‘ভাই, এ গাড়ির আয়ে আমার সংসার চলে। গাড়িটা পুড়িয়ে দিয়েন না। আমার পরিবার না খেয়ে মারা যাবে।’ গত ২৫ মার্চ জামায়াতে ইসলামীর হরতালে নিজের ইজিবাইকে আগুন ধরিয়ে না দিতে এভাবেই আকুতি করেছিলেন মো. মুসা। কিন্তু তার আকুতিতে মন গলেনি পিকেটারদের। চট্টগ্রামের চাঁদগাঁও থানার এক কিলোমিটারে নূরনগর হাউজিংয়ের কাছে লাথি মেরে মুসাকে রাস্তায় ফেলে দিয়ে তার ইজিবাইকে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় পিকেটাররা। জীবন বাজি রেখে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন মুসা। এ সময় আরেক পিকেটার আগুনের তীব্রতা বাড়ানোর জন্য পুনরায় পেট্রোল ঢালেন। পেট্রোল এসে পড়ে মুসার গায়ে। মুহূর্তে আগুন মুসার সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে পুড়ে যায় তার দেহের বেশিরভাগ অংশ। ইজিবাইকটিও পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল বার্ন ইউনিটে চিকিত্সাধীন মুসা গত শনিবার রাতে মারা যান।
আট ভাই-বোন ও অসুস্থ পিতার ভরণপোষণসহ যাবতীয় ব্যয় নির্বাহের ভার ছিল মুসার ওপর। গতকাল মুসার বাবা জানান, সম্প্রতি তার গলায় অপারেশন হয়েছে। চিকিত্সকরা তাকে কাজ কর্ম থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। তিনি বলেন, প্রতিদিন আমার ৫০ থেকে একশ টাকার ওষুধ লাগে। মেঝো ছেলে হানিফ কলেজে, মেয়ে বিবি রহিমা, এসএসসি পরীক্ষার্থী, মেঝো মেয়ে বিবি খোদেজা ৮ম শ্রেণির ছাত্রী, ছোট মেয়ে বিবি রাবেয়া ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী ও ছোট ছেলে মোহাম্মদ হোসেন পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। তাদের পড়াশোনার খরচ দিতো মুসা।
ওই রাতেই সংজ্ঞাহীন মুসাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। ১১ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে গত শনিবার রাতে মুসা মারা যান। গতকাল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে মুসার লাশের ময়না তদন্ত হয়। পরে তার লাশ চট্টগ্রামের বাকুলিয়া থানার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়াজেরপাড়ার বাসায় নেয়া হয়। লাশ পৌঁছার পর তার বাবা-মা ও ভাই বোনের কান্নায় পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে। এলাকার লোকজন মুসার লাশ এক নজর দেখার জন্য ভিড় জমায়। রাতেই স্থানীয় কবরস্থানে মুসাকে দাফন করা হয়। চাঁদগাঁও থানার ওসি বাবুল গনি জানান, এ ঘটনায় এসআই মেহেদী হাসান বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মুসা হত্যাকাণ্ডে জড়িত এ পর্যন্ত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পলাতকদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলে তিনি জানান।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ওয়াজিউদ্দিন খান ও সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী গতকাল এক যুক্ত বিবৃতিতে মো. মুসার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং তার হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবি জানান।
