ফিচার

কোথায় কী বলতে হয় জানি না

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০১৩, ১৮:৪৪
আচ্ছা আমার খাওয়ার স্টাইল কি অনেক বেশি দৃষ্টিকটু? কেউ আমার কথা না শুনেই আমাকে থামিয়ে দিয়ে নিজেরাই কথা বলতে শুরু করে। আমি কি কোথাও কিছু বলতে গেলে আগে প্রস্তুতি নিই? আমি কি কোনো কথা বলার পর সেটা নিয়ে ভাবি? বা আমার চোখে আমার নিজেরই ইমেজ কেমন? এসব প্রশ্ন আমাদের প্রায়ই ভাবায়। এই প্রশ্নগুলো থেকে মুক্তি পেতে হলে প্রথমেই যা প্রয়োজন তা হচ্ছে নিজের উপর আত্মবিশ্বাস। নতুন পরিবেশে প্রায়ই যখন আমরা এই রকমের সমস্যায় পড়ি তখন নিজেকে সামলে উঠা খুবই কঠিন হয়ে পড়ে। এই সমস্যা থেকে মুক্তির লক্ষ্যে এবার কিছু পরামর্শ। সারা জীবন নিজেকে বলে এসেছেন ‘অমুকের’ কারণে আজ আপনার জীবনে এত সমস্যা। অন্যের উপর নিজের জীবনের যাবতীয় দুঃখ-কষ্টের দায় চাপিয়ে দিয়ে নিজের জীবনের দায়িত্ব নিজে নেওয়া থেকে চমত্কারভাবে ফাঁকি দেওয়া যায়! ভুলে যান সব। অতীত অতীতই, এই মুহূর্তে সেটার কোনো অস্তিত্ব নেই। আপনার অতীত হারিয়ে গেছে সময়ের অতল গহ্বরে। যেটার অস্তিত্বই নেই, সেটা আপনার বর্তমান জীবনকে খুব বেশি বিশেষায়িত করে না। অতীত নিয়ে আপনার কিছুই করার নেই। আর যেটা নিয়ে আপনার কিছুই করার নেই সেটা নিয়ে সময় ও শক্তি নষ্ট করার কোনো মানে হয় না—এগিয়ে যান সামনের দিকে, নতুন পরিবেশে মানিয়ে তুলুন নিজেকে। নিজেকে করে তুলন আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী। দেখবেন পরিবেশ খুব সহজেই আপনার হাতের মুঠোয় চলে আসছে। উপরের কথাগুলো হয়তো খুবই নিষ্ঠুর মনে হতে পারে, আবার অনেক বেশি সরলীকরণ মনে হতে পারে। কিন্তু আপনি অতীত নিয়ে পড়ে থাকলেও আপনার জীবন কিন্তু থেমে থাকবে না। জীবন ছুটে চলছে মিনিটে ষাট সেকেন্ড গতিতে। হাত-পা ঝেড়ে উঠে দাঁড়ান। গতকাল কী ঘটে গেছে, সেটা নিয়ে আপনি কিছু করতে পারবেন না। জেগে উঠুন জেগে উঠুন বা পোষ মানান নিজের ভেতরের দানবটিকে। দানব বলতে বোঝানো হচ্ছে আপনার ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা কণ্ঠটি যেটি আপনি কিছু করতে গেলেই সব সময় পেছন থেকে বলতে থাকে, ‘তুমি এই কাজটা করতে পারবে না।’ আপনি নিজেই এই দানবটাকে চেনেন। আপনি মনে করতে পারেন আপনি এই দানবটাকে ঘৃণা করেন, আসলে কিন্তু তা নয়। আপনি একে ভালোবাসেন। এমনকি আপনি এই দানবটাকে আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করতেও দিচ্ছেন। এটা যা বলে আপনি তাই করেন। যখনি আপনি কিছু করতে চান, পেতে চান আপনি আগে আপনার ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা দানবটির পরামর্শ নেন, দেখতে চান সে কি এটা বলে কিনা—‘তুমি এটা করতে পারবে না, এটা পেতে পারবে না!’ অতীতে আপনার বাবা-মা, শিক্ষক কিংবা অন্য কেউ আপনাকে যখনই বলেছে আপনি কিছু করতে পারবেন না, তখনই এই দানব সেই কথাগুলো জমা করে ফেলেছে। এবং যখনই আপনি নতুন কিছু করতে যাবেন এই দানবটি সেই নেগেটিভ কথাগুলো আপনার দিকে ছুঁড়ে দিবে। আপনাকে পিছিয়ে দেওয়াই এর লক্ষ্য। তাই এই দানবটিকে নিজের পোষ মানান, মানে নিজের মন কে নিজের জন্য তৈরি করুন শক্তভাবে। জীবনে সাফল্য লাভের কিছু উপায় কঠোর পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই। যেকোনো কাজে সাফল্য পেতে হলে অবশ্যই কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। কাজের প্রতি আগ্রহ থাকতে হবে। যাই করি না কেন, তা আগ্রহ নিয়ে, নিজের ইচ্ছায় করতে হবে। জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ হচ্ছে সততা। চিন্তা, কথা ও কাজে সর্বদা সত্ থাকতে হবে। নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মধ্যে আনন্দ রয়েছে। কাজের প্রতি নিষ্ঠা ও একাগ্রতা থাকতে হবে, আন্তরিকতার সঙ্গে মন থেকে মেনে না নিলে সেই কাজে সাফল্য আসে না। জীবনে সাফল্য আনতে হলে আগে নিজের ওপর বিশ্বাস আনতে হবে। আত্মবিশ্বাস একজনকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। কোথাও সাফল্য পাওয়ার পূর্ব শর্ত হচ্ছে সেখানে উদ্যম খুঁজে পাওয়া, যেকোনো ভালো কাজে উদ্যম নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। বর্তমানের সঙ্গে সঙ্গে দূরদর্শী হতে হবে। নিজের মধ্যে ভবিষ্যত্ নিয়ে স্বপ্ন দেখার ক্ষমতা তৈরি করতে হবে।