নয় মাসে এডিপি’র এক টাকাও ব্যয় হয়নি অধিকাংশ উপজেলায়

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৩৩
চলতি অর্থ বছরের ৯ মাস পার হলেও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের জন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি-এডিপি খাতে বরাদ্দের এক টাকাও ব্যয় হয়নি অধিকাংশ উপজেলায়। এ জন্য অর্থছাড়ে বিলম্ব হওয়াকে দায়ী করেছে মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ। বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. আলী আকবর ইত্তেফাক’কে বলেন, আমরাই বিলম্বে এডিপির অর্থ ছাড় পেয়েছি। তাই উপজেলা সমূহে অর্থ ছাড়ে বিলম্ব হয়েছে। তবে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে এডিপির বরাদ্দকৃত টাকা নিয়মমাফিক ব্যয় করা হবে বলে তিনি জানান। স্থানীয় সরকার বিভাগের উপজেলা-২ শাখা সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০১২-১৩ অর্থ বছরে কৃষি-ক্ষুদ্র সেচ, বস্তুগত-আর্থ সামাজিক অবকাঠামো, ক্রীড়া-সংস্কৃতি এবং তথ্য-প্রযুুক্তির উন্নয়নে দেশের ৪৮৫টি উপজেলায় এডিপি খাতে ৪শ’ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। এ বরাদ্দের প্রথম কিস্তি ছাড় হয় গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর। স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে গত ৪ মার্চ ২য় ও ৩য় কিস্তিসহ এ পর্যন্ত প্রায় আড়াই শ’ কোটি টাকা ছাড় হলেও অধিকাংশ উপজেলা পরিষদ ১টির বেশি এডিপি-প্রকল্প বরাদ্দ পায়নি। কিছু কিছু উপজেলা ২য় কিস্তির এবং মাত্র কয়েকটি উপজেলা ৩য় কিস্তির অর্থ ছাড় পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, মাত্র কয়েকটি উপজেলায় কাগজে-কলমে এডিপির শতকরা ৫ থেকে ১০ ভাগ টাকা ব্যয় দেখানো হলেও অধিকাংশ উপজেলায় এডিপি প্রকল্পের কোন কাজই শুরু হয়নি। উল্টো টাকার ভাগাভাগি নিয়ে স্থানীয় এমপি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানদের মধ্যে দ্বন্দ্ব লেগেই রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের নির্বাচনী এলাকা কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলা পরিষদ গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত প্রথম কিস্তির মাত্র ১৪ লাখ ২৬ হাজার টাকা বরাদ্দ পেয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত হোসেনপুরে এডিপির ১ টাকাও ব্যয় করা যায়নি বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রকৌশলী মো. আবু ইউসুফ। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল কাদির স্বপন বলেন, এডিপি বাস্তবায়নে বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রকল্প অনুমোদনের জন্য ২ এপ্রিল (আজ) পরিষদের সভা আহ্বান করা হয়েছে। সিরাজগঞ্জ জেলার কাজীপুর উপজেলা প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম জানান, তারা ৩টি কিস্তিতে প্রায় ৫২ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছেন। সর্বশেষ ১ সপ্তাহ পূর্বে ২টি কিস্তি পাওয়ায় এখনো কাজ শুরু করা যায়নি। টাঙ্গাইলের ধনবাড়ি উপজেলা প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবির জানান, তারা ২টি কিস্তিতে ২৮ লাখ টাকা পেয়েছেন এবং কাজ শুরুর জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নেত্রকোনার খালিয়াজুরি উপজেলা প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান জানান, তারা ৩ কিস্তিতে ৪৩ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছেন। ইতিমধ্যে ৫ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন। ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলা প্রকৌশলী মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ১ম কিস্তিতে আমরা ১৯ লাখ ২ হাজার টাকা এডিপি খাতে বরাদ্দ পেয়েছি। আর কোন বরাদ্দ না পাওয়ায় আমাদের পক্ষে এত অল্প টাকা দিয়ে এডিপির কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। এ ব্যাপারে গফরগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, এডিপির অর্থ ছাড় করতে বিলম্ব হওয়ায় আমরা এডিপির কাজ সময়মাফিক করতে পারিনি। অন্যদিকে একাধিক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, স্থানীয় এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যান ও সরকার দলীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের চতুর্মুখী রশি টানাটানিতে সময়ক্ষেপণের কারণে অনেক সময় কাজে দেরী হয়। আর শেষ মুহূর্তে এডিপি প্রকল্পের কাজ করার কারণে কাজের মানও ভালো হয় না। ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৌমেন্দ্র কিশোর চৌধুরী জানান, এডিপি বাস্তবায়নের দায়িত্ব উপজেলা পরিষদের। স্থানীয় এমপিরা উপদেশ দেয়ার নামে এডিপি বাস্তবায়নে হস্তক্ষেপ করতে চান। যার ফলে দেশের প্রায় প্রতিটি উপজেলায় এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যানের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয় এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ব্যাহত হয়। এদিকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এডিপির মঞ্জুরিকৃত অর্থের ব্যয় বিবরণী মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগে জমাদানের নির্দেশনা থাকলেও কোন উপজেলা থেকেই এ ব্যয় বিবরণী পাঠানো হয়নি। অথচ বিদ্যমান উপজেলা পরিষদ বিধিমালা ২০১০ অনুসারে তাদের এডিপি বরাদ্দ স্থগিতও করা হয়নি।