প্র জ ন্মে র এ ক জ ন

চীনের ফার্স্ট লেডির সফট পাওয়ার

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০১৩, ১৯:৩১
বহির্বিশ্ব চীনের ফার্স্ট লেডিকে তার নতুন ভূমিকায় প্রথম দেখে গেছে মস্কোয়—গাঢ় রঙের ট্রেঞ্চকোট আর হাল্কা নীল মাফলার পরে, হাতে একটা সহজ-সরল হাতব্যাগ। এভাবেই শি চিনপিংয়ের পাশে দেখা যায় পেং লিইউয়ানকে। সাধারণত চীনের গণমাধ্যমে দেশের ফার্স্ট লেডিকে নিয়ে তেমন আলোকপাত করা হয় না। তবে এবার এর ব্যতিক্রম দেখা গেছে। চীনের প্রায় সব রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্রে প্রেসিডেন্ট জিনপিং ও লিইউয়ানের ছবি ফলাও করে ছাপানো হয়। গ্লোবাল টাইমস পত্রিকার সম্পাদক হু শিজিংয়ের মতে, এই দৃশ্য চীনাদের খুশি করেছে। কারণ, এমন দৃশ্যের জন্য তারা দীর্ঘদিন ধরেই অপেক্ষা করছিল। রাশিয়ায় যখন রাষ্ট্রীয় অভ্যর্থনা জানানো হচ্ছিল, তখন লিইউয়ানের মুখে ছিল হাসি। মূলত লিইউয়ানের এই হাসি এবং স্টাইল ছিল চীনের সামাজিক যোগাযোগের ব্যবহারকারীদের প্রধান আকর্ষণ। পেং লিইউয়ান অবশ্য আগে থেকেই নিজ দেশে ব্যাপক জনপ্রিয়। গায়িকা হিসেবে তার খ্যাতি রয়েছে। সম্প্রতি পেং-কে নিয়ে ইন্টারনেটে আলোড়ন চলছে। চীনের মানুষ তার সৌন্দর্য, তার সৌজন্য, তার মিষ্টতায় মুগ্ধ। ফ্যানরা তাকে মিশেল ওবামা কি কার্লা ব্রুনি-সার্কোজির সঙ্গে তুলনা করতে শুরু করেছেন। পেং-এর পোশাক-আশাক নিয়েও কৌতূহলের সীমা নেই। তিনি কোন ধরনের জামাকাপড় পরেন, সে খবর এবং ছবি এই ইন্টারনেটের যুগে স্বভাবতই খুব সহজেই ছড়িয়ে পড়ে। তার ওপর পেং আবার সকলকে চমকে দিয়েছেন এই কারণে যে, তিনি অন্য চীনা নেতাদের সহধর্মিণীদের মতো পশ্চিমী ডিজাইনারদের তৈরি ড্রেস না পরে, চীনের ফ্যাশন ডিজাইনারদের ড্রেস পরাই পছন্দ করেন। এর আগে চীনের ফার্স্ট লেডিরা কিছুটা রাজনৈতিক ঘেরাটোপের মধ্যে থাকতেন, বলা চলে। তারও একটা ইতিহাস আছে : চেয়ারম্যান মাও-এর চতুর্থ স্ত্রী জাং চিং কুখ্যাত ‘চারের গোষ্ঠী’র নেত্রী হিসেবে চীনের তথাকথিত সাংস্কৃতিক বিপ্লবের জন্য বহুলাংশে দায়ী ছিলেন। তাই তখন থেকেই ফার্স্ট লেডিদের সম্পর্কে চীনের মানুষেরা কিছুটা সতর্ক। কিন্তু গ্ল্যামারাস পেং লিইউয়ান সম্বন্ধে নয়। তিনি নাকি বিশ্বে চীনের ‘সফট পাওয়ার’ ছড়াতে সাহায্য করবেন, বলে কিছু ভাষ্যকারের বিশ্বাস। আবার চীনা নেতৃত্বের ‘নরম দিকটা’ তুলে ধরাও তার কাজ হবে। পেং ১৮ বছর বয়সে চীনা ‘গণমুক্তিফৌজে’ যোগদান করেন এবং আজও তিনি সেনাবাহিনীর একজন মেজর জেনারেল। ইন্টারনেটে পেং-কে সেনাবাহিনীর একটি গোষ্ঠীর জন্য গান গাইতে দেখা যাবে, যারা ১৯৮৯ সালে বেইজিংয়ের স্বর্গীয় শান্তির চত্বরে গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমনে নিযুক্ত ছিল। গায়িকা হিসেবে ফার্স্ট লেডির আত্মপ্রকাশ ১৯৮২ সালে। গায়িকা হিসেবে পেং-এর আত্মপ্রকাশ ১৯৮২ সালে, টেলিভিশনে একটি নববর্ষের অনুষ্ঠানে। সে সময় থেকেই লোকগীতি এবং দেশপ্রেমের গান গেয়ে তিনি চীনের মানুষের হূদয় জয় করে নিয়েছেন। কিন্তু তার স্বামীর রাষ্ট্রপ্রধান হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেওয়ার পর, পাদপ্রদীপের আলো থেকে মোটামুটি নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন পেং লিইউয়ান। অন্যান্য ফার্স্ট লেডির মতো পেং-কেও চ্যারিটির ক্ষেত্রে পাওয়া যাবে। যেমন তিনি এইডস প্রতিরোধে বিশেষভাবে সক্রিয়। ২০১১ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংগঠন ডব্লিউএইচও পেং-কে এইচআইভি ও যক্ষ্মার বিরুদ্ধে সংগ্রামে বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ করে। তবে গ্ল্যামারাস পেং সম্পর্কে অনেক বিশ্লেষকের মত হলো, তিনি বহির্বিশ্বে চীনের ‘সফট পাওয়ার’ প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখতে পারেন।