রংপুরের গঙ্গাচড়ায় সময়মত কাজ না করায় সদর ইউনিয়ন পরিষদের চার প্রকল্প চেয়ারম্যানকে উত্তোলনকৃত ১ম কিস্তির টাকা ফেরতের চিঠি দিয়েছে উপজেলা পরিষদ। তবে কতদিনের মধ্যে টাকা ফেরত দিতে হবে তা চিঠিতে উল্লেখ নেই। জানা যায়, গঙ্গাচড়া সদর ইউনিয়নের হাটবাজার উন্নয়নে ৯টি প্রকল্পের বিপরীতে ৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয় গতবছরের জুন মাসে। কাজ করার শেষ সময় ছিল ওই বছরের ৪ জুলাই পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যে কাজ না করায় এ বছর ২৭ ফেব্রুয়ারি উপজেলা পরিষদের সাধারণ সভায় ৪টি প্রকল্পের বিপরীতে উত্তোলনকৃত ১ম কিস্তির ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা ফেরতের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর প্রেক্ষিতে ৭ মার্চ প্রকল্প চেয়ারম্যানদের চিঠি দেয়া হয়েছে।
অফিস সূত্র জানায়, গঙ্গাচড়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের পার্শ্বে ড্রেন নির্মাণকল্পে প্রকল্প চেয়ারম্যান ইউপি সদস্য আব্দুল মতিন অভি বরাদ্দকৃত ৯৯ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে ১ম কিস্তির ৪৬ হাজার টাকা, তামাক হাটে পানি নিষ্কাশনকল্পে ইউড্রেন নির্মাণে প্রকল্প চেয়ারম্যান ইউপি সদস্যা শক্তি রানী বরাদ্দকৃত ৯৯ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে ১ম কিস্তির ৪৬ হাজার টাকা, গঙ্গাচড়া মাছ বাজারে ল্যাট্রিন ও টিউবওয়েল স্থাপনের জন্য প্রকল্প চেয়ারম্যান ইউপি সদস্য আব্দুল খালেক বরাদ্দকৃত ৯৯ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে ১ম কিস্তির ৪৬ হাজার টাকা, গঙ্গাচড়া মহিলা বিপনী বিতান সংস্কার ও চুনকাম প্রকল্পে প্রকল্প চেয়ারম্যান ইউনুস আলী প্রকল্পে বরাদ্দকৃত ৭৫ হাজার টাকার মধ্যে ১ম কিস্তির ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা উত্তোলন করেন।
কিন্তু কাজের মেয়াদকাল শেষ হলেও প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন না হওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ চিঠি প্রদান করেন। তবে কতদিনের মধ্যে এ টাকা ফেরত দিতে হবে তা চিঠিতে উল্লেখ নেই। এ ব্যাপারে প্রকল্প চেয়ারম্যান ইউপি সদস্য আব্দুল খালেক ও আব্দুল মতিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা চিঠি পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, টাকা ফেরত দেয়া হবে।
ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবলুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সময়মত কাজ না হওয়ায় উত্তোলনকৃত টাকা ফেরত চেয়ে প্রকল্প চেয়ারম্যানদের চিঠি প্রদানের বিষয়টি জেনেছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু জাফর জানান, সময়মত কাজ না করায় ৪টি প্রকল্পের বিপরীতে ১ম কিস্তির টাকা ফেরত চেয়ে চার প্রকল্প চেয়ারম্যানকে চিঠি দেয়া হয়েছে। তবে ১৫ দিনের মধ্যে এ টাকা ফেরত দিতে হবে বলে তিনি জানান।
