বাংলাদেশি জাহাজ এমভি জিবরিল আমিন ইন্দোনেশীয় সুরাবায়া বন্দরে গত সাত মাস ধরে আটক হয়ে আছে। একই সঙ্গে আটক হয়ে আছেন বাংলাদেশের পাঁচ নাবিক। যাদের মধ্যে একজন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাও রয়েছেন। ভুতুড়ে জাহাজের মধ্যে এখন বাংলাদেশের পাঁচ নাবিকই মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। এদিকে, দীর্ঘদিন বিদেশে আটক হয়ে থাকায় উত্কণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন এসব নাবিকের স্বজনরা। তাদের অভিযোগ নাবিকদের উদ্ধার ও দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে জাহাজের মালিক পক্ষ ও ইন্দোনেশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস যথাযথ কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
মঙ্গলবার জাহাজের নাবিক বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীনের সহযোদ্ধা ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা লে. (অব:) আব্দুল হাই ভুঁইয়ার ছেলে মো. নাসির উদ্দিন ইত্তেফাককে জানান, গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর মাল খালাসের পর থেকে জাহাজটি আটক হয়ে আছে। মূলত জাহাজের ত্রুটি ও ইন্দোনেশিয়ার স্থানীয় এজেন্টদের কাছে জাহাজের মালিক পক্ষের বকেয়া থাকায় এটি আটকে রাখা হয়েছে। জাহাজটিতে মোট ২৮ জন নাবিক ও অফিসার ছিলেন। এদের মধ্যে বাংলাদেশের নাবিক ছিলেন এই পাঁচজনই। মিয়ানমার ও জর্জিয়াসহ কয়েকটি দেশের নাবিকরা তাদের দূতাবাসের হস্তক্ষেপে দেশে ফিরে গেছে। কিন্তু দূতাবাসের কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়ায় বাংলাদেশের নাবিকদের মানবেতর জীবন-যাপন করতে হচ্ছে। তাদের খাবার, ওষুধপত্রের যোগান নেই। দেশে ফিরে আসার মতো টাকাও নেই। এ অবস্থায় দ্রুত উদ্ধার করা না গেলে তাদের মৃত্যুও হতে পারে। তিনি বলেন, বাংলাদেশি নাবিকদের করুণ অবস্থা দেখে আইটিএফের ক্যাম্পেইন এডভাইজার ইন্দোনেশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসকে চিঠি লিখেছিলেন। কিন্তু দূতাবাস থেকে কোন সাড়া মেলেনি।
আরেক নাবিক হাবিবুর রশিদের ভাই মো. সাইদুর রহমান বলেন, এসব নাবিকদের সবাই জাহাজ কর্তৃপক্ষের কাছে কমপক্ষে ৭ থেকে ২০ মাসের বেতনভাতা পাবে। তাদের ভিসার মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে। এখন প্রত্যেক নাবিককে দিনে ২০ ডলার জরিমানা গুণতে হচ্ছে। ইন্দোনেশিয়ার ইমিগ্রেশন পুলিশ এ জটিলতা নিরসনে তাদের ৫ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দিয়েছে। এর মধ্যে জটিলতার অবসান না হলে নাবিকদেরকে আটক করা হতে পারে।
