সারাদেশে হরতালে সংঘর্ষ ভাংচুর বোমাবাজি আগুন

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৩০
বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ, ভাঙচুর, ব্যাপক বোমাবাজি ও অগ্নিসংযোগের মধ্য দিয়ে গতকাল মঙ্গলবার দেশের বিভিন্ন স্থানে হরতাল পালিত হয়েছে। হরতালে নাশকতা সৃষ্টির অভিযোগে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী বিএনপি-জামায়াতসহ বিরোধী জোটের শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে। হরতাল চলাকালে যশোর, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জসহ আরো কয়েকটি স্থানে ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুুলিশ ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানা গেছে। এর মধ্যে জয়পুরহাটে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ বিএনপি কর্মী কাজলকে বিকালে হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পৌর শহরে ১৪৪ জারি করেছে জয়পুরহাট জেলা প্রশাসন। এদিকে হরতাল চলাকালে ফেনীতে ককটেল বিস্ফোরণে এক শিশু গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বগুড়ায় রেল সেতুতে অগ্নিসংযোগ করেছে পিকেটাররা। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ৫ জামায়াত-শিবির কর্মীকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে। এছাড়া হরতাল চলাকালে বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য গাড়ি ভাঙচুর ও পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। যশোর অফিস জানায়, হরতাল চলাকালে দুপুরে শহরে বিএনপি ও ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় অন্তত ৮টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। আহত হয়েছে পথচারীসহ ৬/৭ জন। এদের মধ্যে ৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুভাষ চন্দ সাহা জানান, বিএনপি ও ছাত্রলীগের দুপক্ষের মিছিল থেকে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত। সংঘর্ষে হাসপাতাল মোড়ে ৩টি এবং দড়াটানা ট্রাফিক আইল্যান্ড এলাকায় আরো কয়েকটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। এতে কয়েকজন আহত হন। তবে সংঘর্ষ চলাকালে কারা বোমা ফাটিয়েছে তা পুলিশ নিশ্চিত হতে পারেনি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর ১২টার দিকে বিএনপির একটি মিছিল থেকে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। ছাত্রলীগ তাদের ধাওয়া করলে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষ দড়াটানা ট্রাফিক আইল্যান্ড থেকে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মোড় পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। গোটা এলাকা পরিণত হয় রণক্ষেত্রে। এ সময় ৮টি বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে পথচারীসহ অন্তত ৬/৭ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে পৌর কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম সাকিল, পথচারী সদর উপজেলার পাঁচবাড়িয়া গ্রামের জিয়াউল হক (২৬) ও ভ্যানচালক শেখহাটি গ্রামের হাসানকে (৩৬) যশোর মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া ছাত্রদল নেতা সুমন ও কর্মী সবুজকে দড়াটানা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিত্সক আব্দুস সালাম। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু জানিয়েছেন, কাপুড়িয়াপট্টি হয়ে তাদের একটি খণ্ড মিছিল দড়াটানা ট্রাফিক আইল্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে ছাত্রলীগের কর্মীরা পেছন থেকে তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাদের মিছিল লক্ষ্য করে ২০টি বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ১০ জনকে আহত করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। অন্যদিকে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল জানান, বিএনপির মিছিল থেকে আওয়ামী লীগ কার্যালয় ও তাদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোঁড়া হয়। পরে দাড়াটানা এলাকায় ওই মিছিল থেকেই বোমা নিক্ষেপ করা হয়। তারা সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে বিএনপির নৈরাজ্য সৃষ্টির অপতত্পরতা রুখে দিয়েছেন মাত্র। কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, জেলার বুড়িচং উপজেলার কালাকচুয়া ও সৈয়দপুর এলাকায় জামায়াত-শিবিরের সাথে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ২০ রাউন্ড শর্টগানের গুলি করে। এ সময় গুলিবিদ্ধসহ কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের কালাকচুয়া ও সৈয়দপুর এলাকায় সকাল পৌনে ৮টার দিকে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা মহাসড়কে অবরোধ সৃষ্টি করে। এতে পুলিশ বাধা দিলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এছাড়া সৈয়দপুর এলাকায় পিকেটাররা ১টি ট্রাক ও কয়েকটি সিএনজি অটোরিকশা ভাঙচুর করে। এ সময় পুলিশ গুলি করে পিকেটারদের ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এদিকে সকাল ১০টার দিকে উপজেলা সদরে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা পিকেটিং করার সময় হরতাল বিরোধীদের হামলায় কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মিয়াবাজার এলাকায় জামায়াত-শিবির কর্মীরা সড়কে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে ও টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে। সাভার থেকে আমাদের স্টাফ রিপোর্টার জানান, ঢাকার অদূরে সাভারে দুটি বাসে আগুন দিয়েছে হরতাল সমর্থকরা। সোমবার রাত ১০টার দিকে সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডের অদূরে শিমুলতলা এলাকার ম্যারাডোনা চাইনিজ রেস্টুরেন্টের বিপরীত পাশের গ্যারেজে থাকা আনন্দ সুপার পরিবহনের একটি গাড়িতে আগুন দেয় হরতাল সমর্থকরা। এ সময় আশপাশের লোকজন ছুটে এসে পানি ও বালু ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এছাড়া গতকাল ভোরের দিকে হরতাল সমর্থকরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভারের উলাইল এলাকায় অপর একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিবিরকর্মী নাজমুস সাকিবকে (২৬) আটক করা হয়। তার কাছ থেকে দুই বোতল পেট্রোল উদ্ধার করা হয়েছে। সাকিবের দেয়া তথ্যমতে সাভার এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ছাত্রাবাস থেকে এমবিবিএস শেষবর্ষের শিক্ষার্থী মোজাক্কির হোসেন (২২), বাকী বিল্লাহ (২২) ও আহমেদ আলীকে (২০) আটক করে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে পেট্রোল, লিফলেট ও জিহাদি বই উদ্ধার করা হয়। বগুড়া প্রতিনিধি জানান, হরতাল চলাকালে শহরের করতোয়া নদীর রেল সেতুর ওপর আগুন, পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ, বিভিন্ন সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়। নাশকতার চেষ্টাকালে শহরতলীর এরুলিয়া থেকে পেট্রোল ভরা বোতলসহ ৫ জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীকে জনতা গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছে। শহরের নবাববাড়ি সড়কে পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে পরপর তিনটি ককটেল নিক্ষেপ করে পিকেটাররা। বেলা ১১টার দিকে শহরের চেলোপাড়ায় করতোয়া নদীর ওপর রেল সেতুতে আগুন ধরিয়ে দেয় হরতাল সমর্থকরা। এ সময় তারা ছাত্রদলের নামে শ্লোগান দেয়। তারা রেল সেতুটির ওপড়ে কাঠের গুঁড়ি নিয়ে এসে পেট্রোল দিয়ে আগুন দেয়। প্রায় ১ ঘণ্টা পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিভিয়ে ফেলে পুলিশ। জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শাহাবুল আলম পিপলু ওই ঘটনায় ছাত্রদলের সম্পৃক্ততার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। আগুন নিভিয়ে ফেলায় ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন বগুড়ার স্টেশন মাস্টার বেনজুরুল ইসলাম। প্রসঙ্গত আগেরদিন রাতে বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন মাস্টারের কক্ষে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে ৬টি টেলিফোন সেট, সিগন্যাল সুইচ প্যানেল বোর্ড, ব্যাটারি, টেবিল ও কাগজপত্র পুড়ে যায়। পরে দমকল বাহিনীর সদস্যরা এসে আগুন নিভিয়ে ফেলে। খুলনা অফিস জানায়, হরতালের সমর্থনে পিকেটাররা সকালে নগরীর বিভিন্ন স্থানে খণ্ড খণ্ড মিছিল বের করে। সকাল ৮টার দিকে নগরীর শিরোমণি এলাকায় পিকেটাররা রাস্তার পাশে দাঁড় করিয়ে রাখা দুইটি খালি বাস ও ১টি ট্রাক ভাঙচুর করে। হরতালের সমর্থনে বিএল কলেজের ছাত্রদল নেতাকর্মীরা মিছিল বের করার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সকাল ১০টার দিকে পিকেটাররা নগরীর পিটিআই মোড়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও ২টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এ সময় পুলিশ ১২ রাউন্ড শর্টগানের ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে পিকেটারদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ মো. হাদী নামে খুলনা মডেল স্কুলের ৮ম শ্রেণির এক ছাত্রকে আটক করে। এছাড়া পিকেটাররা নগরীর গগনবাবু রোড, আহসান আহমেদ রোড, শিপইয়ার্ড রোড, বয়রা জিপিও, দৌলতপুর মুহসিন মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে ইজিবাইক ভাঙচুর করে। নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, শহরে বিএনপির পিকেটারদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। তবে বিএনপি নেতাদের দাবি তাদের অন্তত ৬ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। অন্যদিকে শিবিরের একজনও গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে জানা গেছে। সকালে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক আনোয়ার প্রধানের নেতৃত্বে শহরের কালীরবাজার এলাকায় সড়কে টায়ারে আগুন ও ২টি যানবাহন ভাঙচুর করা হয়। পরে তারা গলাচিপায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রেল লাইনেও আগুন ধরিয়ে দেয়। তবে এতে ট্রেন চলাচলে কোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়নি। কিছুক্ষণ পর আরেকটি মিছিল চাষাঢ়ার দিকে আসার সময় গলাচিপা মোড়ে পুলিশ বাধা দেয়। তখন দুইপক্ষের মধ্যে ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পুলিশ পরে লাঠিচার্জ করে এবং টিয়ার সেল ও রাবার বুলেট ছুঁড়ে মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় বেশ কয়েকজন পিকেটার গুলিবিদ্ধ হন। আহতদের মধ্যে খোকন নামের একজনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক খোরশেদ দাবি করেন এ সময় তাদের কর্মী ফারুক, মানিক, জীবন, আউয়াল, শহীদ, আফতাব গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ৬ জন গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবরটি সত্য নয় বলে জানান সদর থানার ওসি মঞ্জুর কাদের। এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার অভিযোগ করেছেন সকালে দলের শান্তিপূর্ণ মিছিলে গুলি চালানো হয়েছে। বঙ্গবন্ধু সড়কে অবস্থিত জেলা জাতীয় পার্টি ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি নাসিম ওসমানের কার্যালয়ের পাশের গলি থেকে এই গুলি চালানো হয় বলে তিনি জানান। রাজশাহী অফিস জানায়, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে মহানগরীর কোথাও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের পিকেটিং করতে দেখা যায়নি। তবে মহানগরীর আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় হরতালের সমর্থনে ঝটিকা মিছিল করেছে ছাত্রশিবির কর্মীরা। নগরীর কোথাও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে গত সোমবার পুলিশের এসআই জাহাঙ্গীর আলমের ওপর ছাত্রশিবিরের হামলার পর মানুষ আতংকে রয়েছে। জয়পুরহাট প্রতিনিধি জানান, বেলা পোনে ১১টার দিকে শহরের বাজলা স্কুলের সামনে বাটার মোড়ে এবং রেলগেটে ৪টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এরপর রেলগেট এলাকায় আওয়ামী লীগ-বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৪ রাউন্ড গুলি করলে কাজল নামে বিএনপি কর্মী গুলিবিদ্ধ হন। এছাড়া সদর থানার ওসি (তদন্ত) জানান, আওয়ামী লীগ কর্মী শামসুল ও বিএনপি কর্মী রাসেল আহত হয়ে জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এদিকে জয়পুরহাট পৌরসভায় দুপুুর ১২টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। ফেনী প্রতিনিধি জানান, বেলা ১১টার দিকে ফেনীর শান্তি কোম্পানি রোডে স্থানীয় আইডিয়াল স্কুলের ৩য় শ্রেণির ছাত্র জিসান তার বন্ধুদের নিয়ে খেলার সময় ককটেল বিস্ফোরণে আহত হয়েছে। রাস্তায় পড়ে থাকা ককটেলকে বল মনে করে তার এক বন্ধু ছুঁড়ে মারলে এ ঘটনা ঘটে। স্প্লিন্টারের আঘাতে তার দুই হাত ও মুখ ঝলসে গেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ফেনী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, শহরের অদূরে ধুলিহর রামচন্দ্রপুর এলাকায় হরতাল সমর্থকরা একটি মোটর সাইকেল ও একটি বেবীট্যাক্সি ভাংচুর করে। বাঁকাল এলাকায় রাস্তায় ইট ফেলে ও ছয়ঘরিয়া এলাকায় জামায়াত-শিবির কর্মীরা রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করলে পুলিশ সরিয়ে দেয়। সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, ইউপি সদস্যসহ বিএনপি-জামায়াতের ৬ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার গভীর রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। দাউদকান্দি সংবাদদাতা জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দাউদকান্দি উপজেলার শহীদনগরে জামায়াত-শিবির পুলিশের উপর হামলার চেষ্টা করলে পুলিশ ২০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে। তবে হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা জানান, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ত্রিশালের দরিরামপুর গুলশান সিনেমা হলের সামনে পিকেটাররা ভোরে একটি যাত্রীবাহী গাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলে। এ ছাড়া সড়কের বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি টেম্পু ভাংচুর করে। মংলা সংবাদদাতা জানান, মংলা-খুলনা মহাসড়কের বিভিন্নস্থানে পিকেটিং করেছে জামায়াত-শিবির। ফলে সকাল থেকে এ রুটে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। তবে মংলা বন্দরে পণ্য বোঝাই-খালাস কাজ স্বাভাবিক ছিল। লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জানান, সকালে লক্ষ্মীপুর-ঢাকা মহাসড়কের বেড়ির মাথা নামক স্থানে রাস্তায় গাছ ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে যানচলাচল বন্ধ করে দেয় হরতাল সমর্থকরা। শহরে বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। নাশকতার আশংকায় জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে জামায়াত-শিবিরের ১১জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ । লালমনিরহাট প্রতিনিধি জানান, জেলা শহরের মিশন মোড়ে হরতালকারীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রচার সম্পাদক শাহীন, পুলিশের এস.আই জিয়াউর রহমান ও ২ পুলিশ সদস্যসহ ১৫জন আহত হয়েছেন। পাটগ্রাম উপজেলায় হরতাল বিরোধীরা ইসলামী ব্যাংকের একটি শাখায় হামলা করে ব্যাপক ভাংচুর করে। একই উপজেলার জোংড়া এলাকায় হরতালকারীদের সাথে পুলিশের সংর্ঘষ হয়। বাগেরহাট প্রতিনিধি জানান, হরতাল চলাকালে জেলায় পুলিশের সাথে জামায়াত-শিবিরের সংঘর্ষে পাঁচ পুলিশসহ ১৫ জন আহত হয়েছে। ফকিরহাট উপজেলার কাঠালতলা এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে চারটি যাত্রীবাহী বাস ভাংচুর করে। পুলিশ শর্টগানের গুলি ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, সোমবার রাতে শহর ও শহরতলির বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে দিগন্ত টিভির সাংবাদিকসহ ২৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ। দিগন্ত টিভির কক্সবাজার উত্তর জেলা প্রতিনিধি এমআর মাহবুবকে ১৫ ফেব্রুয়ারির ঘটনায় ‘সুনির্দিষ্ট’ তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ। তবে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে অনেক নিরীহ লোকও রয়েছে বলে স্বীকার করেছে পুলিশ। পাবনা প্রতিনিধি জানান, হরতাল চলাকালে পাবনায় ৭ শিবিরকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। সকালে পাবনা বাসটার্মিনাল এলাকায় পিকেটিং-এর চেষ্টাকালে তাদের আটক করা হয়। গঙ্গাচড়া (রংপুর) সংবাদদাতা জানান, উপজেলা বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে। এতে যুবদল নেতা আশিকুজ্জামান জুয়েলসহ ১০ জন আহত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম চাঁদ ও যুবদল সভাপতি চাঁদ সরকারকে আটক করা হয়। নীলফামারী প্রতিনিধি জানান, ভোরে ঢাকা ফেরত নৈশ কোচগুলো হরতাল সমর্থকদের রোষানলে পড়ে। শহরের প্রধান সড়কের জোড়দরগা মাদ্রাসার কাছে নাবিল, হানিফ ও নাদের পরিবহনের ৬টি নৈশ কোচে ব্যাপক ভাংচুর চালায় হরতাল সমর্থকরা। এ সময় বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হন বলে কাউন্টার সূত্রগুলো জানায়। দিনাজপুর স্টাফ রিপোর্টার জানান, বীরগঞ্জে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড সৃষ্টি ও যানবাহন ভাংচুর এবং অগ্নিসংযোগ করার অভিযোগে উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী সহিদুল ইসলামসহ ৭২ জনকে আসামি করে দ্রুত বিচার আইনে মামলা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে এসআই সাদিকুজ্জামান বাদি হয়ে মামলাটি করেছেন। বরিশাল অফিস জানায়, হরতাল সমর্থকরা নগরীর বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাংচুর করে। সকাল ৬টার দিকে নগরীর বিএম কলেজ এলাকায় মহানগর ছাত্রশিবিরের মিছিল শেষে ৪টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। সকাল সোয়া ৬টায় নগরীর বগুড়া রোড এলাকা থেকে মহানগর বিএনপ’র সভাপতি মজিবর রহমান সরোয়ার এমপি’র নেতৃত্বে হরতালের সমর্থনে একটি মিছিল বের হয়ে সদর রোডের দলীয় কার্যালয়ের দিকে যেতে থাকলে বাধা দেয় পুলিশ। সকাল সোয়া ৭টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বর থেকে হরতালের সমর্থনে জেলা বিএনপি’র সভাপতি আহসান হাবিব কামাল এবং সাধারণ সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিনের নেতৃত্বে মিছিল বের হলে ফজলুল হক এভিনিউ জেলা জজ আদালত এলাকায় আটকে দেয় পুলিশ। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে শেষে যাওয়ার সময় পুলিশ বিএনপি নেতা-কর্মীদের ধাওয়া করে এবং আলেক নামে এক বিএনপি কর্মীকে আটক করে। এর পরপরই ঐ এলাকায় সংবাদপত্রবাহী একটি মাইক্রোবাস ও বাকলার মোড়ে একটি ট্রাকসহ বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাংচুর করে পিকেটাররা। রংপুর প্রতিনিধি জানান, হরতাল চলাকালে রংপুর মহানগরীর হাজিরহাট এলাকায় রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কে বিদ্যুতের পিলার ফেলে সড়ক অবরোধ করা হয়। এ সময় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সৈয়দপুরগামী একটি মালবাহী ট্রাকে আগুন দেয় হরতাল সমর্থকরা। এছাড়া বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করে। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ১ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এছাড়া পীরগাছার সৈয়দপুরে ২টি নৈশকোচ ভাংচুর করা হয়। অপরদিকে মিঠাপুকুর উপজেলার রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের জায়গীরহাট এলাকায় সংবাদপত্রের ২টি গাড়ি ভাংচুর করে হরতাল সমর্থকরা। এদিকে নাশকতার আশংকায় সোমবার রাত থেকে গতকাল দুপুর পর্যন্ত পুলিশ রংপুর শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে জামায়াত-শিবিরের ২৪ জনকে গ্রেফতার করেছে। গতকাল বিকালে গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা জানান, বাড়ি নির্মাণের জন্য মজুদ রাখা ইট ব্যবহার করতে না দেয়ায় জামায়াত-শিবিরের পিকেটাররা স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর, লুটপাট ও তাকে মারধর করেন। হরতাল চলাকালে সকাল ৭টার দিকে উখিয়ার হিজলিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শামসুল আলম ভুট্টো বাদী হয়ে ২৯ জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ গিয়াস উদ্দিন মিয়া অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছেন। নাটোর প্রতিনিধি জানান, নাটোর-পাবনা মহাসড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে ও আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করার সময় পুলিশ পিকেটারদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। এতে পাঁচ শিবির কর্মী আহত হয়েছে বলে দলীয় নেতারা দাবি করেছেন। সাঘাটা (গাইবান্ধা) সংবাদদাতা জানান, হরতাল চলাকালে পিকেটিং নিয়ে ছাত্রদল নেতৃবৃন্দের সাথে উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদকের বিরোধ ও বাকবিতণ্ডাকে কেন্দ্র করে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের হামলায় উপজেলা যুবদল সাংগঠনিক সম্পাদক আনিছুর রহমান আনিছসহ ৬ জন আহত হন। এ ঘটনায় উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মঈন প্রধান লাবুকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে বিক্ষোভ করে প্রতিপক্ষ দলীয় নেতা-কর্মীরা। কাপাসিয়া সংবাদদাতা জানান, হরতালের কারণে কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তারের উপস্থিতি ছিল কম। ইমারজেন্সি বিভাগে ডাক্তার না থাকায় স্টাফরা দায়িত্ব পালন করেন। ডাক্তার না থাকায় সকাল থেকে শত শত রোগী ফেরত চলে যান। ডাক্তারদের রুমগুলো ছিল তালাবদ্ধ। ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচও) ও আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) তার অফিসে খোসগল্পে ব্যস্ত ছিলেন। গতকাল সকাল ১১টায় স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক সরেজমিনে হাসপাতালে গেলে এ দৃশ্য দেখতে পান। ইউএইচও ডা. আরিফ রাব্বি জানান, হাসপাতালে ২১ জন ডাক্তার কর্মরত আছেন, তাদের মধ্যে ৪ জন ছুটিতে আছেন, ৬ জন প্রেষণে রয়েছেন। ফলে তারা হাসপাতালে আসেননি। ডাক্তার না পেয়ে রোগী ফেরত গেছে এমন কোন ঘটনা ঘটেনি বলে তিনি দাবি করেন।