সরকার দিশাহীন :তোফায়েল ; আম-ছালা দু’ই যাবে :মেনন

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০১৩, ২২:২২
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, ‘আমরা নিজেরাই উদ্বিগ্ন যে, পরিস্থিতি কোথায় যাচ্ছে? সরকার একদিকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছে অন্যদিকে হেফাজতে ইসলামের সাথে আলোচনা করছে। এর ফলে সরকারের আমও যাবে, ছালাও যাবে।’ অন্যদিকে সরকারের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেছেন, সরকার দিশাহীন অবস্থায় চলছে। দুই নৌকায় পা দিলে সবই হারাতে হবে। তাই আমাদের লক্ষ্য ঠিক করে অগ্রসর হতে হবে। গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত এনইসি সম্মেলন কক্ষে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত সংসদীয় কমিটির সভাপতিদের সাথে প্রাক বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা একথা বলেন। টিআর, কাবিখার অর্থ ব্যবহার নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থায়ী কমিটির সভাপতিরা। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, শিল্প বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি তোফায়েল আহমেদ, আইন ও সংসদ বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি ফজলে রাব্বী মিয়া, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবিএম রহমত উল্লাহ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি এবি এম আনোয়ারুল হক । তোফায়েল আহমেদ আরো বলেন, দেশেকে অস্বাভাবিক করার প্রচেষ্টা চলছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়ে বিরোধীদলীয় নেত্রী কোন দাবিই করছে না, তাদের একটাই দাবি এ সরকারকে অপসারণ। তারা আন্দোলন করছে, চলন্ত গাড়িতে আগুন দেয়া হচ্ছে। বাজেট বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা যখন এলাকার মানুষের কাছে যাই তখন ছোট হয়ে যাই। তিনি বলেন, পদ্মা সেতু আমাদের জন্য দুর্ভাগ্য। এ সেতু দক্ষিণের মানুষের স্বপ্ন ছিলো, আমাদের নির্বাচনী অঙ্গীকারও ছিলো। নির্বাচনের বছরে পদ্মা সেতু কতটুকু বাস্তবায়ন করা সম্ভব সে বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি। তিনি বলেন, ভোলায় পয়েন্ট ৫৫ ট্রিলিয়ন কিউবিক গ্যাস রয়েছে। কিন্তু কিছুই হচ্ছে না। আমরা পাইপলাইন করে রেখেছি কিন্তু গ্যাস দিতে পারছি না। আমাদেরকে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হয়। তিনি বলেন, যে কোন ক্ষমতাশীন দলের শেষ সময়ে অনেক সমস্যা তৈরি হয়। আমরা যারা গ্রাম থেকে নির্বাচিত হই তাদের গ্রামে গেলে সমস্যায় পড়তে হয়। আওয়ামী লীগের আগের মেয়াদে যে হারে স্কুল কলেজ, মাদ্রাসা নির্মাণ করা হয়েছে এ সরকারের আমলে সে ভাবে হয়নি। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ভোলায় ২২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ কেন্দ্র বিগত চার বছরেও উদ্বোধন করা সম্ভব হয় নি। নানা ধরনের সমস্যার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। আগামী বাজেটে স্থানীয় সরকারের প্রতি গুরুত্ব দেয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। এমপিও বাতিল করা উচিত :অর্থমন্ত্রী অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর এমপিও পদ্ধতি বাতিল করা উচিত। অনেক স্কুল রয়েছে যেখানে মাত্র একজন ছাত্র কিম্বা একজন শিক্ষক রয়েছে। কিন্তু তাদের পেছনে অনেক অর্থ ব্যয় হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন এমপিও’র বদলে স্কুলগুলোর সাফল্যের ভিত্তিতে সরকারি অনুদান দেয়ার বিষয়ে সদ্ধান্ত নেয়ার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে। মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থার মান নিচের দিকে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী যে সরকার আসবে তাদের মাধ্যমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। যে স্কুলগুলো এমপিও আবেদন করেছে তাদের পুনরায় বিবেচনা করা হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এবিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছন, শিক্ষা খাতে যদি বাজেটে বরাদ্দ না বাড়ানো হয়, তাহলে বিগত সময়ের সাফল্য বাধাগ্রস্ত হবে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ তার বক্তব্যে গণমানুষের জন্য নির্বাচনমুখী বাজেট দেয়ার আহ্বান জানান। দেশে রেমিটেন্স বাড়াতে প্রবাসীদের অর্থ প্রেরণের খরচ কমানোর দিকে অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। রাজনৈতিক সুবিধা পাওয়ার জন্য বর্তমান সরকারের প্রতিশ্রুত প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে আগামী অর্থবছরের শুরুতেই অর্থছাড়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। বাজেট বিষয়ে তোফায়েল আহমেদ তার বক্তব্যে অগ্রাধিকার প্রকল্প নির্ধারণ করে পরবর্তী বাজেটে বরাদ্দ নির্ধারণের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবিএম রহমত উল্লাহ বলেন, সিএনজির দাম কম হওয়ায় দেশের রাস্তাঘাটে প্রাইভেট কারের পরিমাণ অনেক বেড়ে গেছে। বিশ্বের কোথাও এটি নেই। আগামী অর্থবছরের বাজেটে এ বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে নেয়ার জন্য আহ্বান জানান তিনি।