গত ১৭ মার্চ ছিল এক উজ্জ্বল দিন। জাতীয় শিশু দিবস। এদিন জন্মগ্রহণ করেন আমাদের প্রাণপ্রিয় মহান নেতা, জাতির পিতা, বাংলাদেশ নামক স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্মদাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া গ্রামের শেখ পরিবারে ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ তাঁর জন্ম হয়। তাঁর ডাকনাম ছিল খোকা। তিনি ছিলেন একজন প্রতিভাবান ব্যক্তি। প্রতিভাবান ব্যক্তি পৃথিবীতে প্রতিদিন আসেন না। কালেভদ্রে জন্মগ্রহণ করেন। তাই নির্দ্বিধায় বলা যায়, একজন প্রতিভাবন ব্যক্তি সবসময় দেশ ও জাতির গৌরব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনকে জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন।
বঙ্গবন্ধু ছিলেন বিশাল হূদয়ের এক মহান সুহূদ মানুষ। তাঁর সুন্দর হূদয়ের সান্নিধ্যে মানবজীবন আনন্দ ও সার্থক হয়ে উঠতো। তাঁর আচার-আচরণ, কথা-বার্তায় সুখকর অনুভূতি সঞ্চারিত হয়ে হূদয়ে উত্তাপ সঞ্চার করতো। তাঁর কর্মকাণ্ডে ছিল কল্যাণের স্পর্শ। তিনি অন্যায়-অবিচার, জেল-জুলুম নির্যাতনের কাছে কখনো মাথা নত করেননি। তিনি দেশকে জীবন দিয়ে ভালোবাসতেন। স্বদেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ। প্রকৃত মুমিন সেই ব্যক্তি যিনি জন্মভূমিকে ভালোবাসেন। দেশের স্বার্থরক্ষায় কাজ করেন।
বঙ্গবন্ধু শিশুদের অনেক ভালোবাসতেন। আগামীতে দেশ গড়ার নেতৃত্ব দেবে এই শিশুরাই। জ্ঞান-গরিমায় সৃজনশীল মুক্তমনের মানুষ হয়ে তারা দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে এটাই ছিল তাঁর চাওয়া। শিশুরা ফুলের মতো নিষ্পাপ। তাদের সান্নিধ্যে মনকে করে উত্ফুল্ল, অবসাদমুক্ত। শিশুদের প্রকৃত মানুষরূপে গড়ে তুলতে হবে। শিশুরা অনুকরণপ্রিয়। ছোটবেলায়ই তাদের জীবনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য কী তা তাদের শিখাতে হবে। ধর্মীয় নিয়ম-কানুন, আদব-কায়দা, শিষ্টাচার, বিনয়, ভদ্রতা, নম্রতা, নিয়মানুবর্তিতা, দয়া, সহানুভূতি ইত্যাদি তাদের ভেতর জাগ্রত করে তুলতে হবে, যা করবেন শিক্ষকগণ। পিতা-মাতার পরই যাদের স্থান। ইসলামের চতুর্থ খলিফা হযরত আলী (রা.) বলেছেন, যার কাছে আমি একটি শব্দও শিখেছি আমি তার দাস। শিক্ষা হলো মানুষের শরীর, মন ও আত্মার সমন্বিত বিকাশ সাধন। শিক্ষার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি সত্, চরিত্রবান, খোদাভীরু, দেশপ্রেমিক, দায়িত্বশীল ও সুনাগরিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারে।
ইলম বা জ্ঞানের গুরুত্ব ইসলামে এত বেশি যে, মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআন নাজিলের সূচনা করেছেন পড়ুন (ইকরা) শব্দ দ্বারা। পড়ার মাধ্যমে জ্ঞানার্জন হয় বিধায় মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটাতে এবং পরিপূর্ণ মানুষরূপে গড়ে উঠতে জ্ঞানচর্চা অপরিহার্য। কথায় বলে—
একটি আলোর কণা দিয়ে
লক্ষ প্রদীপ জ্বলে
একটি শিশু শিক্ষা পেলে
বিশ্বজগত্ মেলে।
প্রত্যেক শিশুর মধ্যে স্নেহ, মমতা ও ভালোবাসার চাহিদা থাকে। প্রত্যেক শিশু চায় সফলতা। তাই শিশু পরিচালনায় শিশুর মনোস্তাতিক চাহিদা পূরণ করা ও শিশুকে সুখী করার বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে। শিশু সন্তানদের আখলাকে জামিমাহ অর্থাত্ নিন্দনীয় স্বভাবের পরিবর্তে আখলাকে হামিদাহ অর্থাত্ সুন্দর চরিত্র তথা সততা, সত্যবাদিতা, মানবসেবা, দয়া, ক্ষমা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ইত্যাদি শিক্ষায় জ্ঞান দান করতে হবে। তবেই শিশু সন্তান গড়ে উঠবে আদর্শ সন্তানরূপে, যা সকল মা-বাবার দায়িত্ব ও কর্তব্য।
তাই জাতীয় শিশু দিবসে তাদের (বাবা-মা) উদ্দেশে একটু বলতে চাই, আমাদের সকলের উচিত আমাদের সন্তানদের সুশিক্ষা দেয়া এবং সুপথে পরিচালিত করা, যা ঘর থেকেই শুরু হতে হবে। তবেই আদর্শ জাতি হিসেবে পৃথিবীর বুকে আমরাই হব অনুকরণীয় ও অনুসরণীয়।
লেখক : ব্যাংকার
