‘জীবনের প্রথম কবিতা ‘আমার দেশ’ লিখেছিলাম ক্লাস টুতে, অনুপ্রেরণা দিয়েছিল আমার আব্বু। তখন থেকেই লেখালেখির হাতেখড়ি। জীবনের প্রথম পুরস্কারটি হাতে উঠেছিল ৪ বছর বয়সে শিশু একাডেমির জাতীয় প্রতিযোগিতায়। এরপর বিভিন্ন সময় আঞ্চলিক ও জাতীয়ভাবে বিভিন্ন পুরস্কার হাতে উঠেছে। এরমধ্যে অন্যতম ৮ম জাতীয় গণিত উত্সবে চ্যাম্পিয়ন হওয়া।’ শুরুর গল্পটা এমনই সিফাতের।
শিশুদের জন্য কিছু করার স্বপ্ন তার তখন থেকেই। এ জন্যই বিভিন্ন সময় ঢাকায় বিভিন্ন প্রোগ্রামে রংপুর জেলা শিশু প্রতিনিধি হয়ে এসেছেনও তিনি। সিফাত বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, একটা শিশুর অধিকার তত দিন পর্যন্ত পূরণ হবে না, যতদিন পর্যন্ত না সেই শিশু নিজে তার অধিকার সম্বন্ধে সচেতন হবে। এ জন্যই যেখানেই যাই চেষ্টা করি সেখানকার শিশুদেরকে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করতে। এ বিষয় নিয়েই আমি ও আমার সংগঠন অ্যাডভোকেসি পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছি।’
সিফাত বিশ্বাস করেন, একজন সৃজনশীল মানুষই পারে উন্নতি সাধন করতে। এ জন্য অবশ্যই তাকে গতানুগতিক ধারা বদলে নিজের তৈরি পথে চলতে হবে। ‘বাধা আসবেই, কিন্তু সেই বাধায় পিছপা না হয়ে যে তার নিজ লক্ষ্যে এগিয়ে যাবে সে-ই নিজেকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে পারবে। পাঠ্যবইয়ের বাইরের জগতটাকে চিনতে শেখা দরকার সবার’, মন্তব্য সিফাতের।
সিফাত চাইল্ড পার্লামেন্টের দশম ও একাদশ অধিবেশন স্পিকার হিসেবে পরিচালনা করেছেন। দশম অধিবেশনের অর্জন ছিল, ‘শিক্ষকগণ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কোচিং ও ব্যক্তিগত পাঠদান থেকে বিরত থাকবেন মর্মে সরকারি নির্দেশনা প্রদান।’ এ ছাড়াও এই মুহূর্তে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শিশুদের তৈরি বিকল্প প্রতিবেদন নিয়ে কাজ করছে চাইল্ড পার্লামেন্ট ও এনসিটিএফ। এর সাথে সিফাতও কাজ করেছেন। চাইল্ড পার্লামেন্ট একটি জাতীয় পর্যায়ের শিশু সংগঠন, যা শিশুদের দ্বারা পরিচালিত এবং বাংলাদেশে শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠায় ২০০৩ সাল থেকে কাজ করে আসছে। এ পর্যন্ত তাদের ১১টি অধিবেশন সম্পন্ন হয়েছে। তাদের এই সংসদ মাঠ পর্যায়ে জরিপ থেকে শুরু করে নিবিড় সাক্ষাত্কার এবং বিভিন্ন সময় নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গের সাথে আলোচনায় বসেছে।
সিফাত তার নিয়মিত এই সংগঠন ছাড়াও অন্যান্য কল্যাণমূলক কাজ, যেমন—শীতবস্ত্র বিতরণ, হাসপাতাল পরিদর্শন, জেলাভিত্তিক শিশুপরিস্থিতি জরিপ, স্কুলভিত্তিক শিশুঅধিকার আলোচনা সভা ইত্যাদি করে চলছেন।
নটরডেম কলেজে প্রথমবর্ষে পড়ছেন তিনি। পড়াশোনার পাশাপাশি সমাজকল্যাণমূলক কাজ করে চলেছেন। ভবিষ্যতে প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার স্বপ্ন তার। আর আজকের অবস্থানে আসতে তার মায়ের অবদান অনেক, এটাও জানালেন আমাদের।
ব্যক্তিগতভাবে তিনি পছন্দ করেন বন্ধু বানাতে। অবসর সময়ে গল্প-কবিতা লেখালেখি করেই সময় কাটে তার। এ ছাড়াও ভালোবাসেন বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে। পরিবারে তার বাবা-মা ও এক ছোট ভাই আছে। ছোটভাইয়ের সাথে খুনসুটি করেই কেটে যায় তার অনেকটা সময়। সিফাতের বাবা জয়নাল আবেদিন সবুজ একজন চাকরিজীবী আর মা সুলতানা রাজিয়া গৃহিণী। ছোটভাই রাগিব শাহরিয়ার সীমান্ত পড়ছে রংপুরের শাহান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে।
‘স্বপ্ন দেখি এক শিশুবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তোলার যেখানে অধিকার নিয়ে থাকবে না কোনো ভেদাভেদ এবং এমন একদিনের অপেক্ষা করি, যেদিন বাংলাদেশের প্রতিটি শিশু হবে আত্মঅধিকার সচেতন’, বললেন সিফাত।
