এলাকাবাসী হতাশ
কমল কান্ত রায়, গঙ্গাচড়া (রংপুর) সংবাদদাতা
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় আর ইপিজেড (অর্থনৈতিক জোন) হচ্ছে না। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এডিসি (জেনারেল) সৈয়দ এনামুল কবীর। একটি স্বার্থান্বেষী মহলের কারণে ইপিজেড থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অবহেলিত গঙ্গাচড়াবাসী। রংপুরের অনুন্নত, অবহেলিত, তিস্তা ভাঙন কবলিত অভাবী এলাকা হিসেবে গঙ্গাচড়া একটি পরিচিত নাম। প্রতি বছর তিস্তার ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি-আবাদী জমি। নিঃস্ব হচ্ছে লোকজন; কিন্তু কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় দিন দিন লোকজন অভাবগ্রস্ত হচ্ছেন। রংপুরের গঙ্গাচড়ায় অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে এমন সুখবরে এলাকার মানুষের মাঝে ব্যাপক আশা জাগে। খুশি হয় লোকজন। এ উদ্দেশ্যে উপজেলা প্রশাসন উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের চর ইশোর এলাকায় ২৫৪ দশমিক ২৩ একর খাস জমি নির্বাচন করে। অর্থনেতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হলে সেখানে হালকা, মাঝারি ও ভারী শিল্প কলকারখানা তৈরি হবে। যেখানে এ অঞ্চলের বেকার জনগোষ্ঠীর প্রায় ৫০ হাজার মানুষের কাজের সুযোগ সৃষ্টি হতো; কিন্তু সে আশা এখন গুড়ে বালি। এলাকার মানুষ এখন হতাশ। এমন একটি সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গেল শুধু একটি মহলের জন্য। পিছিয়ে পড়া গঙ্গাচড়া সেই তিমিরে রয়ে গেল। তবে এলাকাবাসীর জোর আবেদন অনুন্নত এলাকা হিসেবে এখানেই যেন অর্থনৈতিক জোন তৈরি করা হয়। এজন্য গত রবিবার এলাকার লোকজন অর্থনৈতিক জোন বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। পরদিন সোমবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে এলাকাবাসী
লক্ষ্মীটারী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুলাহ আল হাদী বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জোর আবেদন করছি তিনি যেন গঙ্গাচড়াসহ অবহেলিত অঞ্চলের উন্নয়নের স্বার্থে তিস্তার চরাঞ্চলে অর্থনৈতিক জোন তৈরি করেন। তিনি এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপিও দিয়েছেন বলে জানান। গঙ্গাচড়া উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ওবায়দুলাহ বলেন, এটি না হওয়াতে আমরা গঙ্গাচড়াবাসী হতাশ। আমরা প্রধানমন্ত্রীর নিকট জোর আবেদন করছি।
বর্তমানে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, রংপুর এ কর্মরত অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এনামুল কবীর বলেন, গঙ্গাচড়ায় ইউএনও হিসেবে থাকাকালীন সময়ে বিষয়টি অনেক কষ্ট করে জমি নির্বাচন ও প্রজেক্ট প্রোফাইল করতে হয়েছে; কিন্তু এলাকার মানুষের সামান্য ভুলের কারণে গঙ্গাচড়ায় আর অর্থনৈতিক জোন হচ্ছে না। তিনি আরো বলেন, অবহেলিত এলাকার মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য রংপুরের গঙ্গাচড়ার জন্য এটি খুব প্রয়োজন ছিল।
