চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
চাঁপাইনবাবগঞ্জে গতকাল শুক্রবার বিশ্ব পানি দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা জিবাস ও এসেডোর সহযোগিতায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, এনজিও ফোরাম ফর পাবলিক হেল্থ রাজশাহী, ইউনিক, পানি ও স্যানিটেশন কর্মসূচি-বিশ্ব ব্যাংক ও ওয়াস এলায়েন্স বাংলাদেশ যৌথভাবে এক সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করে। সিম্পোজিয়াম শুরুতে মহামান্য রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান স্মরণে দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
আন্তর্জাতিক পানি সহযোগিতা বর্ষ-২০১৩ সাম্যতা ভিত্তিক পানি সহযোগিতা ঃ স্থানীয় বাস্তবতা শীর্ষক সিম্পোজিয়ামে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল ইসলাম। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল ওয়াদুদের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মমতাজ মহল, মুক্তিযোদ্ধা সিনিয়র সাংবাদিক মো. তসলিম উদ্দিন, সাংবাদিক ডাবলু কুমার ঘোষ, এনজিও ফোরাম রাজশাহী আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান প্রমুখ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এগ্রিকালচার সাস্টেইনেবল এন্ড সোসিও ইকোনোমি ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসেডো)’র নির্বাহী পরিচালক রবিউল আলম।
বক্তারা বলেন, একদিকে ভূ-গর্ভস্থ পানির অধিক ব্যবহার অন্যদিকে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ার কারণে পানির স্তর দিনদিন ভয়াবহ হারে নিচে নেমে যাচ্ছে। শুষ্ক মওসুমে নদীনালা খালবিল, পুুকুরে পানি থাকে না। ফলে এই অঞ্চলের পরিবেশের উপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। এমতাবস্থায় সুপেয় পানি হিসেবে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, সরকারি বেসরকারি পুকুরগুলো মাছ চাষে ব্যবহার না করে সেই পানি পান করার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ ছাড়া নদীনালা, খালবিলের পানি সংরক্ষণ করে তা সেচসহ অন্যান্য কাজে ব্যবহার করার উপরও তারা তাগিদ দেন। বক্তারা বলেন, চাহিদার তুলনায় বিশুদ্ধ পানি পাওয়া যাচ্ছে না। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, এই জেলায় আর্সেনিক একটি বড় সমস্যা। শতকরা হারে সদর উপজেলায় ৩০.৪৮, শিবগঞ্জ ১৯.০২, গোমস্তাপুর ১১.৬০, নাচোল ২.৮১ ও ভোলাহাট উপজেলায় ৪.০৯ ভাগ টিউবওয়েলে আর্সেনিক রয়েছে। দিনদিন আর্সেনিকের ভয়াবহতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি বলেন, এই জেলায় প্রচুর পরিমাণে সেচ কাজের মাধ্যমে ফসল উত্পাদন করায় পানিস্তরের সমস্যাও প্রকট আকার ধারণ করছে। ভূ-গর্ভস্থ পানি অধিকমাত্রায় উত্তোলনের ফলে খরায় পানির স্তরও নিচে নেমে যাচ্ছে। বিগত কয়েক বছরে পানির স্তর সদর উপজেলায় ৯১ ফুট, শিবগঞ্জ উপজেলায় ৪২, নাচোল ১২১, গোমস্তাপুরে ১৪৩ ও ভোলাহাট উপজেলায় সর্বোচ্চ ৭০ ফুট পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। যার ফলে হস্তচালিত নলকূপগুলি প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। একই কারণে বন্ধ হয়ে যায় ৮০ ফুট হাউজিংয়ের তারা ডেভহেড নলকূপ। শুধুমাত্র মডিফাইড তারা ডেভহেড নলকূপ স্থাপনের মাধ্যমে বিকল্প ব্যবস্থায় পানি সরবরাহ করা হয়।
