পাঁচশ’ বছরের পুরনো কালিয়াকৈর নদীবন্দরে পন্টুন না থাকায় যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। তুরাগ, বংশী ও ঘাটাখালি নদী সংগমে অবস্থিত নদীবন্দর দিয়ে কালিয়াকৈরের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করে থাকেন। ফুলবাড়ীয়া, চাপাইর, বোয়লী, মধ্যপাড়া ও মৌচাক ইউনিয়নের অসংখ্য যাত্রী প্রতিদিন শত শত লঞ্চযোগে নদীবন্দর থেকে যাতায়াত করলেও এখানে কোন পন্টুনের ব্যবস্থা করা হয়নি। লঞ্চ মালিক সমিতি তাদের যাত্রীদের লঞ্চ ও স্যালোতে ওঠানামার জন্য বাঁশের সাঁকো তৈরি করে দিলেও শিশু, মহিলা ও বয়স্কদের যাতায়াত কষ্টকর ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে ওই ঘাটে প্রতিবছরই দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে। এখানে নৌকাডুবিসহ পানিতে পড়ে অনেক যাত্রীর অপমৃত্যু ঘটেছে।
গত একযুগ যাবত্ এখানে একটি পন্টুন স্থাপনের দাবি করা হলেও লাল ফিতার দৌরাত্ম্যে তা চাপা পড়ে গেছে। পন্টুন না থাকায় এখানে স্যালো বোটগুলি সবসময় এলোপাতাড়িভাবে রাখা হচ্ছে। ফলে দূরবর্তী নৌকায় ওঠার সময় শত শত নারী-পুরুষ ও শিশুকে ওই স্যালো বোটগুলোর উপর দিয়ে যেতে হয়। ফলে শিশু ও মহিলাদের খুবই দুর্ভোগ পোহাতে হয়। দুই স্যালোর মাঝে চাপা পড়ে অনেকেই পায়ের আঙ্গুল হারিয়েছেন। গত দু’বছরে এই নদীবন্দরে ওঠানামার সময় পানিতে পড়ে ৬ জনের মৃত্যু ঘটেছে। কালিয়াকৈর লঞ্চ ও ইঞ্জিনচালিত নৌকা মালিক সমিতি জানায়, একটি পন্টুনের ব্যবস্থা করার জন্য অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার কাছে বহু আবেদন-নিবেদন করেও কোন কাজ হয়নি।
