম দেখে নিন। যে জিনিস কিনবেন বলে মনস্থ করে এসেছেন সেটা কিনে, অন্য জিনিস দেখা শুরু করুন। অনলাইন শপিং হাতে সময় কম থাকলে অনলাইন শপিং খুব ভালো অপশন। তবে তার আগে শপিং ওয়েবসাইটের সিকিউরিটি চেক করে নিন। অজানা বা নতুন সাইটে চট করে নিজের ক্রেডিট কার্ড নম্বর দেওয়া বিপজ্জনক। অনলাইনে যেসব কোম্পানির কাস্টমার ফিডব্যাক ভালো, সেই সব কোম্পানির সাথে কেনাকাটার চেষ্টা করুন।