২০১৩-১৪ অর্থবছরের বাজেটে গাড়ি আমদানিতে শুল্কায়নের ক্ষেত্রে সিসি স্তর পুনর্বিন্যাসের দাবি জানিয়েছে পুরাতন গাড়ি আমদানিকারকদের সংগঠন বারভিডা। তাদের দাবি অনুয়ায়ী ১৫০০ সিসি পর্যন্ত ৩০ শতাংশ, ১৫০১ থেকে ২৫০০ সিসি পর্যন্ত ১০০ শতাংশ, ২৫০১ থেকে ৪০০০ সিসি পর্যন্ত ১৫০ শতাংশ, ৪০০০ সিসি’র ঊর্ধ্বে ২৫০ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ করার কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে ১৫০০ সিসি পর্যন্ত গাড়ি আমদানিতে ৪৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়। ১৫০১ থেকে ১৭৫০ সিসি পর্যন্ত ১০০ শতাংশ, ১৭৫১ থেকে ২০০০ সিসি পর্যন্ত ১৫০ শতাংশ, ২০০১ থেকে ২৭৫০ সিসি পর্যন্ত ২৫০ শতাংশ, ২৭৫১ থেকে ৪০০০ সিসি পর্যন্ত ৩৫০ শতাংশ এবং ৪০০০ সিসি’র ঊর্ধ্বে ৫০০ শতাংশ হারে শুল্ক বিদ্যমান রয়েছে। বারভিডার দাবি, সিসি স্তর পুনর্বিন্যাস হলে বর্তমান একচেটিয়া বাজার ব্যবস্থা হতে ভোক্তা নিষ্কৃতি পাবে।
গাড়ির আমদানি মূল্যকে যুক্তিসঙ্গত করতে আমদানিকৃত দেশের (জাপান) প্রকাশিত ইয়েলো বুকে উল্লেখিত গাড়ির বছরওয়ারি দামকে ন্যূনতম ভিত্তি মূল্য হিসাবে গ্রহণ করা বা ইয়েলো বুকের নতুন মূল্য হতে ২৫ শতাংশ ট্রেড ডিসকাউন্ট ও ১০ শতাংশ অবচয় প্রদান করে শুল্কায়নের জন্য ন্যূনতম শুল্কায়ন মূল্য নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়। এছাড়া মাইক্রোবাসের সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার ও নতুন গাড়ির ন্যায় হাইব্রিড রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রেও সমান সুযোগ দেয়ার দাবি করা হয়।
বারভিডা নেতাদের দাবি, বৈষম্যমূলক শুল্কস্তরের কারণে গত কয়েক বছর ধরে পুরাতন গাড়ি আমদানি কমছে। ফলে সরকারের রাজস্ব আয়ও কমে গেছে। তারা তথ্য দিয়ে বলেন, গত ২০০৯-১০ অর্থবছরে এ খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আয় ছিল ৩ হাজার ৭৬ কোটি টাকা, পরের অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ২ হাজার ২৭৬ কোটি টাকা, গত ২০১১-১২ অর্থবছরে ১ হাজার ৩০৫ কোটি আর চলতি অর্থবছরে তা এক হাজার কোটি টাকাও হবে না।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান গোলাম হোসেনের সভাপতিত্বে বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন বারভিডার সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক চৌধুরী বাবর। সংগঠনের সাবেক সভাপতি আব্দুল হক বলেন, গত কয়েক বছরে পুরাতন গাড়ি আমদানিকারকদের উপর অবিচার করা হয়েছে। মন্ত্রীর কাছে গিয়েও প্রতিকার পাওয়া যায়নি। জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান গাড়ির মূল্যায়ন প্রক্রিয়াকে যুক্তিসঙ্গত করার আশ্বাস দেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, কারনেট সুবিধায় আসা উচ্চমূল্যের ব্র্যান্ডের ৩০০ গাড়ি হাওয়া হয়ে গেছে। এখন থেকে এ সুযোগ দেয়া হবে না বলে জানান তিনি।
আলোচনায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বারডিভার সভাপতি হাবিব উল্লাহ ডন, সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হামিদ শরিফ, এনবিআর সদস্য ফরিদ উদ্দিন, প্রধান বাজেট সমন্বয়কারী আল আমিন প্রামাণিক প্রমুখ।
