শিক্ষার্থী তার প্রধান শিক্ষকের কাছে জানতে চাইলো, বুধবারের পরীক্ষা কবে হবে? প্রধান শিক্ষক বললেন, আগাম বলা যাচ্ছে না, পত্রিকা দেখে সুবিধাজনক সময়ে তা নির্ধারণ করা হবে। এধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে দেশের প্রায় প্রতিটি শিক্ষাঙ্গনের শিক্ষকদের। কারণ হরতাল ও রাজনৈতিক নানা কর্মসূচির কারণে শিক্ষারুটিনেও তাল মিলিয়ে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। সেভাবেই অভ্যস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। ক্লাস কিংবা পরীক্ষার নির্ধারিত তারিখ ঠিক রাখা যাচ্ছে না।
অপরদিকে নিত্য প্রয়োজনীয় কাজকর্মের জন্য মানুষ নিয়মিত টেলিভিশন দেখে ও পত্রিকা পড়ে সেভাবেই খাপ খাইয়ে চলছেন। কবে কোথায় হরতাল, অবরোধ, সমাবেশ -এসব তথ্য জানার পর দৈনন্দিন কর্মসূচি নির্ধারণ করছেন তারা। রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে কখনো কখনো পাল্টে নিতে হচ্ছে বিয়ে-সাদীসহ পারিবারিক আচার-অনুষ্ঠানের সময়সূচিও। হরতাল- অবরোধের ভয়ে এক জেলা থেকে দূরবর্তী অন্য জেলায় জরুরি প্রয়োজনেও মানুষ যেতে চাচ্ছে না।
একইভাবে ব্যবসায়ীদের পণ্য পরিবহনের অভ্যাসেও এসেছে পরিবর্তন। কারখানায় মালের ওর্ডার নেয়া এবং মালামাল ডেলিভারি দেয়ার ব্যাপারেও তারা দৃষ্টি রাখছেন রাজনৈতিক কর্মসূচির উপর। কবে হরতাল কিংবা অবরোধ তা আগেভাগে জানতে পারলে গুরুত্ব অনুসারে সিডিউল এগিয়ে পিছিয়ে নিচ্ছেন। সাধারণ মানুষ হরতালের দিনে নির্ধারিত কাজকর্ম গুটিয়ে ফেলেছেন। বরং এসব কর্মসূচির শেষে সারাদিনের খবর শোনার ব্যাপারেই তাদের আগ্রহ বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
