সংখ্যালঘুদের উপর হামলা বাংলাদেশের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মিলে না :ড্যান মজীনা

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৪৯
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা সম্প্রতি দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, সংখ্যালঘুদের উপর হামলা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বাংলা-দেশের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে এই হামলা একেবারেই মেলে না। সংখ্যালঘুদের উপর হামলাকারী ও আক্রমণকারী দুর্বৃত্তদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দিতে হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে পৌঁছে হিন্দু সমপ্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় রাষ্ট্রদূত মজীনা এ কথা বলেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পর থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত সংখ্যালঘু সমপ্রদায়ের ওপর হামলা, মন্দির ভাঙচুর, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান ভাঙচুরের চিত্র মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে স্লাইড শো আকারে দেখানো হয়। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, হামলা ও ভাঙচুরে এ পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ৪ জন, আহত হয়েছেন ৩৪ জন, মন্দির ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১০৮টি, সংখ্যালঘুদের বাড়ি আক্রান্ত হয়েছে ১৮১টি, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা ৪৫১টি এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২০৬টি। স্লাইড শো প্রসঙ্গে ড্যান ডব্লিউ মজীনা বলেন, এ সমস্ত ঘটনা আমি প্রতিদিন টেলিভিশন ও সংবাদপত্রে দেখি। তবে আপনাদের উপস্থাপনা দেখে এর ভয়াবহতা সম্পর্কে আরও অনেক বেশি জানতে পারলাম। এ ধরনের চমত্কার উপস্থাপনার জন্য আমি আপনাদের ধন্যবাদ জানাই। এ সময় তিনি বলেন, “আমি যে বাংলাদেশ সম্পর্কে জানি, যে বাংলাদেশ ধর্মনিরপেক্ষ, মধ্যপন্থি উদার দেশ, উন্মুক্ত চিন্তা-চেতনা ধারকের দেশ, কিন্তু এ সব ঘটনা তার উল্টো চিত্র।” তিনি বলেন, আমি জানি না এর পেছনে কার হাত রয়েছে? তবে এ গুলো বন্ধ হতে হবে, থামাতে হবে। আমি সরকারের কাছে আহ্বান জানাই, এ সব দোষী, যারা সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও ভাঙচুর করেছে, তাদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। সেই সঙ্গে সংখ্যালঘুদের জান ও মালের নিরাপত্তা দিতে হবে। সংখ্যালঘুদের হামলার প্রতিক্রিয়ায় মজীনা বলেন, আমি এ ধরনের আহ্বান বার বার জানাতে চাই। আমি আগেও বলেছি। আরো বলবো। আমি খুবই মর্মাহত। মতবিনিময়ের সময় ২৪ ফেব্রুয়ারি বিলি করা হেফাজতে ইসলামের একটি লিফলেট মার্কিন রাষ্ট্রদূত মজীনাকে দেখানো হয়। সেখানে লেখা রয়েছে- ‘এদেশ সম্পূর্ণ মুসলমানদের দেশ। এদেশে সংখ্যালঘুদের থাকার কোনো অধিকার নেই।’ এসময় হিন্দু সমপ্রদায়ের নেতারা মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার শতকরা ১৫ ভাগ হচ্ছে সংখ্যালঘু। সে হিসেবে ২ কোটি ৫০ লাখ সংখ্যালঘু (হিন্দু, বৌদ্ধ, খিস্টান) রয়েছে। এ ধরনের আক্রান্তের কারণে অনেকেই দেশান্তরী হয়েছেন। তারা বলেন, জামায়াতে ইসলামী ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশকে ‘সংখ্যালঘু শূন্য দেশ’ হিসেবে দেখতে চায়। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ও বক্তব্য রাখেন মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির সব সদস্য, বাসুদেব ধর, রানা দাশগুপ্ত, বাদল দেবনাথ, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, অধ্যাপক দুর্গাদাস ভট্টাচার্য, অধ্যাপক দীপক কুমার দাশ, নির্মল চ্যাটার্জি, মনীন্দ্র কুমার নাথ প্রমুখ।