দাম কম ও হিমাগারে সংরক্ষণের ভাড়া বেশি হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন ঠাকুরগাঁওয়ের আলু চাষিরা। ফলে তারা না পারছেন আলু বিক্রি করতে, না পারছেন হিমাগারে সংরক্ষণ করতে।
চলতি বছরে বর্ষার পানি দ্রুত সরে যাওয়ায় অধিক জমিতে আলু চাষ করেন ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষক। তবে উত্পাদিত দামের চেয়ে বিক্রি দাম কম হওয়ায় তাদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।
এর ওপর গতবারের তুলনায় হিমাগারে বস্তা প্রতি ভাড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা বাড়ানোয় বিক্রি বা সংরক্ষণে আগ্রহ হারাচ্ছেন তারা। এ বছর আলু চাষে খরচ বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন চাষিরা।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রহিমানপুরের শাহুপাড়া গ্রামের কৃষক আনারুল ইসলাম জানান, তিনশ’ টাকা ইউরিয়া সারের বস্তা ১১শ’ টাকা, ৩৪ টাকার ডিজেল ৭২ টাকা ও একশ’ টাকার শ্রমিক দু’শ’ থেকে আড়াইশ’ টাকা হওয়ায় উত্পাদন খরচ আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। অথচ বাজারে দাম নেমে গেছে। এ অবস্থায় লোকসান গুনতে হলেও অনেকেই বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। আনারুল আরও জানান, এক একর জমিতে আলু উত্পাদন করতে খরচ হয় ৫৫-৬০ হাজার টাকা। ওই জমিতে আলু উত্পাদন হয় ৮-৯ টন। ৫ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি করলে দাম পাওয়া যাবে ৪০-৪৫ হাজার টাকা। এ হিসাবে প্রতি একরে লোকসান ১০-১৫ হাজার টাকা।
জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এবার জেলায় ৩২ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। বিভিন্ন উপজেলায় কৃষক আলু চাষ লাভজনক হিসাবে নিলেও এবার ঘটেছে উল্টো ঘটনা। কম দামেই আলু বিক্রি করে সংসারের চাহিদা মিটতে হচ্ছে অনেককে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বেলায়েত হোসেন বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ঠাকুরগাঁওয়ে আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে দাম কমে যাওয়ায় লোকসান হচ্ছে।
