অখ্যাত তিন ব্লগারকে গ্রেফতার করে সরকার ঈমানী আন্দোলনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। অথচ মহান আল্লাহ, হযরত মুহাম্মদ (স.) ও ইসলামকে জঘন্যভাবে অবমাননাকারী ব্লগার আসিফ মহিউদ্দীনসহ প্রকৃত অপরাধীদের এখনো জামাই আদরে পুলিশ প্রহরায় নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছে সরকার। তাদের গ্রেফতার করা তো দূরের কথা, বরং তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার অপরাধে নবীপ্রেমিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। যে ১৩ দফা দাবিতে হেফাজতে ইসলামের আন্দোলন চলছে তা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোন কর্মসূচি স্থগিত করার প্রশ্নই আসে না। ৬ এপ্রিল সারাদেশ থেকে ঢাকা অভিমুখী লংমার্চ কর্মসূচি চলবেই। গতকাল মঙ্গলবার বিকাল ৫টায় লালবাগের কার্যালয়ে হেফাজতে ইসলামের লংমার্চ সমন্বয় কমিটির এক জরুরি সভায় নেতারা এ সব কথা বলেন।
নেতারা বলেন, জাতীয় সংসদে নিহত ব্লগার রাজীবকে দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শহীদ আখ্যায়িত করে সম্মান প্রদর্শন করেছে সরকার। জাতীয় সংসদের কার্যবিবরণী থেকে সেই কথাগুলো বাদ দেয়া হয়নি। অথচ সরকারি তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে আসিফ, রাজীবসহ অন্য ব্লগাররা আল্লাহ, নবী-রাসূল ও ইসলামের অবমাননা করেছে। প্রধানমন্ত্রী সারাদেশে দেড়শতাধিক জনগণের মৃত্যুতে দুঃখ প্রকাশ না করলেও রাজীবের বাড়িতে গিয়ে সমবেদনা প্রকাশ করে এসেছেন। অন্যদিকে যে বিচারপতি নিজের ঈমানী তাগিদে সেই ব্লগারদের বিরুদ্ধে লিফলেট বিতরণ করেছে সরকার তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। সরকার বলছে শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ উঠিয়ে দেবে। অথচ এতদিন এটাকে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত জাগরণ, স্বাধীনতার স্বপক্ষ শক্তির উত্থান হিসেবে আখ্যায়িত করে এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলো। এই মঞ্চ যদি স্বতঃস্ফূর্তই হবে তাহলে সরকারের কথায় তারা কেন উঠে যাবে? সুতরাং সরকার এই তিন অখ্যাত ব্লগারকে গ্রেফতার করে মুসলমানদের ঈমানী আন্দোলনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে।
লংমার্চ সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন মুফতী মুহাম্মদ ওয়াক্কাস, মুফতী ফয়জুল্লাহ, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনী, মাওলানা জাফরুল্লাহ খান, মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম, মাওলানা আবুল কাসেম প্রমুখ।
