ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান করে বাংলাদেশ দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট পাঁচটি ধারা এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন সংশোধন করা হচ্ছে। বর্তমানে এ ধরনের বিভিন্ন অভিযোগে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড ও এক কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকারী সবাইকে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া হবে। এ জন্য প্রচলিত দণ্ডবিধি সংশোধন করে সাজা বাড়ানোর চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম অবশ্য তার নিজ দপ্তরে ইত্তেফাককে বলেছেন, দণ্ডবিধি সংশোধন করে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ডের বিধান করা হবে।
একই সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেছেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে এমন কাজে যারা জড়িত হয়েছে বা হবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ধরনের অপরাধের অভিযোগে গতকাল থেকে এখন পর্যন্ত তিন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত হচ্ছে। সচিবালয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার বিষয়ে প্রচলিত আইন ও সাজার বিষয় তুলে ধরে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করা হয়। হেফাজতে ইসলামের ডাকা ৬ এপ্রিলের লংমার্চের আগে এই সংবাদ সম্মেলন করা হল। হেফাজতে ইসলাম ধর্মের অবমাননাকারীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি করছে।
প্রসঙ্গত. ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েব সাইটে বা অন্য কোনো বিন্যাসে এমন কোনো কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করে, যা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেউ পড়লে, দেখলে বা শুনলে নীতিভ্রষ্ট বা অসত্ হতে উদ্বুদ্ধ হতে পারে বা যা দ্বারা মানহানি ঘটে, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটে বা ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করতে পারে বা এ ধরনের তথ্যাদির মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উস্কানি প্রদান করা হয়, তাহলে তা অপরাধ হবে। আর এ অপরাধ করলে অনধিক ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড হবে।’ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান অপবিত্র করার বিষয়ে দণ্ডবিধিতে দুই বছর সাজার ব্যবস্থা আছে।
সূত্র জানায়, দণ্ডবিধির ২৯৫ ধারা মতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান অপবিত্র করা, ২৯৫ (ক) ধারায় ধর্ম বা ধর্মীয় বিশ্বাসের অবমাননা করা, ২৯৬ ধারায় ধর্মীয় সমাবেশে গোলমাল সৃষ্টি, ২৯৭ ধারায় সমাধিস্থানে অনধিকার প্রবেশ এবং ২৯৮ ধারা অনুযায়ী ইচ্ছাকৃতভাবে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার জন্য শব্দসমূহ ইত্যাদি উচ্চারণ করা হলে তা অপরাধ বলে গণ্য হবে। বিদ্যমান দণ্ডবিধিতে এসব বিষয় অপরাধ বলে গণ্য করা হলেও শাস্তির পরিমাণ সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডের বিধান রয়েছে। এখন তা সংশোধন করে মৃত্যুদণ্ডের বিধানসহ অর্থদণ্ড নির্দিষ্ট করে দেয়া হবে। আইনমন্ত্রী বলেন, যারা পবিত্র কাবা শরিফের গিলাফের ছবি মানববন্ধন বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে, তাদের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর ও আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, যে পত্রিকা এই ছবিকে মানববন্ধন বলে প্রচার করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ঢাকা জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের ধোঁয়া তুলে কেউ যেন সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়াতে না পারে সে ব্যাপারেও সরকার ব্যবস্থা নেবে। হরতাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যারা ভাঙচুর ও জ্বালাও-পোড়াও করছে., এ জন্য যারা হরতাল আহ্বানকারী, তাদের হুকুমের আসামি হিসেবে অভিযুক্ত করা হবে। সাংবাদিকেরা জানতে চান বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আসামি করা হবে কি না? জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যারা হরতাল আহ্বান করেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
এদিকে আগামী ৬ এপ্রিল হেফাজতে ইসলামের লংমার্চের ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেন, সংবিধান অনুযায়ী সবারই শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করার অধিকার আছে। যদি তারা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করে, তাদের বাধা দেয়ার অভিপ্রায় সরকারের নেই।
