এবারের নববর্ষ নব চেতনায় উদযাপনের আহবান জানিয়েছেন দেশের ১৫ জন বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী। গতকাল বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তারা বলেন, এবারের নববর্ষ উত্সব অনেক বড় দায়িত্ব পালনের তাগিদ দিয়ে হাজির হচ্ছে আমাদের সামনে।
বিবৃতিতে তারা বলেন, আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, স্বাধীন বাংলাদেশের চার দশকেরও দীর্ঘ অভিযাত্রার পর আজ দেশকে আবার ঠেলে দেয়া হচ্ছে ধর্মান্ধ সাম্প্রদায়িক হিংসাত্মক অবস্থার দিকে। পাকিস্তানি আমলের মতো ধর্মকে অবলম্বন করে নানা অজুহাতে সমাজে ফেনিয়ে তোলা হচ্ছে ঘৃণা ও সহিংসতা। যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়া নস্যাত্ করবার জন্য প্রতিক্রিয়ার জোট সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে এবং সহিংস আক্রমণের মধ্যে দিয়ে দেশব্যাপী অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। একাত্তরে গণহত্যা ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচারের কাজ একে একে সম্পন্ন হতে শুরু করলে চিহ্নিত গোষ্ঠী সর্বাত্মক অপতত্পরতায় মেতে উঠেছে। এর বিপরীতে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার পক্ষে নতুন প্রজন্মের অবস্থানের অসাধারণ প্রকাশ ঘটেছে শাহবাগ চত্বর ঘিরে।
বিবৃতিতে বলা হয়, এই পটভূমিকায় মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক মানবিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ শুভবুদ্ধিসম্পন্ন সকল মানুষের ব্যাপকতম জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা বিশেষ জরুরি হয়ে উঠেছে। নববর্ষের সকল উত্সব আয়োজনে ধ্বনিত হোক অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক সহনশীল সম্প্রীতির সমাজ গড়বার প্রত্যয়। সেই লক্ষ্যে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের বিচার অবিলম্বে সম্পন্ন করে সত্য ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠায় জাতির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত হোক উত্সব মঞ্চ থেকে। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন অধ্যাপক জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, সরদার ফজলুল করিম, কবি আবুল হোসেন, ড. আনিসুজ্জামান, ড. মোস্তফা নূরুল ইসলাম, ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, রফিকুল ইসলাম, ড. অজয় রায়, ড. সন্জীদা খাতুন, সৈয়দ শামসুল হক, অনুপম সেন, হাসান আজিজুল হক, কাইয়ূম চৌধুরী, শামসুজ্জামান খান ও রামেন্দু মজুমদার।
