ইরানকে সতর্ক করতে মধ্যপ্রাচ্যে একটি বিমানবাহী রণতরী ও বোমারু বিমান মোতায়েন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ‘বাড়তে থাকা উসকানিমূলক ইঙ্গিত ও সতর্ক বার্তার’ প্রতিক্রিয়ায় এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলা হতে পারে, এমন ইঙ্গিতের ভিত্তিতে সেখানে বিমানবাহী রণতরীটি মোতায়েন করা হচ্ছে বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। এ ধরনের কোনো হামলা হলে তারা ‘কঠোর শক্তি’ প্রয়োগ করে জবাব দিবেন বলে জানিয়েছেন বোল্টন। এক বিবৃতিতে রবিবার তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ বা আমাদের মিত্রদের স্বার্থে কোনো আঘাত হানা হলে কঠোর শক্তি প্রয়োগ করে জবাব দেওয়া হবে, ইরানি সরকারকে পরিষ্কার ও দ্ব্যর্থহীন এ বার্তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে সেন্ট্রাল কমান্ড অঞ্চলে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ ও একটি বোম্বার টাস্ক ফোর্স মোতায়েন করছে যুক্তরাষ্ট্র।’
বোল্টন আরো বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চায় না। কিন্তু প্রতিনিধিদের মাধ্যমে, ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর বা ইরানের নিয়মিত বাহিনীর যে কোনো হামলার জবাব দেওয়ার জন্য আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত। যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে সামরিক মহড়ার জন্য ওই জাহাজগুলো ইতোমধ্যে ইউরোপে আছে। তবে এবারই প্রথমবারের মতো পারস্য উপসাগরে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন মোতায়েন করা হচ্ছে না, এর আগেও এই রণতরী বহরটি সেখানে ছিল। কিন্তু এবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রেক্ষিতে রণতরী বহরটি সেখানে মোতায়েন করা হচ্ছে।
গত বছর ইরানের পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে আসার পর থেকে আন্তর্জাতিক মহলে ইরানকে একঘরে করে রাখতে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের ওপর চাপ এক ধাপ বাড়ানোর অংশ হিসেবে সে দেশের ‘এলিট বাহিনী’ রেভোল্যুশনারি গার্ডকে (আইআরজিসি) বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকাভুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত মাসের শেষে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ইরান থেকে যারা এখনো তেল কিনছে, নিষেধাজ্ঞা থেকে তাদের অব্যাহতির বিষয়টি তুলে নেবে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প বলেছেন, এপ্রিল মাসের পর চীন, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও তুরস্ককে নিষেধাজ্ঞার গ্যাঁড়াকল থেকে অব্যাহতির সুযোগ পাওয়ার বিষয়টি আর বাড়াবে না যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের তেল রপ্তানি বাণিজ্যকে শূন্যের কোঠায় নিয়ে যেতেই এ সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের।
