বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট চলছে বান্দরবানে। দুর্গমাঞ্চলের প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় এই সংকট আরো প্রকট আকার ধারণ করেছে। এসব এলাকার পানির উত্সগুলো ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় নদী ও ঝর্নার ঘোলা পানি ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে পাহাড়িরা। আর এ পানি পান করে অধিকাংশ পাড়ায় দেখা দিয়েছে ডায়রিয়াসহ নানা ধরনের পেটের পীড়া। পাতকূয়ার পাথর সরিয়ে সরিয়ে ছেঁকে ছেঁকে নিতে হচ্ছে বিশুদ্ধ খাবার পানি। পাতকূয়ার পাথরের মধ্যে জমে থাকা স্বচ্ছ এবং বিশুদ্ধ পানি শুষ্ক মৌসুমের একমাত্র ভরসা। আর পাহাড়ের চূড়ার বাসিন্দাদের পানির উত্স ঝর্ণাধারা। কিন্তু প্রকৃতি ধ্বংস করে নির্বিচারে বনাঞ্চল উজাড় এবং ঝিড়ি-ঝর্না থেকে পাথর উত্তোলনের কারণে বান্দরবানে পানির উত্সগুলো প্রতিনিয়ত হারিয়ে যাচ্ছে। গত একদশকে বান্দরবান জেলায় ছোট-বড় কয়েকশ’ পানির ঝর্নাধারা সম্পূর্ণ শুকিয়ে গেছে।
ছড়া এবং খালের দূষিত পানি ব্যবহারের কারণে দুর্গম পাহাড়ি গ্রামগুলোতে শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ আক্রান্ত হয় ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত বিভিন্ন রোগে। এদিকে দুর্গম অঞ্চলে পানির চাহিদা মেটাতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরসহ স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা নির্মিত সহস্রাধিকেরও বেশি রিংওয়েল ও টিউবওয়েল অকার্যকর অবস্থায় পড়ে রয়েছে। জিএফ পাইপ লাইনের মাধ্যমে দুর্গম অঞ্চলে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নেয়া কয়েক কোটি টাকার প্রকল্পও কাজে আসেনি। এমনকি জেলায় পানির চাহিদা কতটুকু সেটিও জানাতে পারেনি কর্মকর্তারা। তবে চাহিদার বিপরীতে শতকরা ২৫% বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানিয়েছে জনস্বাস্থ্য বিভাগ। বান্দরবান জনস্বাস্থ্য বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সোহরাব হোসেন জানান, ভূ-প্রকৃতিগতভাবে বান্দরবান জেলায় পানির স্তর অনেক নীচে নেমে গেছে।
