কয়রার গ্রামে বিশুদ্ধ পানি সহজলভ্য করেছে ‘রূপান্তর’

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০১৩, ২১:৩৯
চৈত্রের কাঠফাটা রোদ উপেক্ষা করে চার কিলোমিটার দূরের চৌকুনি গ্রাম থেকে কালিকাপুর বটতলার পুকুরের পিএসএফ থেকে খাবার পানি নিতে এসেছেন গৃহবধূ বীণা মণ্ডল। তিনি বলছিলেন, আগে খাবার পানির জন্য সংসার খরচের অর্ধেক টাকা ব্যয় করতে হতো। ট্রলারে করে কুড়ি লিটারের এক ড্রাম পানি আনতে মাঝিকে দিতে হতো ২৫ টাকা। এভাবে মাসে খরচ হতো এক/দেড় হাজার টাকা। এছাড়া ঘর গৃহস্থালির কাজে নিরাপদ পানির কথা তো ভাবতেই পারতাম না। ওই গাঙের নোনা পানিই ছিল ভরসা। এখন একটু কষ্ট হলেও সংস্থার বসানো এই কল (পিএসএফ) থেকে খাবার পানি নিতে পারছি এটাই আমাদের জন্য আশীর্বাদ। সমপ্রতি বেসরকারি সংস্থা রূপান্তর ওয়াটার এইডের সহায়তায় খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের বটতলা পুকুরটি দুর্যোগ সহনশীল পুকুর ও পিএসএফ স্থাপনের মাধ্যমে ওই এলাকার কয়েকটি গ্রামে সুপেয় খাবার পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে। এছাড়া শাপলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এলাকার মানুষের জন্য নিরাপদ খাবার পানির ব্যবস্থা করতে স্থাপন করেছেন কৃত্রিম উপায়ে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণাগার (আর্টিফিসিয়াল একুইফার)। যা থেকে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের পর পাইপ লাইন টেনে নলকূপের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হয়েছে। এ প্রযুক্তিটি বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে স্থাপন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাস্তবায়নকারী সংস্থা। সাড়ে ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে এ প্রযুক্তির একুইফারের ভলিউম ৯ হাজার ৬শ’ ঘনফুট ও পানি ধারণ ক্ষমতা ১ লাখ ৩৫ হাজার লিটার। যা থেকে এলাকার শতাধিক পরিবারের খাবার পানির চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে। এ সব প্লান্টকে গ্রামবাসী তাদের জন্য আশীর্বাদ হিসাবেই দেখছে। পিএসএফ থেকে পানি সংগ্রহ করতে আসা বৃদ্ধ মাজেদ মোল্যা জানান, তাদের এলাকায় নলকূপের পানি খাবার যোগ্য না হওয়ায় তারা এর আগে পুকুরের নোংরা পানি পান করতো। এতে তাদের পানিবাহিত রোগ বালাইসহ শারীরিক নানান সমস্যা দেখা দিত। এখন তারা কয়েকটি গ্রামের মানুষ নিরাপদ পানি পাচ্ছে। তিনি বলেন, এভাবে যদি গ্রামে গ্রামে খাবার পানির ব্যবস্থা করা হতো তাহলে উপজেলার মানুষের খাবার পানির কষ্ট দূর হতো। একই দাবি করে মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের সমাজ সেবক ও ইউপি সদস্য গাজী ইসাহাক আলী বলেন, আমাদের এই এলাকায় গভীর-অগভীর নলকূপের পানি খাবার যোগ্য না হওয়ায় এসব প্রযুক্তি আরো ব্যাপকভাবে স্থাপন করা হলে সমগ্র এলাকার মানুষের খাবার পানির চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হতো। তিনি সরকারি ও বেসরকারিভাবে নতুন নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন। রূপান্তরের কয়রা উপজেলা সমন্বয়কারী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বরাদ্দ অনুযায়ী কয়রা উপজেলার সবচেয়ে দুর্ভোগপীড়িত এলাকা বাছাইয়ের মাধ্যমে আমরা ওই সব এলাকায় মানুষের খাবার পানির সুব্যবস্থা করেছি। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী ওয়াটার এইডের কারিগরি ও যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংগঠন ‘বিগ লটারির’ আর্থিক সহায়তায় ৪ নম্বর কয়রা গ্রামে ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ডি-স্যালাইনেশন প্লান্ট স্থাপন করেছি। এছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়নে গভীর-অগভীর নলকূপ, পুকুর খনন ও পাড় বাঁধাই, মিনি ওয়াটার পাইপ লাইন, সোলার প্রসেসরের মাধ্যমে পানি সরবরাহসহ দুর্যোগপীড়িত এলাকায় যুযোপযোগী ও নতুন নতুন প্রযুক্তির গবেষণার মাধ্যমে মানুষের খাবার পানির চাহিদা দূর করার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।