ঝিনাইদহে সন্ত্রাসী হামলায় আওয়ামী লীগ নেতা নিহত

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৩৬
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রউফকে (৫০) প্রকাশ্যে কুপিয়ে, গুলি করে ও বোমা মেরে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল সোমবার বারোবাজার বাসস্ট্যান্ডে এ ঘটনা ঘটে। উপজেলা আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে পুলিশ ও নিহতের পরিবার। নিহত রউফ উপজেলার টিকদাঙ্গা গ্রামের রইচ উদ্দিনের ছেলে। এদিকে এ হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা। এক পর্যায়ে তাদের দু’গ্রুপ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় ব্যাপক বোমাবাজি ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয় বারোবাজার এলাকা। পুলিশ ২৫-৩০ রাউন্ড গুলি ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অন্যদিকে এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে স্থানীয় জনতা বারবাজার হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি ঘেরাও ও সড়ক অবরোধ করে। নিহতের ছেলে জাহিদ হোসেন জানান, তার পিতা গতকাল দুপুরের দিকে মোটর সাইকেলযোগে নিজের ইটভাটায় যাচ্ছিলেন। পথে বারোবাজার বাসস্ট্যান্ডে আটকে একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী তাকে কুপিয়ে, গুলি করে ও বোমা মেরে ফেলে রেখে যায়। তাকে উদ্ধার করে যশোর আড়াইশ’ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করার পর তিনি মারা যান। জাহিদ দাবি করেন, তার পিতার কোন শত্রু ছিল না। তিনি আওয়ামী লীগের নিবেদিত কর্মী ছিলেন। প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে দলীয় প্রতিপক্ষ গ্রুপের লোকজনই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লিয়াকত হোসেন ও এলাকাবাসী জানান, উপজেলা আওয়ামী লীগের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব চলছে। দলের উপজেলা সভাপতি আব্দুল মান্নান এমপি ও সাধারণ সম্পাদক উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ারুল আজিম আনার বিবদমান দুই গ্রুপে নেতৃত্ব দেন। এই দুই নেতার দ্বন্দ্বে সমগ্র উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে রয়েছে। এই দ্বন্দ্বের জের ধরে সোমবার দুপুরে প্রতিপক্ষ গ্রুপের লোকজন আওয়ামী লীগ নেতা আব্ুর রউফকে কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনার পর আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের মধ্যে নেতা-কর্মীদের মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। দলের উপজেলা সভাপতি আব্দুল মান্নান এমপি এ ব্যাপারে জানান, ভিজিএফ কার্ডের চাল দেয়াকে কেন্দ্র করে আব্দুর রউফের সাথে সম্প্রতি বারোবাজার ইউপি চেয়ারম্যান দলীয় নেতা জয়নাল হোসেনের তর্কবিতর্ক হয়। এ নিয়ে তাদের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে আব্দুর রউফ নিহত হন। উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ারুল আজিম আনার জানান, নিহত আব্দুর রউফ আমার গ্রুপের লোক। আব্দুল মান্নান এমপি গ্রুপ সমর্থিত জয়নাল ও তার লোকজন তাকে হত্যা করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।