বনলতা ট্রেনে বাধ্যতামূলক খাবারের সিদ্ধান্ত বাতিল হচ্ছে

আপডেট : ০৬ মে ২০১৯, ২২:১১

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী

রাজশাহী-ঢাকা-রাজশাহী রুটে চালু হওয়া বিরতিহীন ট্রেন ‘বনলতা এক্সপ্রেসে’ টিকিটের সঙ্গে বাধ্যতামূলক খাবারের মূল্য আদায় বাতিল চেয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। রাজশাহী এলাকার জনপ্রতিনিধি হিসেবে রবিবার তিনি এ চিঠি দিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী ব্যক্তিগত সহকারী সিরাজুল ইসলাম এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে গত রবিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ১৪ দলের শরিক বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, বিরতিহীন বনলতা এক্সপ্রেস রাজশাহীবাসীর বহুল প্রত্যাশিত একটি ট্রেন। নির্বাচনের আগে আমার ৪৪ দফার অন্যতম ছিলো এ ট্রেন চালুর প্রতিশ্রুতি। কিন্তু ট্রেনে বাধ্যতামূলক খাবারের বিষয়টি অপ্রয়োজনীয়। এ সিদ্ধান্তের কারণে অনেকেই ট্রেনটির ব্যাপারে উত্সাহ হারিয়েছেন বলে জানতে পেরেছি। কাজেই যাত্রীদের স্বার্থে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করা জরুরি।’

অন্যদিকে সোমবার বিকালে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) জনসংযোগ দপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের অনুরোধে রাজশাহী-ঢাকা রুটে চলাচলকারী বিরতিহীন ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ট্রেনের টিকিটের সঙ্গে বাধ্যতামূলক খাবার মূল্য আদায়ের সিদ্ধান্ত বাতিল হচ্ছে। দ্রুতই এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবে রেল মন্ত্রণালয়। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, সোমবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে রাসিক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনকে ফোন করেন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। এ সময় মন্ত্রী ট্রেনের খাবারের বিষয়ে মতামত চাইলে রাসিক মেয়র খাবার বাধ্যতামূলক সিদ্ধান্ত বাতিলের পক্ষে মত দেন। পরে মন্ত্রী খাবার বাধ্যতামূলকের সিদ্ধান্ত বাতিলে মেয়রকে আশ্বস্ত করেন রেলমন্ত্রী।

যোগাযোগ করা হলে রাসিক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, খাবারের বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রী মহোদয় আমাকে ফোন করেছিলেন। আমি রাজশাহীবাসীসহ সকল যাত্রীদের প্রত্যাশা ও সুবিধার কথা বিবেচনা করে ট্রেনে খাবার বাধ্যতামূলক সিদ্ধান্ত বাতিল করে ঐচ্ছিক করার পক্ষে মত দিয়েছি। মন্ত্রী মহোদয় বাতিলে সম্মত হয়েছেন।’ মেয়র বলেন, ‘ট্রেনের যাত্রীরা ইচ্ছে হলে খাবার কিনে খাবেন, ইচ্ছে না হলে খাবেন না। এটি তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার।’

গত ২৫ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সর্বাধুনিক ট্রেন বনলতা এক্সপ্রেস উদ্বোধন করেন। এ ট্রেনে যাত্রীদের একটি করে কেক, একটি বার্গার, একটি সিঙ্গাড়া এবং ৫০০ মিলি লিটারের পানির বোতল সরবরাহ করা হয়। এ জন্য টিকিটের মূল্যের সঙ্গেই অতিরিক্ত ১৮০ টাকা কেটে নেওয়া হয়। ফলে প্রতিটি শোভন চেয়ারের দাম পড়ছে ৫২৫ টাকা। আর এসি চেয়ারের দাম পড়ছে ৮৭৫ টাকা। বাধ্যতামূলক এ খাবারের মান নিয়েও যাত্রীদের মাঝে ক্ষোভ রয়েছে।