কক্সবাজারের চকরিয়ায় পালাকাটা পয়েন্টে শুকিয়ে জেগে উঠেছে মাতামুহুরী নদীর তলদেশ। এক মাস আগেও এখানে পানির প্রবাহ ছিল। চলতি শুষ্ক মৌসুমে নদীর এ পয়েন্টে পানি প্রবাহ একেবারে কমে যাওয়ায় অচল হয়ে পড়ে ৩০টি সেচ পাম্প। এ অবস্থায় বর্তমানে বোরো চাষাবাদ নিয়ে চরম আতঙ্ক ও হতাশায় পড়েছে উপজেলার চিরিঙ্গা ইউনিয়নের শত শত কৃষক। জমিতে সেচ দিতে না পারায় রোদে এখন ফেটে চৌচির হয়েছে কমপক্ষে সাড়ে ৫ হাজার একর বোরো ধান ক্ষেত। অনেক কৃষক উপায় না দেখে ক্ষেত বাঁচাতে নদীর পশ্চিম অংশ থেকে লবণ পানি এনে সেচ দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে অল্পদিনের মধ্যে এসব ক্ষেত মরে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে এবছর উপজেলায় খাদ্য ঘাটতির আশঙ্কা থাকবে এমনটাই জানিয়েছেন কৃষকসহ সচেতন মহল।
জানা গেছে, চলতি শুষ্ক মৌসুম শুরু হওয়ার পর মাতামুহুরী নদীতে পানি প্রবাহ একেবারে কমে গেছে। এ অবস্থায় উপজেলার পালাকাটা রামপুর পয়েন্টের রাবার ড্যাম এলাকায় বর্তমানে পানি শূন্য হয়ে পড়েছে। ড্যামের কাছাকাছি স্থানে লবণ পানি থাকলেও নদীর প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা এখন শুকিয়ে মরা খালে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় কৃষক ও ইউপি মেম্বার নুরুল আবছার, মেম্বার আবুল কালাম, মেম্বার আলী হোসেন, সাহাব উদ্দিন, কৃষক কামাল উদ্দিন, আনোয়ার হোসেন, জামাল উদ্দিনসহ স্থানীয়রা জানান, এক মাস আগেও মাতামুহুরী নদীর এ পয়েন্টে পানি প্রবাহ ছিল। এখন নদীতে পানি না থাকার কারণে স্থানীয় প্রায় ৩০টি সেচ পাম্প বন্ধ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় ইউনিয়নের শত শত কৃষক বোরো ধান ক্ষেতে সেচ দিতে পারছেন না। এ কারণে ইউনিয়নের অধিকাংশ ধান ক্ষেত ফেটে চৌচির হয়ে গেছে।
স্থানীয় সেচ পাম্প (স্কীম) মালিক জয়নাল আবেদীন, মাষ্টার নুরুল ইসলাম, বিটু, মাষ্টার সিরাজুল ইসলাম ও হাজী মোজাহের আহমদ বলেন, অনেক টাকা বিনিয়োগ করে এ বছর সেচ পাম্পগুলো স্থাপন করা হয়। কিন্তু নদীতে পানি না থাকায় বাধ্য হয়েছেন পাম্পগুলো বন্ধ করে দিতে । আলীকদমের উজানে সৃষ্ট মাতামুহুরী নদীর দুটি গতিপথ চকরিয়ায় এসে প্রবাহিত হয়েছে বেতুয়াবাজার পয়েন্ট থেকে। একটি চলে গেছে বাঘগুজারা রাবার ড্যাম হয়ে পেকুয়া-মগনামা চ্যানেলে। অন্যটি বেতুয়াবাজার হয়ে বাটাখালী থেকে পালাকাটা রামপুর পয়েন্টের রাবার ড্যাম হয়ে বদরখালী-মহেশখালী চ্যানেলে।
উপজেলা কৃষি বর্গাচাষি সমিতির সভাপতি মো.মহিউদ্দিন পুতু বলেন, বর্তমানে মাতামুহুরী নদীতে পানি প্রবাহ একেবারে কমে গেছে। এর কারণে নদীর পালাকাটা রামপুর পয়েন্টের রাবার ড্যাম এলাকায় একেবারে পানি নেই। নদী শুকিয়ে জেগে উঠেছে তলদেশ। তিনি আরো বলেন, নদীর মিঠাপানির ওপর নির্ভরশীল উপজেলার চিরিঙ্গা ইউনিয়নে কমপক্ষে ৩০টি সেচ পাম্প কৃষকদের মাঝে পানি সুবিধা দিতে পারছে না। এ কারণে এক মাস ধরে ইউনিয়নের পালকাটা, বুড়িপুকুর, সওদাগরঘোনা, চরনদ্বীপ ও পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাহারিয়াঘোনা এলাকার প্রায় সাড়ে ৫ হাজার একর বোরো ধান ক্ষেত পানির অভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে। অনেকস্থানে ধান ক্ষেত ফেটে চৌচির হয়ে পড়েছে।
উপজেলার চিরিঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান জসীম উদ্দিন বলেন, এব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু এক মাস সময় অতিবাহিত হলেও অবস্থার উন্নতি হয়নি। চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম বলেন, মাতামুহুরী নদীর পালাকাটা পয়েন্টে পানি প্রবাহ কমে যাওয়ার ঘটনাটি উপজেলায় কৃষিখাতে মারাত্মক বিপর্যয় ঢেকে আনবে। তাই বিষয়টি থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে বেশ ক’জন ইউপি চেয়ারম্যান ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করে একটি সফল সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.জয়নাল আবদীন বলেন, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে নদীর গতিপথ পরিবর্তন করে কৃষককের মাঝে পানি সুবিধা নিশ্চিতের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।
