ঝড়বৃষ্টি ও শ্রমিক সংকটে ধান নিয়ে বিপাকে কৃষক

আপডেট : ০৬ মে ২০১৯, ২২:১১

তানোর (রাজশাহী) সংবাদদাতা

ঘূর্ণিঝড় ফণীর ঝড়বৃষ্টিতে মাঠভরা পাকা ধান পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি ক্ষেতে পাকা ধান পানির মধ্যে শুয়ে পড়েছে। এনিয়ে বিপাকে কৃষক। আর এই বিপাকে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে দেখা দিয়েছে ধান কাটা শ্রমিক সংকট। এদিকে ধানের দাম কম। অন্যদিকে ধান কাটা শ্রমিক যা পাওয়া যাচ্ছে তাও মজুরি বেশি। এ নিয়ে কৃষক রীতিমতো দিশেহারা হয়ে পড়েছে। নির্ঘুম রাত পার করছে কৃষক ঘরে কাঙ্ক্ষিত ফসল তুলতে না পেরে।

গোল্লাপাড়া গ্রামের জাতীয় কৃষি পদকপ্রাপ্ত কৃষক নূর মোহাম্মদ বলেন, বিঘাপ্রতি ধান পেয়েছি ২০ মণ। বাজারদর ৫৫০ টাকা। সে হিসেবে দাম আসে ১১ হাজার টাকা। অথচ বিঘাপ্রতি চাষাবাদ করতে খরচ হয়েছে ১২ হাজার টাকা। বিঘাপ্রতি লোকসান গুনতে হচ্ছে এক হাজার টাকা। শুধু তাই নয়, ধান কাটা শ্রমিক সংকটের কারণে ক্ষেতের পাকা ধান নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছি। দুইবেলা খাবার ও পাঁচশ টাকা মজুরি দিয়েও ধান কাটা শ্রমিক মিলছে না।

তানোর পৌর এলাকার গুবিরপাড়া গ্রামের কৃষক আসগর আলী বলেন, ফণীর ঝড়বৃষ্টিতে পাকা ধান পানিবন্দি হয়ে ক্ষেতে শুয়ে পড়েছে। শ্রমিক সংকটের কারণে তা ঘরে তুলতে পারছেন না। তবে রবিবার থেকে আকাশ পরিষ্কার ও রোদের তাপ বৃদ্ধি হওয়ায় তিনি স্বস্তি পাচ্ছেন বলে জানান।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাব যতটা মনে করা হয়েছিল ততটা হয়নি। তবে শ্রমিক সংকট ও শ্রমিকের মজুরি বেশি হওয়ার কারণে ধান উত্পাদন খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। যার ফলে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আবহাওয়া এখন অনুকূলে থাকায় কৃষক ঘরে ধান তুলতে পারবেন বলে জানান এই কর্মকর্তা।