চৈত্রের দুপুরের তীব্র তাপদাহ। রাজধানীর রূপসী বাংলা হোটেল মোড়ে অসুস্থ রোগীর সাহায্যের জন্য ব্যতিব্যস্ত কয়েক তরুণ তরুণী। তাদের হাতে থাকা বাক্সে ( কার্টন) গুরুত্বর অসুস্থ রোগী ছবি লাগানো। গাড়ি থামছে। তারা এগিয়ে যাচ্ছে গাড়ির কাছে। পোশাক আশাক, কথাবার্তায়ও তারা দারুণ স্মার্ট। সবারই ধারণা এরা কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র। আর্তমানবতার জন্য কত না দরদী। যে যা পারছেন বাক্সে ফেলে যাচ্ছেন। এরা যে প্রতারক চক্র, এমন প্রশ্ন কারো মনে আসার কথা নয়। কিন্তু বাস্তবতা, এরা সত্যি প্রতারক। এ চক্রের ৬ সদস্যকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে। আর গ্রেফতারের পর বেরিয়ে আসে মানবতার নামে এ অভিনব প্রতারণার কথা। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছেন দলনেতা শামসুল আরেফিন রানা (২৪), ইব্রাহিম খলিল ফয়সাল (১৮), শাকিল হোসেন (১৮) ,নাজমুল হুদা সাগর (১৯) , খোরশেদ কামাল উজ্জ্বল(১৯) ও রেজওয়ান হোসেন (১৮)। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ৮টি বাক্স। গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছে, তারা রাজধানীর ১৯টি পয়েন্টে এরকম একাধিক দল প্রতারকমূলক ভাবে টাকা উত্তোলন করে আসছিল।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এডিসি (দক্ষিণ) মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন বলেন, কয়েদিন আগে তিনি গুলশানে গিয়েছিলেন। এসময় তিনি গুলশান-১ নম্বর সেকশনের মোড়ে দেখেন তীব্র রোদের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে কয়েক কয়েক তরুণ বাক্স হাতে টাকা তুলছে। এতে তার কিছুটা সন্দেহ হয়। এ অবস্থায় সোর্স নিয়োগ করেন। তাকে নির্দেশ দেন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তাদের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণের। কয়েকদিন পর সোর্স তাকে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেন। এরপর তিনি নিশ্চিত হন এরা প্রতারক চক্র। সোর্স তাকে যে তথ্য জানায় তা হলো, সারাদিন টাকা তোলার পর রাতে গলির মধ্যে গিয়ে নিজেদের মধ্যে টাকা ভাগাভাগি করে। এরপর বারে গিয়ে বিয়ার সেবন করে।
তিনি বলেন, এরপরই তিনি এ চক্রকে গ্রেফতারে অভিযানে নামেন। সোমবার আটক করেন ৮ জনকে। তবে এদের মধ্যে দুইজন কিশোর হওয়ায় তাদেরকে তাদের অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে এ দলে দুই তরুণীও ছিল তারা পুলিশের অভিযান টের পেয়ে দ্রুত সরে পড়ে।
এডিসি ছানোয়ার আরও বলেন, এ চক্রের মূল দলনেতা রানা ও রবিন। রবিন পলাতক। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছে, রাজধানীর বসুন্ধরা, কাকরাইল, গুলশান, বিজয় সরণি, প্রগতির মোড়, আসাদগেট, মগবাজার, বাংলা মোটর, রূপসী বাংলা হোটেল মোড়সহ ১৯টি পয়েন্টে তারা সিডিউল অনুযায়ী বাক্স নিয়ে টাকা আদায় করে থাকে। তবে যারা বাক্স হাতে টাকা তোলে তারা নির্ধারিত অংকে টাকা পেয়ে থাকে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত যারা টাকা তুলবে তারা পাবে ২৫০ টাকা। আর যারা সারাদিন (সন্ধ্যা পর্যন্ত) টাকা তুলবে তারা পাবে ৫০০ শত টাকা করে।
আগে প্রতিদিন প্রতি বাক্সে সংগ্রহ হতো ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা। বর্তমানে সংগ্রহ ২ থেকে ৩ হাজার টাকা।
গ্রেফতারকৃত রানা দাবি করেছে, সে রাজধানীর একটি সরকারি কলেজের অর্থনৈতিক বিভাগের ছাত্র। ইব্রাহিম খলিল ফয়সাল একটি বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউটের পঞ্চম সেমিস্টারের ছাত্র, রেজওয়ান হোসেন এসএসসি পাস। শাকিল হোসেন মিরপুরের একটি কলেজে অর্নাসের ছাত্র, নাজমুল হুদা সাগরও কলেজ ছাত্র।
ডিবি এসি হাসান মোস্তফা স্বপন বলেন, গ্রেফতারকৃতদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের অন্য সহযোগীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
