চট্টগ্রামে ইসলামী চত্বরে নাস্তিকদের ফাঁসির দাবি

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৫৭
চট্টগ্রামে ইসলামী চত্বরে তৌহিদী জনতার উপস্থিতিতে জনস্রোতের সৃষ্টি হয়। শুক্রবার সকাল থেকে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত হেফাজতে ইসলামের কর্মী-সমর্থকরা নিদ্রাহীন সময় পার করেন। মুখে আল্লাহর ধ্বনী এবং হাতে তসবিহ নিয়ে হেফাজত কর্মী-সমর্থকগণ নগরীর ওয়াসা মোড়সহ তত্সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান নেন। দিনের প্রখর রোদ এবং রাতের আলো-আঁধারের মধ্যেও ওলামা-মাশায়েখের বয়ান শুনে নির্ঘুম রাত অতিবাহিত করেন হেফাজতের কর্মীরা। শুধু হেফাজতে ইসলামের লোকজন নয়, নগরীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা সাধারণ লোকজনও ওয়াসা মোড়ের ইসলামী চত্বরে সামিল হয়েছে। অনেকে ক্লান্ত হয়ে নগরীর হাইওয়ে লেবেল রোডের সড়কে শুয়ে পড়লেও আবার ওলামা-মাশায়েখের বয়ানের এক পর্যায়ে জিকির শুরু হলে জেগে উঠে। আল্লাহ-রসুলের বিরুদ্ধে কটূক্তিকারী ও অবমাননাকারীদের বিরুদ্ধে ফাঁসির দাবিতে শ্লোগানে শ্লোগানে প্রকম্পিত হতে থাকে এলাকা। শুধু দিনে নয়, রাত যত গভীর হতে থাকে শ্লোগানের ব্যাপ্তি বহুদূর ছাড়িয়ে যায়। শুক্রবার সকালে ঢাকায় লংমার্চে যাওয়ার জন্য ওয়াসা মোড়ে জমায়েত হওয়া হেফাজতের কর্মী সমর্থকগণ বাস না পাওয়ায় ঘোষিত ইসলামী চত্বরে অবস্থান করে তাদের প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে। চিড়া, মুড়ি, তসবিহ, জায়নামাজ নিয়ে লংমার্চের জন্য আসা হেফাজতের লোকজন গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় সেই মুড়ি-চিড়া নিয়েই নিজ নিজ আবাসস্থলে ফিরে যান। গত দুইদিনে তাদের মুড়ি-চিড়া খেতে হয়নি। চত্বরে খাবার ও পানির কোনো কমতি ছিল না। নগরীর বিভিন্ন বিত্তবান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের খাবার ও পানি সরবরাহ করা হয়। গত শুক্রবার সকাল থেকে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ইসলামী চত্বরে অবস্থানের পর মুফতি জসীম উদ্দিন ঢাকা থেকে পাঠানো ঘোষণাপত্র পাঠ করার মধ্যদিয়ে চট্টগ্রামে হেফাজতে ইসলামের দুইদিনের শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচির সমাপ্তি হয়। গত দুইদিনে ৫ শতাধিক ওলামা-মাশায়েখ ইসলামী চত্বরে ইসলামের বিভিন্ন দিক নিয়ে বয়ান করেন বলে জানানো হয়। এই সময় হেফাজতে ইসলামের কর্মী-সমর্থকগণ ছাড়াও বিপুল পরিমাণ সাধারণ তৌহিদী জনতা অংশগ্রহণ করেছেন বলে উদ্যোক্তারা জানান। সমাবেশে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ, ড্যাবসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তাই প্রথম দিনের তুলনায় দ্বিতীয় দিন জনস্রোত সৃষ্টি হয়। নগরীর জিইসি মোড় থেকে লালখান বাজার ইস্পাহানী মোড়। অপরদিকে কাজীর দেউড়ী থেকে চট্টেশ্বরী মোড় পর্যন্ত জনসমাগমের জন্য সড়ক বন্ধ রাখা হয়। হেফাজতে ইসলামের নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে আল্লাহর রসুলের ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস বিষয়ক ধারা সংবিধানে পুনঃস্থাপন, আল্লাহ রসুলের অবমাননাকারীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান সম্বলিত ধারা সংবিধানে সংযোজনসহ ১৩ দফা দাবি জানাতে থাকেন। বিকালে ঢাকার মহাসমাবেশ থেকে সোমবার হরতাল এবং ৫ মে ঢাকা ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা দেয়ার সাথে সাথে ওয়াসা চত্বর থেকে হরতাল ও ঢাকা ঘেরাও-এর পক্ষে শ্লোগান দেয়া হয়। অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে দুপুরে নগরীতে তাদের সমর্থনে মটর সাইকেল মহড়াও চলতে থাকে। হেফাজতে ইসলামীর সাংগঠনিক সম্পাদক বিকালে ইত্তেফাককে জানান, ঢাকা থেকে কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছে; কিন্তু হেফাজত কর্মী-সমর্থকগণ অবস্থান ছাড়তে রাজি হচ্ছে না। পরবর্তীতে ঢাকা থেকে আমীর শাহ আহমদ শফীর নির্দেশনার প্রেক্ষিতে মাগরিবের নামাজের পূর্বক্ষণে চট্টগ্রামের অবস্থান কর্মসূচি সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। এরপর হেফাজতের নেতা-কর্মী সমর্থকরা মাগরিবের নামাজ পড়ে শ্লোগান দিতে দিতে নিজ নিজ এলাকায় চলে যান। হেফাজত কর্মী-সমর্থকগণ শাহরিয়ার কবির, মুনতাসির মামুন, অধ্যাপক জাফর ইকবাল ও ডা. ইমরান এইচ সরকারকে এক দড়িতে ফাঁসির দাবি করে শ্লোগান দেন।