সকাল সাড়ে ৯টা থেকে রাত সাড়ে ১১টার মধ্যে যেকোনো সময় গিয়ে হাজির হতে পারেন ধানমন্ডি ৫/এ রোডের ৭৪ নম্বর প্লটে দাঁড়ানো বিকল্প টাওয়ারের চারতলায় কজমো লাউঞ্জের দরজায়। দিনের বেলায় রাস্তার ওপারের ধানমন্ডি লেক আর সেই বিখ্যাত জাহাজবাড়ি চোখে পড়ে। রাতের বেলায় অল্প আলোর মায়াবী পরিবেশ। পুরো দেয়ালে অদ্ভুত এক ওয়াল পেপার। তাকালে মনে হয়, জাহাজের খোলের মধ্যে বসে আছি। সাজসজ্জার মধ্যে যেটা অবাক লাগে সেটা হলো, বেশ কয়েকটা সোফা পাতা দেখে। এখানে আড্ডা দেবেন আর খাবেন, এটাই তো খাওয়ার মজা। সাধারণ রেস্তোরাঁয় যেমন মূল উদ্দেশ্যই থাকে পেটপুরে খেয়ে বিদায় নেওয়া। লাউঞ্জের বিষয়টা ঠিক সে রকম নয়। লাউঞ্জ হলো আরাম করে খাওয়ার জায়গা। মেন্যু দেখে খাবারটা পছন্দ করে ফেলুন। তারপর সোফায় গা এলিয়ে দিয়ে আরাম করে বসুন। এর মধ্যেই আপনার খাবার চলে আসবে। তাড়াহুড়োর কিছু নেই, আস্তে-ধীরে খান। এই না হলে আবার লাউঞ্জ কিসের! আর কজমো লাউঞ্জই ঢাকার প্রথম এ ঘরানার রেস্তোরাঁ।
কজমো লাউঞ্জের খাবারের স্বাদ আর মান দুটোই ভালো। পরিমাণটাও একেবারে মন্দ নয়। মেন্যুতে পদের সংখ্যা অবশ্য খুব বেশি নয়। তবে যে কয়টা আছে, সেগুলো বেশ যত্ন করে বানিয়ে পরিবেশন করা হয় অতিথিদের। আর মেন্যুটাও একটু অদ্ভুত। কোনো একটা নির্দিষ্ট তরিকার নয়, মানে চাইনিজ খাবার যেমন মিলবে, তেমনি মিলবে ইতালিয়ান, সঙ্গে যদি চান তো আফগান, জাপানি কিংবা আরবীয়, তাও মিলবে এখানে।
এখানে একটা ফ্রেঞ্চ ফ্রাই মেলে। কী মসলা দেয় তাতে, কে জানে। কিন্তু খেতে বেশ ভালো। তার সঙ্গে নিতে পারেন পাস্তা কিংবা মিট সস। স্যুপ আছে বেশ কয়েক পদের। এর যেকোনোটা চেখে দেখতে পারেন। লেমোনেড আর ফলের রসও পাওয়া যায় কিংবা খাঁটি কফির স্বাদও চেখে দেখতে পারেন এখানে। খাওয়া, আড্ডা কিংবা আরামের বাইরে আরও একটা আয়োজন আছে কজমো লাউঞ্জে। মাসে অন্তত একবার গানের জলসা বসে এখানে। আজকের বাংলাদেশে অনেক খ্যাতিমান তরুণ তারকার প্রথম জলসা আর উত্থানের সূচনা হয়েছে এখানে, এই কজমো লাউঞ্জে। কজমোর দেয়ালে দেয়ালে টাঙানো আছে তার ইতিবৃত্ত। কজমোর কর্ণধার আরিফ হাফিজের ক্যামেরায় বিভিন্ন সময় ধরা পড়েছে কজমো লাউঞ্জে এই তারকাদের নানা মুহূর্ত। বাংলা ব্যান্ডের আনুশেহ থেকে শুরু করে নিভৃতচারী প্রতিভাবান গিটারশিল্পী হ্যারল্ড রশিদ এখানকার অতিথিদের জন্য আসর বসিয়েছেন। অর্থহীন ব্যান্ডের সুমন আর বিপ্লবী গানের অরূপ রাহীও জলসা জমিয়ে গেছেন এখানে। দেয়ালে দেয়ালে ঝোলানো তাদের নানা ভঙ্গিমার ছবিগুলো সে কথাই বলে।
খাবারের দাম খানিকটা চড়া। তবে সবকিছু মিলিয়ে কজমো লাউঞ্জ আরাম করে খাওয়া আর খেতে খেতে আরাম করার জন্য দারুণ জায়গা।
