সঙ্গীত বা গান নিয়ে বিশেষজ্ঞগণ একটি চমত্কার গবেষণা করেছেন। বিশেষজ্ঞগণ বলছেন, সঙ্গীত দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং সার্জারির পূর্বে রোগীদের উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে। মন্ট্রিলের ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ সাইকোলজিস্ট ড্যানিয়েল লেভিটিন ও মোনা লিসা ছন্দা দীর্ঘ গবেষণা পর্যালোচনার পর অভিমত দেন যে, ইতিবাচক সঙ্গীত বা মিউজিক মস্তিষ্ক রসায়ন বা ব্রেইন কেমিস্ট্রি পরিবর্তন করে স্বাস্থ্যের হিতকর পরিবেশ তৈরি করে। ফলশ্রুতিতে মানুষের মুড বা মানসিক অবস্থার পরিবর্তন করে, উদ্বেগ-চাপ কমায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উজ্জীবিত করে এবং মানুষকে সামাজিকভাবে একে অপরের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষায় প্রেরণা যোগায়। বিশেষজ্ঞগণ সঙ্গীত বা মিউজিক কিভাবে হিতকর হতে পারে তারও ব্যাখ্যা দিয়েছেন। এতে বলা হয়, মানুষ যখন ইতিবাচক সঙ্গীত নিজের দেহ মনে আত্মস্থ করে তখন মানসিক চাপ ও উত্কণ্ঠা সৃষ্টির জন্য দায়ী কর্টিসোল হরমোন নিঃসরণ কমে যায়। ফলে মানসিক চাপ কমে এবং দেহের ইম্যিউনিটি সিস্টেম উজ্জীবিত হয়।
সাইকোলজিস্ট লেভিটিন আরো উল্লেখ করেন ওষুধের মাধ্যমে মানসিক চাপ হ্রাসের মাত্রার চেয়ে সঙ্গীতের মাধ্যমে মানসিক চাপ বেশি কমে। এছাড়া লেভিটিন আরো উল্লেখ করেন ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে এবং গুণগতভাবে পজিটিভ মিউজিকের ক্ষেত্রে কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। অপর এক গবেষণায় দেখা গেছে মিউজিক মস্তিষ্ক কোষ বা নিউরোনকে উজ্জীবিত করে এবং মানসিক চাপ হ্রাসে সাহায্য করে। তবে সব সঙ্গীতের ক্ষেত্রে এমনটি হয় না। যেসব সঙ্গীত মানুষের হূদয়-মন ও মানবিক অনুভূতিকে স্পর্শ করে এমন সঙ্গীতই শোনা ভালো এমন ইঙ্গিত রয়েছে গবেষকদের।
