দেশের আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল গতকাল সোমবার ঘোষণা করা হয়েছে। এ বছর মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করেছে ৮২ দশমিক ২০ শতাংশ। যাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার ৫৯৪ জন। গত বছরের তুলনায় এ বছর জিপিএ-৫-এর সংখ্যা কমেছে। ইত্তেফাক অফিস, প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর।
সেরায় হ্যাটট্রিক রাজশাহীর
রাজশাহী অফিস :এসএসসির ফলাফলে রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড টানা তৃতীয়বারের মতো দেশসেরা হয়েছে। এ বছর রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে পাসের হার ৯১ দশমিক ৬৪ শতাংশ। রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. আনারুল হক প্রামাণিক এ ফলাফলের সারসংক্ষেপ ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, এ বছর সব বিষয়ে পাস করেছে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৮২৮ জন শিক্ষার্থী। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২২ হাজার ৭৯৫ জন শিক্ষার্থী। ফলে এবার পাসের হারে দেশসেরা হয়েছে রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড। পাসের হারে টানা ৮ম বছরের মতো এবারো ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা ভালো করেছে। এবার গত বছরের চেয়ে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত পরীক্ষার্থীর সংখ্যাও বেড়েছে। গত বছর রাজশাহী বোর্ডে পাসের হার ছিল ৮৬ দশমিক ০৭ শতাংশ।
চট্টগ্রামে পাসের হার বেড়েছে
চট্টগ্রাম অফিস :চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের এসএসসি পরীক্ষায় এবার পাসের হার বেড়েছে তবে জিপিএ-৫ পাওয়া পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে। ২০১৮ সালে পাসের হার ছিল ৭৫ দশমিক ৫০ শতাংশ। এবার ২ দশমিক ৬১ শতাংশ বেড়ে পাসের হার হয়েছে ৭৮ দশমিক ১১ শতাংশ। গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৮ হাজার ৯৪ জন। এবার পেয়েছে ৭ হাজার ৩৯৩ জন। চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাহবুব হাসান ফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপরোক্ত তথ্য দেন এবং এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করেন। এ সময় তিনি চট্টগ্রামে জিপিএ-৫ পাওয়া পরীক্ষার্থী কমে যাওয়ার কারণও তুলে ধরেন।
সবার পেছনে সিলেট
সিলেট অফিস:এবারের এসএসসি পরীক্ষায় সিলেট শিক্ষাবোর্ডে পাসের হার ৭০ দশমিক ৮৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৭৫৭ জন। সিলেট শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. কবির আহমদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এবারের ফলাফলে পাসের হার কিছুটা বাড়লেও কমেছে জিপিএ-৫। গতবার পাসের হার ছিল ৭০ দশমিক ৪২ শতাংশ। ফলে এবার বেড়েছে দশমিক ৪১ শতাংশ। গতবারের তুলনায় এবার জিপিএ-৫ কম পেয়েছে ৪৩৪ জন শিক্ষার্থী। গতবার জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৩ হাজার ১৯১ জন শিক্ষার্থী। এবছর সিলেটে ১ লাখ ১৩ হাজার ১৭১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এদের মধ্যে পাস করেছে ৮০ হাজার ১৬২ জন। সিলেট বোর্ডের চার জেলার মধ্যে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক দিয়ে সবচেয়ে এগিয়ে সিলেট জেলা। এই জেলার ১ হাজার ৪০০ শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এ ছাড়া মৌলভীবাজারের ৬৩৮ জন, হবিগঞ্জের ৪৫৫ জন ও সুনামগঞ্জের ২৬৪ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। এবার সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধিনে মোট ১ লাখ ১৩ হাজার ১৭১ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।
যশোরে ৯০ দশমিক ৮৮
যশোর অফিস :যশোর শিক্ষাবোর্ডে এসএসসির ফলাফলে বিজ্ঞান, বাণিজ্য ও মানবিক তিন বিভাগেই ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা ভালো ফলাফল করেছে। এছাড়া গত বছর পাসের হার ৭৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ হলেও এবার পাসের হার ৯০ দশমিক ৮৮ ভাগ। গত বছর ৯ হাজার ৩৯৫ জন জিপিএ-৫ পেলেও এবার পেয়েছে ৯ হাজার ৯৪৮ পরীক্ষার্থী।
যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধব চন্দ্র রুদ্র জানান, এ বছর যশোর বোর্ডে মোট এক লাখ ৮২ হাজার ৩১০ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে এক লাখ ৬৫ হাজার ৬৮৮ জন। পাসের হার ৯০ দশমিক ৮৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৯৪৮ জন। তবে এবার তিনটি বিভাগেই ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের পাসের হার বেশি।
দিনাজপুরে ৮৪ দশমিক ১০ শতাংশ
দিনাজপুর:দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চলতি ২০১৯ সালের এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৮৪ দশমিক ১০ শতাংশ, আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ২৩ জন শিক্ষার্থী। গত বছরের তুলনায় এই শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার বাড়লেও কমেছে জিপিএ-৫ এর সংখ্যা। এ দিকে এবারে পাসের হারে মেয়েরা এগিয়ে থাকলেও জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে এগিয়ে রয়েছে ছেলেরা। চলতি বছরে দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডে ২ হাজার ৬৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১ লাখ ৯৮ হাজার ৮০৫ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ১ লাখ ৬৬ হাজার ১৩৫ জন শিক্ষার্থী পাস করেছে।
দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর তোফাজ্জুর রহমান জানান, এবারে কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার দাসিয়ার ছড়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। গত বছরে যার সংখ্যা ছিল পাঁচটি। আর শতভাগ পাস করা বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৩৮টি, গত বছরে যার সংখ্যা ছিল ৮৪টি। এতেই প্রমাণ হয়— এবারে দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের ফলাফল ভালো। বিদ্যালয়গুলোতে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা, পরিদর্শন ও বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রদান করায় ফলাফল ভালো হচ্ছে। এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা এগিয়ে
কুমিল্লা:কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে এ বছর এসএসসির ফলাফলে পাসের হার ৮৭.১৬ শতাংশ। এ বছর এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮ হাজার ৭৬৪ জন শিক্ষার্থী। গত বছরের তুলনায় এ বছর পাসের হার ও জিপিএ-৫ এবং শতভাগ পাসের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে। এ বছর এই বোর্ডের ১ লাখ ৯৩ হাজার ২৯৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৪৮০ জন। তবে গড় পাসে মেয়েদের তুলনায় ছেলেরা এবং জিপিএ-৫ অর্জনে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। গত বছর এ বোর্ডে ১ লাখ ৮২ হাজার ৭১১ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছিল ১ লাখ ৪৬ হাজার ৮৯৭ জন। গত বছর পাসের হার ছিল ৮০.৪০ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৬ হাজার ৮৬৫ জন এবং শতভাগ পাসের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল ৭৪টি। এ দিকে, কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের গত ৫ বছরের এসএসসির ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ বছর সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জিত হয়েছে। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের হলরুমে সাংবাদিক সম্মেলন করে এসব তথ্য জানান বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. মো. আসাদুজ্জামান।
কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, বোর্ডের অধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের অংশগ্রহণে একাধিকবার বৈঠক করে তাদের দিক-নির্দেশনা প্রদানসহ মনিটরিং ব্যবস্থা বাড়ানো হয়। এ ছাড়াও নির্বাচনী পরীক্ষায় ফেল করা শিক্ষার্থীদের ফরম ফিলাপ না করানোর জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নির্দেশ দেওয়ার পর অপেক্ষাকৃত দুর্বল শিক্ষার্থীদের বিশেষ ক্লাসের ব্যবস্থা করা হয়। এসব কারণে অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর ভালো ফলাফল অর্জন করা সম্ভব হয়েছে।
যশোর বোর্ডে
শীর্ষে খুলনা
খুলনা অফিস: এবার এসএসসি পরীক্ষায় যশোর বোর্ডে শীর্ষে রয়েছে খুলনা। ২০১৮ সালে সবচেয়ে ভালো করেছিল নড়াইল জেলার শিক্ষার্থীরা। সেবার বোর্ডের ১০ জেলার মধ্যে নড়াইলের অবস্থান ছিল শীর্ষে। কিন্তু ২০১৯ সালে বোর্ডের মধ্যে তাদের অবস্থান সবার পেছনে। সোমবার দুপুরে যশোর বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফলে এ চিত্র উঠে এসেছে।
বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মাধব চন্দ্র রুদ্র বলেন, খুলনা বিভাগের ১০ জেলার মধ্যে এবারের এসএসসির ফলাফলে শীর্ষে রয়েছে খুলনা জেলা। শিক্ষা বোর্ডে ৯০ দশমিক ৮৮ ভাগ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হলেও এ জেলা থেকে পাস করেছে ৯৪ দশমিক ৩৪ ভাগ পরীক্ষার্থী। আর সবার নিচে নড়াইল জেলা। নড়াইল জেলা থেকে পাস করেছে ৮৪ দশমিক ১৫ ভাগ।
দিনাজপুর বোর্ডে এগিয়ে মেয়েরা জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে ছেলেরা
রংপুর অফিস: রংপুর বিভাগের আট জেলায় দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চলতি ২০১৯ সালের এসএসসি পরীক্ষায় পাশের হার ৮৪ দশমিক ১০ শতাংশ, আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ২৩ জন শিক্ষার্থী। গত বছরের তুলনায় এবার রংপুর বিভাগে পাশের হার বাড়লেও কমেছে জিপিএ-৫ এর সংখ্যা। এবারে পাশের হারে মেয়েরা এগিয়ে থাকলেও জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে এগিয়ে রয়েছে ছেলেরা।
