পৃথক ইস্যুতে হেফাজতে ইসলাম ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলের ডাকা তিনদিনের হরতাল আহ্বানে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পোশাক শিল্পের দুই শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ। সংগঠন দুটি বলছে, হরতালের কারণে রফতানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থে হরতাল বা অবরোধ না দিয়ে বরং বিকল্প কর্মসূচি দেয়ার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ।
সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে গতকাল রবিবার রাতে দেয়া এক যৌথ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ইতিমধ্যেই ঘন ঘন হরতাল আহ্বান করায় পোশাক শিল্পে অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়েছে। এরপরও এখন যেভাবে ঘন ঘন হরতাল আহ্বান করা হচ্ছে, তা অব্যাহত থাকলে বেসরকারি খাতে সর্ববৃহত্ কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী পোশাক শিল্পের ধারাবাহিকতা ও ভাবমূর্তি কোনভাবেই ধরে রাখা সম্ভব হবে না।
বিজ্ঞপ্তিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, পোশাক শিল্পের বড় ক্রেতারা প্রতিবছর অর্ডার নেগোসিয়েশন ও অর্ডার দেয়ার জন্য তাদের প্রতিনিধি এদেশে পাঠালেও এবারের গ্রীষ্ম মওসুমকে সামনে রেখে অর্ডার দেয়ার জন্য এ মুহূর্তে তারা প্রতিনিধি পাঠাতে গভীরভাবে অনাগ্রহ প্রকাশ করছেন। বরং ‘নিরাপত্তাজনিত’ কারণ দেখিয়ে অর্ডার নেয়ার জন্য বাংলাদেশি পোশাক সরবরাহকারীদেরকে তাদের হেডকোয়ার্টারে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। সর্বশেষ দু’দিনের টানা হরতাল চলাকালে রাশিয়া থেকে পোশাক শিল্পের কয়েকজন ক্রেতা ঢাকা এসেও শুধু হরতালের কারণে বিমান বন্দর থেকেই স্বদেশে ফিরে যান। অন্যদিকে ঘন ঘন হরতালের কারণে সমপ্রতি এ শিল্পের অনেক উদ্যোক্তাই সমুদ্রপথে পণ্যের জাহাজীকরণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এদের মধ্যে কেউ কেউ লিড টাইম মোকাবেলার জন্য অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে আকাশপথে পণ্য রপ্তানি করছেন। আবার কিছু উদ্যোক্তা ইতিমধ্যেই স্টকলট পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন। আবার অনেক উদ্যোক্তাই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জাহাজীকরণ করতে না পারার কারণে বিমানে পাঠানো, ডিসকাউন্ট, পেমেন্ট না পাওয়াসহ নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখী হচ্ছেন। এতে করে উদ্যোক্তারা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
বিজিএমইএসূত্র অনুযায়ী, সামপ্রতিককালে ঘন ঘন হরতাল হওয়ায় এ যাবত্ প্রায় ১৫টি কারখানার ২ দশমিক ২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের রফতানি অর্ডার বাতিল হয়েছে। হরতালের কারণে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জাহাজীকরণ করতে না পারায় ক্রেতারা রপ্তানিকারকদের কাছে প্রায় শূন্য দশমিক ৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ডিসকাউন্ট দাবি করেছেন এবং এয়ার ফ্রেইট করতে হয়েছে এক দশমিক ৭১ মিলিয়ন ডলার মূল্যের পোশাকের। হরতালের কারণে প্রায় ৭ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলারের পোশাক সমুদ্রপথে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জাহাজীকরণ করা যাবে কিনা, সে ব্যাপারে ইতিমধ্যেই ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে হরতালের কারণে অতিরিক্ত এয়ার শিপমেন্ট এর জন্য প্রায় ২৫০ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে।
