বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার দেশকে নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দিয়েছে, যা অতীতে এদেশের মানুষ দেখেনি। রাতের অন্ধকারে মানুষকে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হচ্ছে। নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতেই গুলি করে বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের হত্যার মাধ্যমে মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরাতে চাচ্ছে সরকার। কিন্তু সরকারের বিরুদ্ধে যে গণআন্দোলন শুরু হয়েছে, গুলি করে তা বন্ধ করা যাবে না। ১৮ দলীয় জোটের সকাল-সন্ধ্যা হরতাল শেষ হওয়ার প্রাক্কালে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার দেশে ভিন্ন অবয়বে আবার বাকশাল কায়েম করতে চায়। এজন্য তারা একতরফা প্রহসনের নির্বাচনের কথা বলছে। একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ভিন্নমত পোষণকারীদের দমনে সরকার ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। দেশ এখন চরম ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। দেশের শাসন ও বিচারবিভাগকে দলীয়করণ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরের বক্তব্যের উদ্ধৃতি টেনে বিএনপি মুখপাত্র বলেন, তিনি যে ভাষায় কথা বলছেন তা দাম্ভিকতা ছাড়া কিছু নয়, তিনি বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দিয়েছেন, নেতাদের হুকুমের আসামি করার কথা বলেছেন। কিন্তু এভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে কখনও জনগণের আন্দোলন বন্ধ করা যায় না। ফখরুল বলেন, পুলিশ ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা রাতের অন্ধকারে গ্রামের মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি চালাচ্ছে। লাশের মিছিলে প্রতিদিন নতুন লাশ যোগ হচ্ছে। এর প্রতিবাদে আমরা নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করছি, সেখানেও সরকার বাধা দিচ্ছে। দলের যুগ্ম-মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ ও সহ-দপ্তর সম্পাদক আব্দুল লতিফ জনি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
