পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করেছেন এক আইনজীবী। গতকাল শুক্রবার এই মামলার শুনানির জন্য সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি বেঞ্চ গঠন করা হয়েছে। আগামী সোমবার এই মামলার শুনানি হবে। এদিকে গতকালই একটি নির্বাচনী আসনে মোশাররফের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। এর ফলে তার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। খবর ডন-এর।
মোশাররফের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ২০০৭ সালে অবৈধভাবে জরুরি অবস্থা জারি করেছিলেন। লাহোর হাইকোর্টের রাওয়ালপিন্ডি বেঞ্চ আইনজীবী সমিতির সভাপতি তৌফিক আসিফ দেশটির সংবিধানের ৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। আইনজীবী তৌফিক আসিফ এই খবরের সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, প্রধান বিচারপতি ইফতিখার মুহাম্মদ চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি বেঞ্চ গঠন করা হয়েছে মামলার শুনানির জন্য। এছাড়া নওয়াজ শরীফের পাকিস্তান মুসলিম লীগের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জাফরুল্লাহ মোশাররফকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করার জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন করেছেন। মোশাররফের বিরুদ্ধে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো হত্যা মামলাসহ চারটি মামলা রয়েছে।
পারভেজ মোশাররফ আগামী ১১ মে অনুষ্ঠেয় জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে চারটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এগুলো হলো করাচি, ইসলামাবাদ, ছিত্রল এবং পাঞ্জাব প্রদেশের কাসুর। গতকাল আইনজীবী জাভেদ কাসুরি নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ করেন সংবিধানের ৬২ ও ৬৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মোশাররফ কাসুর আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন না। ওই এলাকার রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ সালিম জাভেদ কাসুরির অভিযোগ গ্রহণ করে মোশাররফের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। মোশাররফের দল অল পাকিস্তান মুসলিম লীগের তথ্য সম্পাদক আশিয়া ইসহাক জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করা হবে। দীর্ঘ সাড়ে চার বছর স্বেচ্ছানির্বাসন শেষে গত ২৪ মার্চ দেশে ফেরেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জেনারেল মোশাররফ।
